সব কিছু
লক্ষ্মীপুর রবিবার , ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১১ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

নিষেধাজ্ঞা শেষের পরপরই ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ, অভিযানের সময় নিয়ে প্রশ্ন !

নিষেধাজ্ঞা শেষের পরপরই ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ, অভিযানের সময় নিয়ে প্রশ্ন !

সানা উল্লাহ সানু : মা ইলিশ শিকারে ১৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষের প্রথম দিন শনিবার (১০ অক্টোবর) থেকেই জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ডিমওলা ইলিশ। ছোট থেকে বড় প্রায় সব সাইজের ইলিশই ডিমে টবটবে। ডিমওলা এমন ইলিশ দেখে হতবাক জেলেরাও। সরেজমিনে কমলনগরের মেঘনাপাড়ের মতিরহাট মাছ ঘাটে গিয়ে এমন দৃশ্যই দেখা চোখে পড়ল। এ দিন জেলেদের জালে ধরা পড়া শতকরা ৯০ ভাগ ইলিশের পেটেই ডিম ছিল বলে জানান, জেলে এবং ক্রেতারা। ধরা ও পড়ছে প্রচুর।

তোরাবগঞ্জ বাজারের ক্রেতা নুরুল হুদা মার্টিনী জানান, শনিবার তিনি ২৮টি মাঝারি সাইজের ইলিশ কিনেছেন যাদের ২৬টির পেটে ডিম পাওয়া যায়।

ডিম ছাড়ার জন্য ১৫ দিন অপেক্ষা করার পর ডিমওলা প্রচুর ইলিশ দেখে ডিম ছাড়ার সময় নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জেলেসহ স্থানীয়রা। এভাবে ডিমওলা ইলিশ মারা পড়লে এ বছর ইলিশ উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চতা তৈরি হবে।

মতিরহাটের জেলে বাসার মাঝি ও সিরাজ জানান, এ বছর নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশে কোন ডিমই ছিল না।

ওই দু জেলে বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানি “অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে সাগরের ইলিশ দলবদ্ধভাবে আশ্বিন ও কার্তিক মাসে মিষ্টি জলের স্পর্শে ডিম ছাড়তে আসে। এ সময়ে দেশে দু-তিনটি জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় হয়ে থাকে; যা কিনা ইলিশের প্রজনন ক্রিয়ায় সহায়তা করে।” তবে এ বছর বৃষ্টি হয়েছে ৮-৯ অক্টোবর। শুনেছি এখন ও সাগরে চাপ আছে। তাদের মতে এ বছর ইলিশ ডিম ছাড়বে ৯ অক্টোবরের পরে।

কমলনগর থানা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই ফরিদ উদ্দিন খানঁ বলেন, অভিযানের সময় জেলেদের থেকে আটককৃত ইলিশে ও কোন ডিম ছিল বলে তাকে বেশ কয়েক জন জেলে জানিয়েছে।

মৎস্য বিভাগের মতে, দেশের নদ-নদীতে মা ইলিশ সারা বছর জুড়েই কমবেশী প্রজনন করলেও আশ্বিনের বড় পূর্ণিমার আগেÑপরে ৬০-৭০ ভাগ ইলিশ ডিম ছেড়ে থাকে। এ জন্য পূর্ণিমার আগের ও পরের ১৫ দিনকে ইলিশের প্রজনন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। স্বাচ্ছন্দ্যগত ও অবস্থাগত কারণে মেঘনা নদীর মিষ্টি ও লবণ জলের মিশ্রিত জায়গায় ইলিশ ডিম দিয়ে থাকে।

বিজ্ঞানীদের সুপারিশের আলোকে এ গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯অক্টোবর পর্যন্ত দেশের উপকূলীয় ভাটি মেঘনার ভোলা ও লক্ষ্মীপুর জেলার মধ্যবর্তি ঢালচর, মনপুরা, মৌলভীর চর ও কালির চর এলাকার ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্রজনন ক্ষেত্রে হিসেবে সব ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যার মধ্যে লক্ষ্মীপুরের চরআলেকজান্ডার থেকে চাদঁপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকা ছিল।

মৎস্য বিভাগের মতে, দেশের নদ-নদীতে মা ইলিশ সারা বছর জুড়েই কমবেশী প্রজনন করলেও আশ্বিনের বড় পূর্ণিমার আগেÑপড়েই ৬০-৭০ ভাগ ইলিশ ডিম ছেড়ে থাকে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে ইলিশের অবদান প্রায় ১২-১৩%। গোটা বিশ্বে আহরিত ইলিশের ৫০-৬০% উৎপাদন হচ্ছে বাংলাদেশে। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন ইলিশ উৎপাদনে লক্ষ্মীপুর দ্বিতীয়।

ইলিশ আরও সংবাদ

কোন ইলিশ কিনবেন ? নদীর ইলিশ না সাগরের ইলিশ ?

ইলিশে প্রতারণা: লক্ষ্মীপুরে নদীর ঘাটে সাগরের ইলিশ

লক্ষ্মীপুর জেলায় ইলিশ মাছের সবচেয়ে বড় বাজার কোনটি ?

রামগতিতে ৮ লাখ টাকা মূল্যের ইলিশের জালে আগুন

লক্ষ্মীপুরে গোপন আড়তে ইলিশ বেচাকেনা

এবার ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে মৎস্যবিজ্ঞানী-জেলেরা

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৯
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]