সব কিছু
facebook lakshmipur24.com
লক্ষ্মীপুর শনিবার , ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি
মরতে বসেছে ভুলুয়া নদী - Lakshmipur24.com

মরতে বসেছে ভুলুয়া নদী

0
Share

মরতে বসেছে ভুলুয়া নদী

সাইদুল ইসলাম পাবেল: লক্ষ্মীপুরের একসময়ের প্রমত্তা ভুলুয়া নদী এখন প্রায় মৃত নদীতে পরিণত হয়েছে। দখল, দূষণ, ভরাট ও পলি জমে জমে নদীটি এখন ইতিহাস ও ঐতিহ্য হারাচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা, কৃষ্টি-সভ্যতা, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির মূল ভিত্তি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তা নদীটির দখল-দূষণের কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জানা যায়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার একটি নদী হচ্ছে ভুলুয়া নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৭১ কিলোমিটার ও প্রস্থ ৮৫ মিটার। নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলা হয়ে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে এ নদী। একসময় এ নদীতে উত্তাল ঢেউয়ে প্রবহমান ছিল পানি। আশপাশের লাখো মানুষ কৃষি উৎপাদনসহ নানা প্রয়োজনে ব্যবহার করতেন নদীর পানি। বড় বড় সাম্পান, জাহাজ চলাচল করত এ নদীতে। বহু জাতের প্রাকৃতিক মাছের সমাহার ছিল নদীটিতে। জাল ফেলে মাছ ধরে আমিষের চাহিদা মেটানোসহ জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন স্থানীয়রা।

কিন্তু বর্তমানে নদীটির বিভিন্ন স্থান কিছু অসাধু প্রভাবশালী দখল করে মাঝখানে বাঁধ দিয়ে বর্ষা মৌসুমে মাছ চাষ করে আসছেন। কেউ কেউ নদীর তীর ঘেঁষে ঘরবাড়ি তুলে দখল করে রেখেছেন। ময়লা-আবর্জনা ফেলে দূষণ করছেন নদীর পানি। এতে করে নদীটি ভরাট ও পলি জমে জমে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে শুকিয়ে গেছে।

এখন প্রায় মৃত হয়ে পড়েছে ভুলুয়া। কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরকাদিরা গ্রামে ও রামগতির ছেউয়াখালি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ভুলুয়ার এমন চিত্র। এ এলাকায় নদীর ওপরে নির্মাণ করা সেতু দেখে মনে হচ্ছে, যেন খোলা মাঠের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে সেতুটি। মাছধরার নৌকা দেখে মনে হচ্ছে, কোনো এক চরে যেন আটকা পড়ে আছে নৌকাগুলো। এলাকাবাসী বলছেন, আগে নদীর পানি দিয়ে ইরি-বোরো ধান চাষ হতো এসব এলাকায়।

অনেকে কৃষিসহ নানা কাজে ব্যবহার করতেন নদীর পানি। এখন পানি না থাকায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। আগে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত এ নদীতে। এখন আর সেসব মাছ পাওয়া যায় না বলে জানান তারা। এতে করে নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য চরম হুমকিতে পড়েছে বলে মনে করছে সচেতন মহল।

এদিকে স্থানীয় ইটভাটা মালিকরা তাদের পরিবহনের স্বার্থে চরকাদিরা এলাকায় নদীর ওপর একাধিক কাঁচা সড়ক নির্মাণ করে অবরুদ্ধ রেখেছেন নদীটি।

স্থানীয় সমাজ চিন্তাবিদ ও ইতিহাস লেখক সানা উল্লাহ সানু জানান, ১৯১২ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত উন্মত্তা নদী ছিল ভুলুয়া। এর পর থেকে দখল, দূষণ আর পলি জমে নদীটি তার স্বরূপ হারিয়েছে। নদীটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এটি খনন করে এর স্বরূপ ফিরিয়ে দিলে এ অঞ্চলের ৩০ হাজার কৃষকসহ লাখো মানুষ এর সুফল ভোগ করবেন।

এদিকে নদীটির দখল-দূষণের কথা স্বীকার করে লক্ষ্মীপুর পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নদী দখলমুক্ত ও খনন করতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা। সংবাদটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সৌজন্যে প্রকাশিত।

প্রতিবেদন আরও সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ৫শ টন হাতে ভাজা গিগজ মুড়ি; যাচ্ছে বিদেশেও

রায়পুরের ৯ মাছঘাটে কমিশন নামের চাঁদা আদায়

রামগতির চর আবদুল্যায় আশ্রয়কেন্দ্র নেই!

লক্ষ্মীপুরে ওয়াপদা’র জায়গা বেদখলের উদ্দেশ্যে ২৬ বছর পর ইজাড়া গ্রহিতা উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা

মৃতদের কবর দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় লক্ষ্মীপুরের নদী ভাঙ্গা হাজারো মানুষ

চলে গেছে জলোচ্ছ্বাস, রেখে গেছে ক্ষতচিহ্ন

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে অনলাইন নিউজপোর্টাল প্রকাশনার নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত, তারিখ: 9/12/2015  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012-2021
Chief Mentor: Rafiqul Islam Montu, Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu.
Sopna Monjil (Ground Floor), Goni Headmaster Road, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794 822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com