রামগতির আবহাওয়া কেন্দ্রটি ৬ বছরেও উপকূলবাসীর উপকারে আসেনি

news_imgরামগতি: নির্মাণের ছয় বছর পরও রামগতিতে অবস্থিত নৌ-আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রটি উপকূলবাসীর কোন উপকারে আসেনি। ফলে চরাঞ্চলের লাখো অধিবাসীসহ মেঘনা নদীতে মাছ শিকারি প্রায় ৫০ হাজার জেলে ভরসা এখনো আকাশ। প‍ূর্বাভাস না জানতে পারায় দুর্যোগে যথাসময়ে আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছ‍াতেও পারে না মেঘনা পাড়ের এ মানুষ গুলো। স্থানীয় সূত্র জানায়, মেঘনা নদী উপকূলীয় লক্ষ্মীপুর জেলায় ১৮ লাখ মানুষের বসবাস। স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তরের হিসেবে মাছ শিকারি জেলেদের সংখ্যা ৩৮ হাজার ১শ ৮৪জন। বাস্তবে লক্ষ্মীপুর সদর, রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার জেলে নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে।

অন্যদিকে এ জেলার বেশির ভাগ মানুষ কৃষক। কৃষি নির্ভর এ অঞ্চলের মানুষ প্রাকৃতিক দুযোর্গে দীর্ঘদিন থেকে ব্যপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে জেলার রামগতি উপজেলার চর সেকান্দারে দেড় একর জমির ওপর এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় নৌ- আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রে। কিন্তু নির্মাণের পর থেকে এটি এখনও পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এ বছর বৈশাখের ঝড়ের মুখে পড়েছে মেঘনা নদীর জেলেরা। ডুবে গেছে জেলেদের মাছ ধরার নৌকা। তবে উপকূলের কাছাকাছি থাকায় সাঁতরে জেলেরা কূলে আসতে সক্ষম হয়েছে। আবহাওয়া কেন্দ্রটি চালু থাকলে হয়তো এমনি হতো না বলে দাবি করেন স্থানীয় জেলেরা। কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এএনএম আশরাফ জানান, স্থানীয়ভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পুর্বাভাস না থাকায় জেলেরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা অরুণেন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী জানান, লক্ষ্মীপুরের নৌ পূর্বাভাস আবহাওয়া কেন্দ্রের যন্ত্রাংশগুলো ঢাকা অফিসে পড়ে আছে। জনবলের অভাবে চালু করা যাচ্ছেনা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।