সব কিছু
facebook lakshmipur24.com
লক্ষ্মীপুর শনিবার , ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি
প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়ক চলনযন্ত্র আমদানীতে অযাচিত ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার কেন নয় ?

প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়ক চলনযন্ত্র আমদানীতে অযাচিত ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার কেন নয় ?

প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়ক চলনযন্ত্র আমদানীতে অযাচিত ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার কেন নয় ?

মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন: মূল আলোচনা যাওয়ার আগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সহায়তার জন্য আইনে কি সুবিধা আছে তা বলা যৌক্তিক মনে করছি প্রতিবন্ধী বিষয়ক জাতীয় নীতিমালা-১৯৯৫ এর পটভ‚মিকায় বলা হয়েছে এ নীতিমালা মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিবন্ধীব্যক্তিদের – সামাজিক অধিকার ও সুযোগসুবিধাসমূহ: শারীরিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ, আবাসন এবং যানবাহন, সমাজ ও স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা কর্মসংস্থান, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবন, খেলাধুলা এবং বিনোদনমূলক সকলের জন্য সহজলভ্য করা।

এছাড়া এ নীতিমালায় প্রতিবন্ধীর সংজ্ঞা, প্রতিবন্ধিতার কারণ, মাত্রা এবং প্রতিবন্ধী বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের যে স্বীকৃতি ও অনুসমর্থন দিয়েছে- বিশেষ করে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রতিবন্ধী সনদ (United Nations Convention on the Rights of the Persons with Disabilities) এবং বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সুযোগসুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) নং অনুচ্ছেদ এ বলা হয়েছে Ôসামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে, অভাবগ্রস্ততার কারণে সরকারী সাহায্য লাভের অধিকার ভোগ করবে’।

এছাড়া প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য সরকার প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইন-২০১৩ প্রণয়ন করেছে। উক্ত আইনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার অনুচ্ছেদ এর (ঢ)তে শারীরিক, মানসিক ও কারিগরি সক্ষমতা অর্জন করিয়া সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে একীভ‚ত হইবার লক্ষ্যে সহায়কসেবা ও পুনর্বাসন সুবিধা প্রাপ্তির অধিকার অর্জন করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইন-২০১৩ এর তফসিল-ধারা ২(৭) দ্রষ্টব্য এর কলাম-৭ এ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য চলন (Mobility): যে সুরক্ষা রাখা হয়েছে, (ক) সময় সমত ও সুলভ মূল্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী না হইলে,তাহার ইচ্ছা অনুযায়ী,ব্যক্তিগত চলাচলে সহায়তার নিমিত্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং তদলক্ষ্যে মানসম্মত চলন সহায়ক যন্ত্র, উপকরণ,সহাযক প্রযুক্তি এবং চলন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানব সহযোগিতার লভ্যতা নিশ্চিতকল্পে পদক্ষেপ গ্রহণ করা; (খ) চলন সহায়ক যন্ত্র,উপকরণ,সহায়ক প্রযুক্তি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির চলনের সম্ভাব্য সকল দিক বিবেচনা করিতে উৎসাহিত করা এবং তদলক্ষ্যে গবেষণাকর্ম, পরিচালনাসহ সহায়ক উপকরণাদি আমদানির ওপর প্রযোজ্য শুল্ককর রেয়াতের ব্যবস্থা করা; আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্মেও প্রতিবন্ধীব্যক্তিদের বিশেষ মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে এবং যে যেমন সক্ষম তেমনি এবাদত করার নির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ বিধানে প্রতিবন্ধীদের জন্য এবাদতের ক্ষেত্রে অধিকতর সহজ এবং সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে যে সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ একেবারেই ইসলামের বিধান মানতে অপারগ যেমন পাগল ও বৃদ্ধিপ্রতিবন্ধী/জ্ঞানহীন তাদের জন্য ইসলামের বিধান পালন করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে সুরা বাকারায় আয়াত নং ২৮৬ তে আল্লাহপাক বলেছেন-আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন bv| মহানবী (স:) বলেন যখন আমি তোমাদের কোনো আদেশ করি, তখন তা বাস্তবায়ন করো, যতখানি সাধ্য রাখো-(বুখারী ও মুসলিম শরীফ)|

বর্তমানে সরকারী নানাবিধ উদ্যোগ, আইনী সুরক্ষা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রতিবন্ধীদের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ বাংলাদেশে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় অধিকতর প্রশংসনীয়| সকল প্রতিবন্ধীদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকারের নানাবিধ উদ্যোগগুলি কার্যকরভাবে প্রতিপালনের জন্য প্রতিটি সেক্টরকে মনোযোগ দেয়া অতীব জরুরী| কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে দেখা যায় আইনের বিভিন্ন অজুহাতে মহৎ এ উদ্যোগগুলি কতিপয় ছোট ছোট ত্রæটির কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। প্রতিবন্ধী মানুষকে প্রকৃত সেবা দূরের কথা রীতিমত হয়রানির স্বীকার হতে হয়।

সম্প্রতি বগুড়া জেলার একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ভ্যাট, অগ্রিম কর ও অগ্রিম আয়কর মওকুফের আবেদন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জবাব পর্যালোচনা করলে এ হয়রানি কতখানি তা অনুমান করা কিছুটা সম্ভব হবে। বগুড়া জেলার স্বাভাবিক চলাচলে অক্ষম একজন প্রতিবন্ধীর জন্য তার পরিচিত একজন বিদেশ থেকে একটি ইলেক্ট্রনিক্ মটরাইজড হুইল চেয়ার” ডিএইচএল কুরিয়ার এ পাঠাতে চাচ্ছেন। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল্য সংযোজন ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এর আদলে তৈরিকৃত ট্যারিফ শিউিউল (২০২০-২০২১)। যাতে উল্লেখ আছে H.S code-8713.9000-Invalid Carriages, Motorized Or Otherwise Mechanically Propelled এখানে CD=Customs Duty 0%, SD=Supplementary Duty 0%, AT=Advance Tax 5% AIT=Advance Income Tax 5%|

মূল্য সংযোজন ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এর ৩১ ধারায় বলা হয়েছে

আমদানীকারক কর্তৃক প্রদত্ত অগ্রিম কর ৫% এবং অগ্রিম আয়কর ৫% (আমদানীকারক যদি অনিবন্ধনকারী ব্যক্তি হয়ে থাকেন এবং আমদানীকৃত দ্রব্যের শেষ ভোক্তা হয়ে থাকেন) নিকটতম কমিশনার কার্যালয়ে আবেদন করে আগাম করসমূহ ফেরত পাবেন।

কিন্তু ১৫% ভ্যাট পরিশোধ করতেই হবে। এতে কোনো ছাড় পাবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ব্যবহারের জন্য তৃতীয় পক্ষের একজন লোক কোনোরূপ বিনিময় ছাড়া একটা অনুদান দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়াল, সেখানে ১৫%+৫%+৫%=২৫% ভ্যাট ও আয়কর সে কোথায় থেকে দিবে? অগ্রিম কর জমা দিয়ে আবার ফেরত নেয়ার প্রয়োজনও বা কি? আইনে আছে, তাই ছাড় দেয়া যাবে না। কিন্তু আইনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে বিশেষ প্রয়োজন ক্ষেত্রেভেদে বা প্রয়োজন মনে করলে ছাড় দেয়ার ক্ষমতা অর্পন করেছে [মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ ধারা-১২৬-উপধারা-১।

আইনের ব্যাখ্যা করলে দেখা যায় যে, ভ্যাট প্রযোজ্য হবে যখন ভোক্তা নিজে আমদানী করবেন, তখন একজন অনুদান দিলে, যাকে অনুদান দিলেন তিনি আমদানিকারকের সংজ্ঞায় পড়েন কি না, সেটা বিবেচনার বিষয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারীকৃত অতিরিক্ত গেজেট ২৮ জুন ২০১২ এর আমদানীকারকেরে যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য প্রেরিত অনুদান গ্রহণকারী হিসেবে তিনি আমদানীকারই নয়। যদি আমদানিকারকই না হয়ে থাকেন তাহলে তিনি ভ্যাট পরিশোধ করবেন কি ভাবে?

উল্লেখিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভ্যাট ও অগ্রিম করসমূহ অব্যাহিত চেয়ে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে ধরণা দিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য সাড়া না পেয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে প্রতিকারের জন্য আবেদন করেন। মানবাধিকার কমিশন থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সূত্র মতে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও উল্লেখিত মূসক এবং অগ্রিম করসমূহ মওকুফের সুপারিশ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ করার পরও বিগত ২৫ এপ্রিল ২০২১ তারিখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর স্মারক নং ০৮.০১.০০০০.৫৪.০২.০৫১.১৭(অংশ-৩) ১৫৬ এর মাধ্যমে উক্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে উপরে উল্লেখিত ট্যারিফ শিডিউল সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া হয় এবং পত্রের ২ নং কলামে বলা হয় এমতাবস্থায়, উপরোল্লিখিত বিষয়সমূহ বিবেচনায় আলোচ্য ক্ষেত্রে অব্যাহিতর কোনো প্রয়োজন নেই মর্মে বর্ণিত বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অপারগতা জ্ঞাপন করা হলো। এখানে আইনে সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সুরক্ষা দেয়ার সুযোগ থাকলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তা এড়িয়ে গিয়ে রাজস্ব আহরণের অজুহাত দিয়ে একজন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে বিগত ৬ মাস হয়রানী করানো কোনো অবস্থায় কাম্য হতে পারে না

জাতীয় রাজস্ব আদায়ের বহু গুরুত্বপূর্ণ খাত রয়েছে, যে খাতগুলি থেকে অনাসয়ে রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব। বাস্তবে দেখা যায় বিভিন্ন সময়ে সরকারী কর্মকর্তাগণ/ভিআইপি/রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ বিদেশ ভ্রমণে গেলে নানাবিধ ব্যবহার উপযোগী দ্রব্যাদি নিয়ে আসেন, সেখানে পারত পক্ষে কোনো শুল্ক আদায়ের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। অথচ একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য একটা হুইল চেয়ার পাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অপরাগত দেখানো আমাদের জন্য কতটকু স্বস্তিকর তা বিবেচনার বিষয়!

এটা একটা উদাহরণ। জানা-অজানা বহু ঘটনা আমাদের সমাজে বিরাজমান। প্রতিটি প্রতিবন্ধীর ব্যক্তির জন্য আমদানীকৃত সকল প্রকার ব্যবহৃত পণ্যের উপর সকল ধরণের শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা যৌক্তিক। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতি মানবিক হয়ে এ কাজে সকলে ইতি বাচকভাবে এগিয়ে আসা উচিত এবং সরকারের গৃহিত কার্যক্রমকে সম্মান জানানো উচিত। এতে মূলত সম্মান জানানো হবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গৃহিত পদক্ষেপগুলিকে। তাই আগামী বাজেট এ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়ক চলমনযন্ত্র আমদানীতে অযাচিত ভ্যাট, অগ্রিম কর, অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করার যৌক্তিক দাবী জানাচ্ছি। আইনের বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি থেকে মুক্ত হোক প্রতিবন্ধী প্রতিটি মানুষ। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে সেও মানবিক মর্যাদায় গড়ে উঠুক সমাজে। এ প্রত্যাশা সকলের কাছে।

লেখক: মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন, আয়কর আইনজীবী, ঢাকা। 

 

মতামত | সাক্ষাৎকার আরও সংবাদ

নিবন্ধনের জন্য প্রথমদিকে আবেদিত নিউজ পোর্টালগুলোর নিবন্ধন পেতে আর কত বছর?

স্বামীকে গলাকেটে হত্যা | ঘটনার এপিঠ-ওপিঠ

ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে বাংলাদেশেও জেন্ড সার্টিফাইড ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা বাড়ছে

প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়ক চলনযন্ত্র আমদানীতে অযাচিত ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার কেন নয় ?

আরো একটি আইন কিংবা আদেশ প্রয়োজন

ওয়েব মুভি | তোর সুখে আমার সুখ,একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে অনলাইন নিউজপোর্টাল প্রকাশনার নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত, তারিখ: 9/12/2015  
 All Rights Reserved : Lakshmipur24 ©2012-2021
Chief Mentor: Rafiqul Islam Montu, Editor & Publisher: Sana Ullah Sanu.
Sopna Monjil (Ground Floor), Goni Headmaster Road, Lakshmipur, Bangladesh.
Ph:+8801794 822222, WhatsApp , email: news@lakshmipur24.com