সব কিছু
লক্ষ্মীপুর বুধবার , ১৯শে জুন, ২০১৯ ইং , ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে প্রার্থীদের কাছে ভোটারদের আরো কিছু প্রত্যাশা

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে প্রার্থীদের কাছে ভোটারদের আরো কিছু প্রত্যাশা

সারোয়ার মিরন: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে দেশের প্রধান দুটি জোটের প্রতিদন্ধিতাকারী প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নিয়ন্ত্রিত মহাজোট থেকে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব) আবদুল মন্নান নৌকা প্রতিকে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিয়ন্ত্রিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর বর ধানেরশীষ প্রতিকে প্রতিদন্ধিতা করবেন।
রামগতি-কমলনগরের বিভিন্ন শ্রেনি পেশার সচেতন ভোটারগন যে সকল বিষয় মাথায় রেখে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ধারাবাহিক লেখার তৃতীয় পর্বে আজকের এ লেখায় এমন কতগুলো জন গুরুত্বপূর্ন বিষয় নিয়ে লেখার প্রয়াস করছি।

প্রথম পর্ব: লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ভোটারদের ভাবনা থামবে যেসবে

দ্বিতীয় পর্বযে চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কেন্দ্রে যাবে ভোটাররা

আশ্রয়ন প্রকল্প গুলোর পরিষেবা:
প্রায় দুই দশক পূর্বে রামগতি উপজেলার মেঘনা নদী বেষ্টিত চর গজারিয়া (চর আবদুল্যাহ ইউনিয়ন) এবং চর পোড়াগাছায় ভুলুয়া নদীর পাড় ঘেঁষে সরকারী উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় দুটি আশ্রয়ন প্রকল্প। সব মিলিয়ে এখানে ঠাঁই মেলে প্রায় তিন শতাধিক ভুমিহীন পরিবারের। আশ্রয়ন প্রকল্প গুলোর আশপাশ মিলে পায় পাঁচ সহ¯্রাধিক পারিবারের মধ্যে রয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। এছাড়াও নানামূখী সমস্যায় জর্জরিত এসব পরিবার গুলো। দীর্ঘদিন ধরে সংষ্কার বা পুন:খনন না করায় গ্রীষ্ম কালে পানি থাকেনা বললেই চলে। প্রকল্পের টিনশেড ঘর গুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বহু আগেই। নদী নির্ভর বিভিন্ন পেশায় জড়িত অনেকেই নৌ দস্যূদের আক্রমনের শিকার হয়ে নি:স্ব হয়েছে। অনেকেই হারিয়েছেন উপার্জনক্ষন ব্যক্তিটিকেও। নেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা গ্রহনের পর্যাপ্ত সু ব্যবস্থাও। ইতিমধ্যে প্রকল্পের চারটি আবাসন মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে।
জানা যায়, ২০১৪ সালে নতুন করে চর আবদুল্যাহতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন ফেইস-২ প্রকল্পের আওতায় প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে ভূমিহীনদের জন্য মোট ১৬০টি ঘর তৈরি করা হয়। এছাড়াও একই বছর এ দ্বীপ চরে টিপু সুলতান উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সঠিক তদারকির অভাবে দৈন্যদশায় এ দুটি প্রকল্পেও।

কমলনগরে পৌরসভা
২০০০ সালে বৃহত্তর রামগতি উপজেলায় একটি পৌরসভা গঠিত হয়। এরপর সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান প্রথম বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রামগতির উত্তরাঞ্চলকে কমলনগর নামকরন করে আলাদা প্রশাসনিক উপজেলা গঠন করেন। কমলনগর উপজেলায় বর্তমানে তিন স্থানের জীবনযাত্রার মান ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা শহর হাজীরহাট, লরেঞ্চ এবং তোরাবগঞ্জ তিনটি স্থানই পৌরসভা গঠনের দাবি রাখে। তবে উপজেলা সদর হিসেবে সরকারি বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম হাজীরহাট কেন্দ্রিক সম্পাদন হওয়ায় হাজীরহাটই পৌরসভা হওয়ার দাবি রাখে। বর্তমানে এ অঞ্চল কেন্দ্রিক কমলনগর থানা, হাজীরহাট উপকুল সরকারি কলেজ, হাজীরহাট সরকারি মিল্লাত একাডেমিসহ অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা রয়েছে। বাড়ছে অকৃষি নির্ভর পেশাজীবীর জনসংখ্যাও। বিগত অর্ধযুগ সময় ধরে হাজীরহাট তথা কমলনগরে একটি পৌরসভা গঠনের দাবি সচেতন মহলের।

অসহায় জেলে পরিবারের পুনর্বাসন:
পেশা হিসেবে মৎস্যজীবি এ অঞ্চলের অন্যতম দ্বিতীয় পেশা। উত্তাল মেঘনায় মাছ ধরার জন্য ট্রলার চেপে রওয়ানা হলেও অনেকেই আর ফিরতে পারেন না। নৌ-ডাকাতের কবলে পড়ে জীবন প্রদীপ নিভে যায় বহু হতভাগ্য জেলের। অসহায় জেলে বধু কিংবা স্বজনরা তাদের স্বামী সন্তানদের ফেরার অপেক্ষায় থাকে দিনকে দিন। বছরের পর বছর। প্রতি বছরই একাধিক বার বিভিন্ন মেয়াদে মেঘনায় মাছ শিকার বন্ধ থাকে। যার ফলে খাদ্য এবং আর্থিক সংকটে দিন কাটে জেলে পরিবার গুলোর। নদীতে অভিযান চলাকালীন জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত জেলে কার্ড কিংবা অন্য সকল দান অনুদানে বিভিন্ন পর্যায়ে কাটছাট হতে থাকায় পুর্নাঙ্গ বরাদ্দ জেলেদের হাতে পৌছায় না। স্থানীয় প্রভাবশালীদের নানান ছলচাতুরীর কারনে প্রকৃত জেলেরা বিভিন্ন ধরনের সরকারি বরাদ্ধ এবং দান অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়। দিন কয়েক আগে রামগতি উপজেলার একটি ইউনিয়নে অবৈধ ভাবে বিক্রি হওয়া জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত বাইশ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রসাশন। মেঘনায় স্বজন হারা জেলে পরিবারের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন ব্যবস্থা চালু করা অতি প্রয়োজন। কাজহীন থাকা সময় গুলোতে জেলেদের মধ্যে কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্প গ্রহন করা যেতে পারে। এতে করে জেলেরা নিষিদ্ধ সময়ে ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে বের হবেন না। এছাড়াও অবসর সময়ে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করতে পারবে।

কৃষক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ
রামগতি কমলনগরের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই একটি করে বীজাগার স্থাপন করা হয়। এসব বীজাগারে কৃষকদের বীজ, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগীতা এবং পরামর্শ পাওয়া যেত। এর পর বেসরকারি ভাবে ডিলারের মাধ্যমে সার, বীজ ও নানান কীট নাশক খোলাবাজারে বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হলে এক পর্যায়ে এসকল বীজাগার বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ডিলারদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর। ডিলারদের নানান কটু কৌশলে উচ্চ মূল্যসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি হতে হয় প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের। বিগত এক দশক সময় ধরে রামগতি-কমলনগর উপজেলা দুটিতে সয়াবিন চাষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়ছে। মূলত এ দুটি উপজেলায় সয়াবিন চাষের কারনেই লক্ষ্মীপুর জেলা সয়াবিন চাষে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। সয়াবিনের পাশাপাশি বছরে একাধিক বার বিভিন্ন প্রজাতির ধান চাষ করা হয়। বেশ কয়েকটি এলাকায় আউশ আমন চাষ বাদ দিয়ে ইরি চাষ করা শুরু হয়েছে। সয়াবিন কিংবা ধান যা-ই বলিনা কেন এর কোনটিই চাষে কৃষকদের কোন ধরনের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয় না। ফলন ভালো হওয়া ইরি চাষে উদ্বুদ্ধকরনসহ কৃষকদের মাঝে উন্নত মানের ধান ও সয়াবীজ এবং আধুনিক প্রযুক্তি কিংবা যন্ত্রপাতি সরবারহ করা গেলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন পাওয়া যেত। হাইব্রিড ইরি চাষে অন্যতম উপকরন পানি। এর জন্য খাল গুলোও দখল মুক্ত করা প্রয়োজন।

উপজেলা সাহিত্য সাংষ্কৃতিক অঙ্গনের কলোরব বৃদ্ধি
স্বাধীনতার পর থেকেই রামগতি উপজেলা সাংষ্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক ভাবে অবহেলিত। দীর্ঘ দিনের দাবি সত্বেও এখানে স্থাপন হয়নি একটি উপজেলা মিলনায়তন। নেই শিল্পকলা কিংবা কোন সাহিত্য সাংষ্কৃতিক সংগঠনের জোরালো উপস্থিতিও। সচেতন মহলের দাবিতে মাত্র দু বছর হলো রামগতি উপজেলা চত্ত্বরে স্থাপিত হয়েছে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার। এর আগে এ উপজেলায় কোন কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারই ছিলো না। বর্তমানে নেই স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য কোন কেন্দ্রিয় স্মৃতি স্মারকও। আসম আবদুর রব কলেজ মাঠে একটি স্থায়ী মঞ্চ থাকলেও সেটিরও অবসায়ন হতে চলেছে এক যুগের মতো।

রামগতি আবহাওয়া কেন্দ্রের বিষয়ে স্থায়ী প্রতিশ্রুতি:
রামগতি উপজেলার চর সেকান্দরে প্রায় দেড় একর জায়গা জুড়ে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে রামগতি আবহাওয়া অফিস। নির্মানের প্রায় এক দশক পর গত ২ বছর আগে কেন্দ্রটি অতি গোপনে কাগজে কলমে চালু হলেও এ প্রকল্পটি উপকুলবাসীর কোন কাজে আসেনি। উপকুলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী বিশাল জনগোষ্ঠীর আবহাওয়া জনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা উপকারার্থে উক্ত আবহাওয়া কেন্দ্রের বিষয়ে স্থায়ী প্রতিশ্রুতি দরকার।।

চলবে (আগামী পর্বে সমাপ্য)

লেখক: ফ্রিল্যান্স লেখক এবং উন্নয়নকর্মী

ভিন্নমত আরও সংবাদ

রমজান ও ঈদ কেন্দ্রিক অসুস্থ প্রতিযোগিতার যৌতুক অবসান হোক

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী, উপকূলবাসীর কথা শুনুন

রণ কৌশল না জানলে যুদ্ধে জয় করা যায়না

উপকূল মন্ত্রণালয় চাই

আনোয়ার খানের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী জার্মান আওয়ামীলীগের হাবিবুর রহমান

উপকূলীয় লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জনমানুষের প্রত্যাশা

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]