সব কিছু
লক্ষ্মীপুর বুধবার , ২৪শে জুলাই, ২০১৯ ইং , ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২০শে জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

দিবসের জন্য আন্দোলন; দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা

দিবসের জন্য আন্দোলন; দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশের ইতিহাসে অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বেশ কিছু আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু একটি দিবস পালনের জন্য আন্দোলন হয়েছে এমন ঘটনা দেশে বিরল।অথচ সে বিরল আন্দোলনটি হয়েছে এ মাসের ১২ তারিখ অর্থাৎ ১২নভেম্বর। ১৯৭০’র ওই দিনটিতেই উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যায় এক প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় “ভোলা সাইক্লোন”। ওই ঘূর্ণিঝড়েই প্রাণ হারায় উপকূলের ৫লাখের বেশি মানুষ। সাথে অগনিত পশুপাখি  মরে ভেসে যায় উপকূল থেকে উপকূলে। সমগ্র উপকূল পরিণত হয় বিরাণভূমিতে। এ বছরের ১৮ মে জাতিসংঘ ওই দিনে ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়টিকে পৃথিবীর ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

তাই শুধু দিনটিকে নয়, উপকূল সুরক্ষার তাগিদে ওই দিনটিকেই  “উপকূল দিবস” হিসেবে পালনের জন্য দাবি উঠেছে সমগ্র উপকূলে। এ বছর  “উপকূল বাংলাদেশ” নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডাকে ও স্থানীয় নানা সহযোগি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় একযোগে উপকূলের ১৫ জেলার ৩২ উপজেলার ৩৪টি স্থানে দিবসটি পালন করা হয়েছে। উপকূলের জন্য হোক একটি দিন, যে দিন কণ্ঠে বাজবে প্রান্তজনের কথা” এমনই সূরে দিবসটি প্রথমবারের মতো সফলভাবে পালিত হয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ গণমান্য ব্যক্তিবর্গ। বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৩৪টি স্থানেই দিবসটি উপলক্ষ্যে র্যালি, আলোচনা সভা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। নজর কাড়ে বিবিসি ও ভয়েস অব অ্যামেরিকার মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের। প্রথমবারের মতো উপকূলের জন্য এমন একটি দিনের জন্য আন্দোলনের খবর গুরুত্বসহকারে প্রচার করে এ সকল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ।

জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের স্থানীয় প্রতিটি গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচার হয়েছে “উপকূল দিবস” পালনের খবর।

প্রিয় পাঠক! ‘৭০-এর ভয়াল ঘূর্ণিঝড়টির সাথে দেশ স্বাধীনের বিষয়টি নিবিড়ভাবে জড়িত। বাংলাদেশের সাথে যখন পাকিস্তানের বিরোধ খুব মারাত্মক আকারে রূপ নেয়। একটু খেয়াল করলেই বুঝা যায়, তখনই অর্থাৎ ‘৭০-এর ১২ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে। বেসরকারিভাবে ১০লাখের মতো মানুষ নিহতের কথা বলা হলেও, বিশ্বের দরবারে ঘূর্ণিঝড়টিকে পাকিস্তান সরকার তুচ্ছ প্রমাণ করার জন্য ৫ লাখ বলে প্রচার করেছে। অন্যদিকে, এমন পরিস্থিতির মুখে ত্রাণ এসেছে অনেক পরে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুদ্ধের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে উপকূলের আম-জনতা।

দিনটিকে “উপকূল দিবস” হিসেবে পালন করা হলে- ‘৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণ করা হবে। একযোগে সবার কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হবে প্রান্তজনের কথা। ওই দিন একসঙ্গে আলোচনায় উঠে আসবে উপকূলের সমস্যা আর সম্ভাবনার গল্প।

বরগুনার সংবাদকর্মী খায়রুল বাশার আশিক। মাঠ পর্যায়ের সংগঠকের দায়িত্বে রয়েছেন উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটির। তিনি বলছিলেন, “উপকূলে আমরা প্রথমবারের মতো উপকূল দিবস পালন করেছি। দিবসটি বাস্তবায়নের দাবি সর্বস্তরের মানুষের কণ্ঠে প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি আরো বলছিলেন, “বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “উপকূল দিবস” নিয়ে যে জনমত সৃষ্টি হয়েছে। তা থেকে বুঝা যায় দিবসের জন্য আন্দোলন, সত্যিই ইতিহাস কাঁপানো। দিবসটির জনক বলা যেতে পারে বাংলাদেশের উপকূল সাংবাদিকতার পথিকৃত, উপকূল বন্ধু রফিকুল ইসলাম মন্টুকে।”

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মাইন উদ্দিন পাঠান। দিবসটি পালনে অংশ নিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের ভেন্যুতে। তিনি ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বহু দিবসের মাঝে উপকূল দিবসের দাবি। এটি কোন অযৌক্তিক দাবি নয়। রাষ্ট্রের একটি বৃহ জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে দিনটির গুরুত্ব অনেক। বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় দেশের উন্নয়নকে কতটা প্রভাবিত করেছে তা নতুন প্রজন্মকে জানাতে দিবসটি দরকার।

তাছাড়া স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে ও পরে দেশ যে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, তার পেছনেও কিন্তু ‘৭০-এর ঘূর্ণিঝড় যুক্ত।” রফিকুল ইসলাম মন্টু। একজন উপকূল সাংবাদিকতার পথিকৃত। কাজের বিস্তৃতি পরিধি সূত্রে ভূষিত হয়েছেন “উপকূল বন্ধু” উপাধিতে। তিনিই সর্বপ্রথম “১২ই নভেম্বর হোক উপকূল দিবস” শিরোনামে উপকূল দিবসের প্রস্তাব তুলে লেখালেখি শুরু করেন মূল ধারার গণমাধ্যমগুলোতে। তারই প্রেক্ষিতে এবার থেকে প্রথমবারের মতো উদ্যোগ নিয়ে “উপকূল বাংলাদেশ” ব্যানারে ৩৪টি স্থানে সফলভাবে পালন করেন “উপকূল দিবস”।

গড়ে তোলেন “উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটি”। তিনি ওই কমিটির আহবায়ক। কেন এই উপকূল দিবস? কেনইবা আবার ১২নভেম্বর? জানতে চাইলে তিনি বলছিলেন, ” উপকূলে ‘৭০-এর ঘূর্ণিঝড়, সিডর, আইলা, হারিকেন, নার্গিস, রোয়ানু, মোরাসহ বিভিন্ন দুর্যোগের আঘাতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু ঘূর্ণিঝড় এলেই প্রচার মাধ্যমের ক্যামরাটা উপকূলের দিকে ছুটে। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ে উপকূলে জীবন- যাপন কতটা যে অস্বাভাবিক তা গণমাধ্যমের দৃষ্টিতে আসেনা।

এজন্য বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণ, দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষদের সচেতন, উপকূলের সমস্যা আর সম্ভাবনাকে প্রকাশের আলোয় আনার জন্য আমি ১২ নভেম্বরকে উপকূল দিবস পালনের প্রস্তাব করি। এরপর যখন উপকূল থেকে ব্যাপক সাড়া পাই, তখনই আমি উপকূল দিবস পালনের উদ্যোগটা গ্রহণ করি। আর ১২নভেম্বর “উপকূল দিবস” প্রস্তাব করার কারণটি হচ্ছে ‘৭০-এর ১২নভেম্বর উপকূলের দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি বয়ে গেছে এর আগে এবং পরে এর চেয়ে বড় আর কোন ঘূর্ণিঝড় শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেও হয়নি।”

তিনি আরো বলছিলেন, “দিবসটি যখন পালন হবে, তখন সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে উপকূল ফোকাস হবে এবং উপকূল সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। আর দিবসটি শুধুমাত্র, উপকূলে বসাবসরত ৫কোটি মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে। ইতিমধ্যে দিবসের জন্য আমাদের যে আন্দোলন আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সাড়া ফেলেছে এবং সামাজিকভাবে যে জনমত তৈরি হয়েছে, তা ইতিহাসে ব্যতিক্রম।”

১২ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে প্রথম উপকূল দিবস পালনের খবর দেশ-বিদেশের যে সকল মিডিয়ায় এসেছে তার লিংক:

সাইক্লোন ভোলা আরও সংবাদ

১২ই নভেম্বর, আজকের এ দিনে প্রাণহারায় উপকূলের ৫ লক্ষাধিক মানুষ

ইতিহাসের ভয়াবহ প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে: জাতিসংঘ

বরগুনায় এক হাজার এক মোমবাতি জ্বালিয়ে ২য় উপকূল দিবস পালনের সূচনা

উপকূলের সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য চাই ‘’উপকূল দিবস’’

১২ নভেম্বর উপকূলের ১৬ জেলায় পালিত হবে ‘উপকূল দিবস’

দিবসের জন্য আন্দোলন; দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]