সব কিছু
লক্ষ্মীপুর শুক্রবার , ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

ক্যাসিনো সংস্কৃতিতে বাংলাদেশের পর্যালোচনা

ক্যাসিনো সংস্কৃতিতে বাংলাদেশের পর্যালোচনা

নাসরিন সুলতানা: Casino মানেই জুয়ার আখড়া। প্রতিটি ক্যাসিনোই জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তবে এর পাশাপাশি বড় ধরনের বিভিন্ন ব্যবসা চলে। ক্যাসিনোগুলো খুবই আকর্ষনীয় করে তৈরি করা হয়, যেন পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়া যায়। ইউরোপের প্রায় দেশেই ক্যাসিনো ব্যবসা জমজমাট। চীনের মূল ভূ-খন্ড ও মুসলিম কিছু দেশ ব্যতিত বিশ্বের প্রায় সব দেশেই রয়েছে ক্যাসিনো। পশ্চিমা দেশগুলো এটিকে শিল্প হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সেসব দেশের ক্যাসিনোগুলোতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন করে। অনেক দেশে সরকারিভাবে অনুমোদিত ক্যাসিনো রয়েছে। বর্তমানে এই ক্যাসিনোর প্রভাব বাংলাদেশে পরিলক্ষিত হয়। পশ্চিমা দেশগুলোর Casino’ আর বাংলাদেশের Casino’ এ অনেকটাই পার্থক্য থাকায় এখানে ক্যাসিনোর গ্রহণযোগ্যতা নেই। বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় দিক বিবেচনা করে ১৮৬৭ সালে বঙ্গীয় আইনে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ করা হয়। যা বর্তমানে কার্যকর। যেহেতু ক্যাসিনোগুলো জুয়া নির্ভর। তাই ক্যাসিনোকে অবৈধ ঘোষণা করে সরকারিভাবে এটি বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে এখনো ক্যাসিনো বন্ধের নির্দিষ্ট কোনো আইন করা হয়নি।

অর্থ পাচারের জন্য সারা বিশ্বেই ক্যাসিনোর দুর্নাম রয়েছে। শুরুটা  Lasvegas’’ এ হলেও বর্তমানে অনেক দেশেই বৈধভাবে জুয়ার আসর বসে ক্যাসিনোর। সমাজে যদিও এর নৈতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে সবখানে।

ভূমিকা : সম্প্রতি সারাদেশে একটি শব্দ খুব বেশি সংবাদ মাধ্যম গুলোর শিরোনামে আসছে, তা হচ্ছে ক্যাসিনো। আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে মানুষ মাদকের নেশার মতো আরেকটি নেশায় আক্রান্ত হয় চরমভাবে। তা হচ্ছে জুয়া খেলা। বলা বাহুল্য যে, এই জুয়া খেলার জন্য উন্নত দেশগুলোতে আসর জমানো হতো। এই আসর থেকেই উৎপত্তি লাভ করে ক্যাসিনো, ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশগুলোতে এর জনপ্রিয়তা বাড়ে, শুরু হয় ক্যাসিনো নির্ভর রমরমা ব্যবসা। প্রচুর পরিমানে টাকা উড়ানো হয় এর মাধ্যমে, সমগ্র বিশ্বে রয়েছে অসংখ্য ক্যাসিনো। তবে চীন, অস্ট্রেলিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, নেপাল, সিঙ্গাপুর, ভারতসহ অনেক দেশেই অর্থশালী ব্যক্তিবর্গ তাদের বিনোদনের ক্ষেত্র হিসেবে বেচে নিয়েছে ক্যাসিনোকে। তবে বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই কম-বেশি এর প্রচলন রয়েছে।
গবেষণার উদ্দেশ্য: এই গবেষণার মাধ্যমে বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের বর্তমান অবস্থান এবং ক্যাসিনো সম্পর্কে জনগনকে অবগত করা সম্ভব হবে। আর সাধারণভাবে এর ক্ষতিকর দিকসমূহ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশসমূহ এর প্রতি দৃষ্টি ভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। ফলে পাশ্চাত্যের সাথে বাংলাদেশের ক্যাসিনোর সামাজিক পার্থক্য নিরুপণ করা এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব সম্পর্কে সমাজ নিরীক্ষার মাধ্যমে জাতির সামনে নতুন তথ্য ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করার আরেকটা দিক নিদের্শনামূলক পথরেখা তৈরি হবে।

উৎপত্তি ও ইতিহাস: Casino’’ শব্দটি মূলত ইতালিয় শব্দ। যার উৎপত্তি হয়েছে ‘‘Cassa’’ থেকে। এর অর্থ ‘‘ঘর’’। অর্থাৎ ঘর বলতে গ্রীষ্মকালীন ঘর বা সামাজিক ক্লাবকে বোঝানো হতো।
ইউরোপের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৬৩৮ সালে ইতালির ভেনিস শহরে ‘‘রীডোট্ট’’ নামে সর্বপ্রথম এক ক্যাসিনো তৈরি করা হয়েছিল। তবে সামাজিক অবক্ষয়ের কথা ভেবে ১৭৭৪ সালে শহর প্রধান এটি বন্ধ করে দেয়। এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম ‘‘স্যালুন্স’’ নামে একটি ক্যাসিনো তৈরি করা হয়। যার উদ্দেশ্য ছিল পর্যটকদের আকর্ষন সৃষ্টি। কিন্তু এর পরে এতদ্রুত এটি জনপ্রিয়তা পায় যে, নতুন করে স্যানফ্রান্সিসকো, নিউ অরলিক্স, সেন্ট লুইস ও শিকাগো শহরে আরো একাধিক ক্যাসিনো তৈরি হয়।
১৯৩১ সালে আমেরিকার নেভাদা রাজ্যে সর্বপ্রথম সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ক্যাসিনো গড়ে ওঠে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘‘ফক্সউডস’’ রিসোর্ট ক্যাসিনো বিশ্বজুড়ে পরচিতি, বিশেষ করে জুয়াড়িদের কাছে। এখানে ৩৮০টিরও বেশি জুয়ার টেবিল হাজার হাজার কোটি টাকার জুয়ার আসর বসে। বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর হিসেবে পরিচিত ‘Syn city lasvegas’ ’ এখানে আরেকটি খুবই নাম করা ক্যাসিনো রয়েছে যার নাম ‘M.G.M Grand’ বিশ্বে যত ক্যাসিনো রয়েছে তার মধ্যে চীনের ‘The venctian macao’ তার মধ্যে অন্যতম, এটি জুয়াড়িদের প্রধান আকর্ষন। ব্রাজিলের ‘ÔRio All Suits’ ক্যাসিনো বিশ্বের ধনকুবেরদের অবসর সময় কাটানোর আরেকটি স্থান।
ইদানিং এশিয়ায় অনেকগুলো দেশে ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু হয়েছে এখানে হরহামেশাই চলছে জুয়ার বড় বড় আসর। যেমন: সিঙ্গাপুর, ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়া। ভাব্তে অবাক লাগে, বাংলাদেশেও গোপনে এই ব্যবসা চলছে দীর্ঘ দিন ধরে। যা বর্তমানে ফুলে ফেঁপে উঠেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে ক্যাসিনোতে কি শুধু জুয়া খেলাই হয় ? এবং কিভাবে তা সম্পন্ন হয় ?
ক্যাসিনোগুলো প্রথমত জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করেই বিস্তার লাভ করে। পরে এর সাথে আরো অনেক কিছু সম্পৃক্ত হয়। আগুন্তকরা যে খেলাগুলোতে বেশি আগ্রহি তারা সেগুলোই খেলে। যেমন: ক্রাপ ও রুলেট, ভিডিও পোকার, ব্র্যাকারেট, ভিডিও জু জু, মাল্টি গেম মেশিন, প্রোগেসিভ স্লট, বাক্কারাট, পল্টুন, ফ্লাশ, বিট, ডিনার, কার্ডস্লট মেশিন ইত্যাদি।
বিশ্বে ক্যাসিনোর বিস্তার: যেহেতু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের Culture ভিন্ন। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তা চেতনার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। পশ্চিমাদেশগুলোতে প্রকাশ্যে মদ খাওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। যা আমাদের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে ভাবাই যায়না। তেমনি ঐসব দেশের প্রেক্ষাপটের সাথে তৃতীয় বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর ‘Visions’ ভিন্ন হতে পারে, বিশ্বে অর্থ পাচারের অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্যাসিনো বা জুয়া। ইউরোপের দেশগুলোর এক দেশের ক্যাসিনোর কয়েন সার্ভিস চার্জ দিয়ে অন্য দেশের ক্যাশ করার সুযোগ রয়েছে।
আমেরিকা ও ক্যাসিনো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্যালুন্স’ নামে প্রথম ক্যাসিনো তৈরি করা হয়। মূলত পর্যটকদের আকৃষ্ট করাই এর উদ্দেশ্য ছিল। এখানে সময় কাটানোর জন্য তারা জুয়া খেলতো, ড্রিংকস করত। আমেরিকার নেভাদা রাজ্যে ১৯৩১ সালে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ক্যাসিনো গড়ে ওঠে। সেখানে জুয়ার পাশাপাশি চলে জমজমাট আড্ডা, তাছাড়া অল্প বয়সিদের জন্য চমকপ্রদ সব বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে সব মিলিয়ে প্রায় ১৯৫৪টি ক্যাসিনো রয়েছে সেখানে ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে।
ব্রাজিলে ক্যাসিনো: ব্রাজিলে জুয়াড়ি ও ধনকুবেরদের কাছে খুব সমাদৃত ও পরিচিত ‘Rio All Suits’ ক্যাসিনো। এটি বিশ্বের ধনকুবেরদের অবসর সময় কাটানোর একটি স্থান। পুরো হোটেলটির ডিজাইন আর নকশায় রয়েছে ব্রাজিলের সংস্কৃতি।
জার্মানে ক্যাসিনো: নির্দিষ্ট লাইসেন্সের অধীনে জার্মানীতে মেশিন ভিত্তিক জুয়া খেলার ক্যাসিনো চালানোর অনুমতি রয়েছে। ১৮২৪ সালে ধ্রুপদী ইউরোপীয় স্থাপত্য রীতিতে তৈরি বিশাল ভবনটি প্রাসাদোপম।
নেপালেও ক্যাসিনো: নেপাল দক্ষিন এশিয়ার প্রথম দেশ। যেখানে বৈধ ভাবে ক্যাসিনো চালু করা হয়। নেপাল আইন অনুযায়ী দেশটির নাগরিকরা ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতে পারবে না। এই ব্যবস্থা শুধুই বিদেশি নাগরিকদের জন্য। নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুতে নয়টি এবং রাজধানীর বাইরে আরও দুটি ক্যাসিনো আছে। প্রতিটি ক্যাসিনোতে তিনশতর বেশি কর্মচারি নিয়োজিত।
ইংল্যান্ডে ক্যাসিনো: ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের হিপেড্রোম ক্যাসিনো বিশ্ব বিখ্যাত। ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের ওয়েস্ট মিনস্টার শহরের কাছেই ক্রানবার্ন স্ট্রিটে এর অবস্থান। মূলত ১৯০০ সালে নির্মিত।
পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্যাসিনোকে শিল্প হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
বাংলাদেশের ক্যাসিনোর বিস্তার: বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয় খুব একটা বেশি দিনের নয়। তবুও বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে অনেকটা পরিচিতি লাভ করেছে। তথ্য ও প্রযুক্তির বিকাশের ফলে তার ছোঁয়া বাংলাদেশেও লেগেছে। অনুন্নত থেকে এখন উন্নয়নশীল পর্যায়ে পদার্পন করেছে, উন্নত হওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু এর মধ্যে দেশের কিছু মানুষ আছে যারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে অন্যায় কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বাঙালি যেমন ধর্মভীরু তেমনি কিছু আছে হুজুগে যারা আধুনিকতার নামে বিদেশী অপসংস্কৃতিতে মেতে উঠে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশি, বিদেশি একটি শ্রেণি বিভিন্ন ব্যবসার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা।
বাংলাদেশে ঠিক কত সাল থেকে ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু হয়েছে তার সঠিক তথ্য না পাওয়া গেলেও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার রিপোর্ট মোতাবেক ১৯৯৪ সাল থেকেই এটি শুরু হয় বলে ধারণা করা হয়। বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ, এখানকার মানুষ অনেক ধর্মভীরু। তাই এদেশের মানুষ ক্যাসিনোকে ইতিবাচক ভাবে দেখেনা। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, ক্যাসিনো যুব সমাজের জন্য হুমকি স্বরুপ, এর প্রতি আকর্ষন তাদেরকে মূল ক্রীড়া বিমুখ করে তুলবে। এ দেশের আইনে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ করা হয় ১৮৬৭ সালে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে অনেকগুলো ক্যাসিনোর খবর পাওয়া যায়। অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে ঢাকায় কয়েকটি ক্লাবের ১৮২ জনকে গ্রেফতার করেছে ব্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর। এসব ক্যাসিনোগুলো আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত। ক্যাসিনোগুলোতে জুয়া খেলার জন্য বিশেষ ধরনের গেমিং টেবিল, চিপস, প্লাক, স্লট, মেশিন, রুলেট হুইল, বড় বড় কাঠের বাক্সসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিল। নগদ টাকাসহ এসব সরঞ্জাম জব্দ করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত।

যে সব ক্লাবের অন্তরালে ক্যাসিনো ব্যবসার কথা প্রকাশ পায় সেগুলো হচ্ছে :- ১। মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব, ২। ভিক্টোরিয়া স্পোটিং ক্লাব, ৩। দিলকুশা স্পোটিং ক্লাব, ৪। আরামবাগ ক্রিড়া সংঘ, ৫। ইয়ংমেনস ক্লাব ও ৬। ওয়ান্ডাস ক্লাব
এসব ক্লাবে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ক্যাসিনো মেশিন, জুয়ার বোর্ড, বিদেশি মদ, সিসা, বারের সরঞ্জাম, নগদ অর্থ ছাড়াও বিপুল পরিমান কার্ডসহ নানান সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। সাধারণত যে অংশে ক্যাসিনো চলতো সেখানে বিলাসিতায় পরিপূর্ণ ছিল। রঙিন আলো আঁধারি রুম দামি চেয়ার, আসবাবপত্র, দেয়াল জুড়ে সাজানো বিদেশি নারী মডেলের বড় বড় অশ্লীল ছবি, হঠাৎ করে কেউ এখানে ঢুকলে মনে করতে পারে এ যেন ঢাকার ক্যাসিনো নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের লাসভেগাস। এছাড়াও আরো কোথাও ক্যাসিনো আছে কিনা, সে বিষয়ে তথ্য নেয়া হচ্ছে। জানা যায় যে, ঢাকার ক্যাসিনো ব্যবসার নিয়ন্ত্রক কিয়দাংশ বাংলাদেশি বড় বড় ব্যবসায়ী ও কিছু টপ লেভেলের নেতা জড়িত থাকলেও এর বড় অংশিদার বা মালিকানা রয়েছে বিদেশিদের হাতে। এ ব্যবসার ৪০-৬০ শতাংশের মালিক বিদেশিরা। যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এর সরঞ্জামের যোগান দেয়া হয়। তবে নেপালিরা মূলত পরিচালনা করে বেশি। প্রশিক্ষিত জুয়াড়িদের পাশাপাশি নিরাপত্তা কর্মী আনা হয় বিদেশ থেকে।

যারা ক্যাসিনোর সদস্য হয়: যেহেতু ক্যাসিনোর প্রচুর পরিমানে টাকার খেলা হয় তাতেই পরিস্কার যে, সাধারণ শ্রেণি নিম্ন

বা মধ্যবিত্ত শ্রেণির যাতায়াত এখানে না হওয়াই স্বাভাবিক। মূলত ধনী, অর্থ বিত্তশালী ব্যক্তিগনই ক্যাসিনোর সদস্য। কম বয়সিরাও কিছু কিছু ক্যাসিনোতে যেতে পারে। তবে বেশির ভাগই ১৮/৫০ বছর বয়সি।
ক্যাসিনোর প্রভাব: ক্যাসিনোগুলোর বাহ্যিক সজ্জায়ন এতো জমকালো থাকে এবং পরিবেশটা এমন ভাবে সাজানো থাকে যে, মানুষ একবার গেলে মাদকের নেশার মতো আশক্ত হয়ে পড়ে। তখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে পুরোপুরি আকৃষ্ট হয়ে যায়। অনেকে দেখা যায় রাতারাতি ধনী থেকে রাস্তার ফকির হয়ে যায়। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের সাথে জড়িয়ে পড়ে। যা তাকে শারীরিক, আর্থিক, মানসিক, ধর্মীয় সব দিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রচুর পরিমানে মাদক সেবন করে, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। তাছাড়া খেলা শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগে তাই মস্তিষ্ক ও চোখের মারাতœক ক্ষতি হতে পারে। ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী মাফিয়া গ্রুপ তৈরি হয়। মানুষ প্রথমে লোভে পড়ে, তারপর সব হারিয়ে হতাশা, বিষন্নতা শেষ পর্যন্ত আতœহত্যার মতো ঘটনা ঘটে। এভাবে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক প্রভাবের পাশাপাশি এর ফলে ধর্মীয় প্রভাব পড়ে অনেক বেশি। মানব সমাজের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য ইসলাম ধর্মে বহু আগেই মদ ও জুয়া হারাম করেছে। আল্লাহ পাক বলেন, হে মুমিনরা ! মদ, জুয়া এবং ভাগ্য নির্ধারক শরগুলো শয়তানের কাজ ছাড়া কিছুই নয়। অতএব, এগুলো থেকে দূরে থাকো, যাতে তোমরা কল্যাণ প্রাপ্ত হও। এসব তোমাদের মাঝে শত্রুতা, বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে আর তোমাদেরকে নামাজ ও রোজা থেকে দূরে সরাবে।
সুতরাং এর ফাঁদে যে একবার পা দিয়েছে, তার ধ্বংস অনিবার্য।
সুপারিশ: বিভিন্ন প্রকার সামাজিক অবক্ষয় ও সমস্যার মধ্যে বর্তমানে নতুন ভাবে দেখা দিয়েছে আরেকটি সমস্যা। যার নাম ক্যাসিনো। যা ব্যক্তির জন্য পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এটি বন্ধ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতন হতে হবে যুবসমাজকে, সচেতন হতে হবে পুরো জাতীকে। পিতা মাতার দায়িত্ব হচ্ছে তার সন্তানের গতিবিধির প্রতি নজর রাখা। জনগনের উচিত কোথাও এমন কর্মকান্ড দৃষ্টিগোচর হলে প্রশাসনকে অবহিত করা। তাছাড়া ক্যাসিনো বন্ধে কার্যকরি আইন প্রণয়ন করা জরুরী।
উপসংহার:  যেহেতু বাংলাদেশের ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনোর অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে, তাই ক্লাবগুলোর আয়ের নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা প্রয়োজন। ক্লাবগুলো যাতে বিত্তশালী কালো টাকার মালিকদের হাতে জিম্মি না হতে পারে সে দিকে ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সজাগ দৃষ্টি থাকবে, আশা করি।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী কলেজ,লক্ষ্মীপুর

ভিন্নমত আরও সংবাদ

ক্যাসিনো সংস্কৃতিতে বাংলাদেশের পর্যালোচনা

‘আলু পোড়া খাওয়ার নেশা’ আর ‘দৃশ্যপটের ম্যালা দশা’

সময় যেখানে থমকে দাঁড়িয়েছে

রমজান ও ঈদ কেন্দ্রিক অসুস্থ প্রতিযোগিতার যৌতুক অবসান হোক

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী, উপকূলবাসীর কথা শুনুন

রণ কৌশল না জানলে যুদ্ধে জয় করা যায়না

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৯
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]