সব কিছু
লক্ষ্মীপুর মঙ্গলবার , ২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং , ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

উপকূলের সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য চাই ‘’উপকূল দিবস’’

উপকূলের সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য চাই ‘’উপকূল দিবস’’

সানা উল্লাহ সানু: ঝড়-ঝঞ্ঝায় বিক্ষুব্ধ এক জনপদের নাম বাংলাদেশের উপকূল। জলোচ্ছ্বাস, নদী-ভাঙন, প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে ফেরে যেখানকার মানুষগুলোকে। এ বছর সে উপকূলের ১৬ জেলার ৫৪ স্থানে দ্বিতীয়বারের মত পালিত হচ্ছে ‘উপকূল দিবস’। গত বছর ৩২ উপজেলার ৩৪টি স্থানে পালিত হয়েছিল প্রথম উপকূল দিবস।

প্রথম উপকূল দিবস পালনের খবর নজর কাড়ে বিবিসি ও ভয়েস অব অ্যামেরিকার মতো আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমসহ দেশীয় গণমাধ্যমের। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর স্মরণে “উপকূল বাংলাদেশ” নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডাকে ও স্থানীয় নানা সহযোগি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

“১২ই নভেম্বর হোক উপকূল দিবস” শিরোনামে উপকূল দিবসের প্রস্তাব প্রথম তুলে গণমাধ্যমে লেখালেখি শুরু করেন “উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ও উপকূল সন্ধানী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু। উপকূলের জন্য আবার দিবস কেন ? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, উপকূলের জন্যও একটা দিবস প্রয়োজন আছে।

উপকূলবাসীর দিকে বছরে অন্তত একটি দিনে বিশেষভাবে নজর ফেলার জন্য, উপকূলের সংকট-সম্ভাবনার কথা বছরে অন্তত একটিবার সবাই মিলে বলার জন্যে একটি বিশেষ দিন দরকার। যেদিন সবাই মিলে একযোগে উপকূলের কথা বলবে। সেজন্য বাংলাদেশের উপকূলবাসীর জন্য সবচেয়ে শোকের দিন হিসাবে পরিচিত ১২ নভেম্বরই হতে পারে ‘উপকূল দিবস’।

শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই এই দিনটি ‘ওয়ার্ল্ড কোষ্ট ডে’ হওয়া উচিত। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর উপকূলবাসীর জন্য স্মরণীয় দিন। এদিন বাংলাদেশের উপকূলের উপর দিয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’। ওই ঘূর্ণিঝড়ে সরকারি হিসেবে প্রাণ হারায় উপকূলের ৫লাখ মানুষ। বেসরকারি হিসেবে সে সংখ্যা ১০ লাখ। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূল পরিণত হয় বিরাণভূমিতে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ছিল ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা। ওই সময়ে সেখানকার ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষের মধ্যে ৭৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। একটি এলাকার প্রায় ৪৬ শতাংশ প্রাণ হারানোর ঘটনা ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ওই ঘূর্ণিঝড়ে তৎকালীন বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। দ্বীপচরসহ বহু এলাকার ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। উপকূল অঞ্চলের বহু এলাকা বিরাণ জনপদে পরিণত হয়।

২০১৭ সালের ১৮ মে জাতিসংঘ ওই দিনে ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়টিকে পৃথিবীর ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঝড় হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাই উপকূল সুরক্ষার তাগিদে ওই দিনটিকেই “উপকূল দিবস” হিসেবে পালনের জন্য দাবি উঠেছে সমগ্র উপকূলে। ২০১৭ সালে “উপকূল বাংলাদেশ” নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির ডাকে ও স্থানীয় নানা সহযোগি প্র্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় একযোগে উপকূল জুড়ে প্রথম এবং এ বছর ২য় উপকূল দিবস পালিত হচ্ছে। সে দিনের ঘটনায় বেসরকারিভাবে ১০ লাখের মতো মানুষ নিহতের কথা বলা হলেও, বিশ্বের দরবারে ঘূর্ণিঝড়টিকে পাকিস্তান সরকার তুচ্ছ প্রমাণ করার জন্য ৫ লাখ বলে প্রচার করেছে।

অন্যদিকে, এমন পরিস্থিতির মুখে সামান্য ত্রাণ এসেছে অনেক পরে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুদ্ধের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে উপকূলের আম-জনতা। দিনটিকে “উপকূল দিবস” হিসেবে পালন করা হলে ‘৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণ করা হবে। একযোগে সবার কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হবে প্রান্তজনের কথা। ওই দিন একসঙ্গে আলোচনায় উঠে আসবে উপকূলের সমস্যা আর সম্ভাবনার গল্প। তাই উপকূলের সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য ১২ই নভেম্বর চাই উপকূল দিবস।

সাইক্লোন ভোলা আরও সংবাদ

১২ই নভেম্বর, আজকের এ দিনে প্রাণহারায় উপকূলের ৫ লক্ষাধিক মানুষ

ইতিহাসের ভয়াবহ প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে: জাতিসংঘ

বরগুনায় এক হাজার এক মোমবাতি জ্বালিয়ে ২য় উপকূল দিবস পালনের সূচনা

উপকূলের সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য চাই ‘’উপকূল দিবস’’

১২ নভেম্বর উপকূলের ১৬ জেলায় পালিত হবে ‘উপকূল দিবস’

দিবসের জন্য আন্দোলন; দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: news@lakshmipur24.com