সব কিছু
লক্ষ্মীপুর রবিবার , ২১শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ৮ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাবান, ১৪৪০ হিজরী

উপকূলীয় লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জনমানুষের প্রত্যাশা

উপকূলীয় লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জনমানুষের প্রত্যাশা

সারোয়ার মিরন: দেশের দক্ষিনাঞ্চলের সর্বশেষ উপজেলা হিসেবে রামগতি কমলনগর বরাবরই অবহেলিত। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে সচেতন ভোটারদের মনোমগজে সে সকল চাওয়া গুলোর প্রতিফলন হবে তা উপস্থাপনের চার পর্বের সিরিজ লেখার আজকের শেষ পর্বে তেমন কয়েকটি জনগুরুত্বপূর্ন বিষয় নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করার চেষ্টা করছি। পাঠক এবং ভোটার হিসেবে যা অবশ্যই আপনাকে উদ্বেলিত করবে।

শেখের কিল্লায় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর ১৯৭০ সালের নির্বাচনপূর্ব প্রাকৃতিক জলোচ্ছ্বাসে এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের দক্ষিনাঞ্চলের তৎকালীন অবস্থা স্বচোক্ষে দেখা এবং অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের অভিপ্রায়ে ১৯৭২ সালের ২০ফেব্রুয়ারি সাংগঠনিক জেলায় সফর হিসেবে লক্ষ্মীপুরের রামগতি আসেন। সে সময় রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের হাজিগঞ্জ বাজারের দক্ষিনে ’গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্পে ২১টি পুকুর খনন করা হয়। পুকুরের পাড় গুলোতে প্রায় দুই শতাধিক অসহায় পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। হাজার হাজার জনতার মধ্যমনি হয়ে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন জাতির জনক শেখ মজিবুর রহমান। সে থেকেই এ ঐতিহাসিক স্থানটি শেখের কেল্লা নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও রামগতি উপজেলার এ ঐতিহাসিক শেখের কেল্লায় কোন সরকারি প্রকল্প বা বরাদ্ধ দেননি। নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় এ বিশাল জনগোষ্ঠির আশ্রয় এবং পুনর্বাসন সহ যে কোন একটি বৃহৎ সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন চায় উপজেলাবাসী।

বিগত পর্বগুলো:

তৃতীয় পর্ব: প্রার্থীদের কাছে ভোটারদের আরো কিছু প্রত্যাশা

দ্বিতীয় পর্বযে চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কেন্দ্রে যাবে ভোটাররা

প্রথম পর্ব: লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ভোটারদের ভাবনা থামবে যেসবে

আলেকজান্ডার-ভোলা নৌ রুট যাত্রী বান্ধব হোক
বৃহত্তম চট্টগ্রাম বিভাগের যে কোন জেলা থেকে ভোলা বরিশাল যাতায়াতের অন্যতম প্রধান এবং সহজ পথ রামগতি টু ভোলা নৌপথ। নাব্যতা সংকট এবং ঘাট জটিলতায় প্রায়ই এ রুটে যাতায়াতকারীদের পোহাতে হয় নানান সমস্যা। লঞ্চ ভেড়ার জন্য জেটি থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এছাড়াও মেঘনার ভাংগন জনিত কারনে মুল সড়ক কিংবা স্থল ভাগ থেকে জেটির অবস্থান অনেক দুর। জেটি পর্যন্ত যাতায়াতের সু ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা কাঁদা জল পাড়ি দিয়ে জেটি পর্যন্ত যাওয়া আসা করতে হয়। ঘাটেও যাত্রীরা নানামুখী হয়রানির শিকার হয় বিভিন্ন কারনে। বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত এ রুটে উন্নত মানের লঞ্চ সার্ভিস এবং যাত্রীবান্ধব করা গেলে আরো জনপ্রিয়তা পেত এ লঞ্চ ঘাট। পাশাপাশি শিডিউল মিস করা যাত্রীদের রাত্রি যাপনের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ এবং উন্নতমানের হোটেল মোটেলও।

গজারিয়া এবং তেলিরচরে ঝুঁকিপূর্ন যাতায়াত বন্ধকরন:
রামগতি উপজেলার একমাত্র দুটি দ্বীপ চর। একটি চর আবদুল্যাহ ইউনিয়ন। অন্যটি তেলিরচর। প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপ চর দুটিতে প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষের বসবাস। এ দ্বীপ চর গুলোর সাথে রামগতি মূল ভুখন্ডের মানুষদের যোগাযোগের একমাত্র বাহন ইঞ্জিন চালিত নৌকা এবং বোট। দুটি চরেই স্থায়ী বসবাসের সাথে রামগতি থেকে গিয়ে চাষাবাদসহ ব্যবসা বানিজ্যের প্রতিনিয়তই প্রসার ঘটছে। সে সাথে বাড়ছে নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীও। উভয় ক্ষেত্রেই বাহন হিসেবে ঝুঁকিপূর্ন ভাবে ছোট ছোট নৌযানকে বেছে নিয়ে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে প্রায়শই ঘটছে নৌকা ডুবিসহ নানান ধরনের দুর্ঘটনা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং নৌ ডাকাতের হামলার আশংকা তো থাকছেই। ঝুঁকিপূর্ন এসব নৌযানে যাতায়াত নিষিদ্ধ করে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য লঞ্চের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

সরকারি খাস ভুমির সু বন্দোবস্তের ব্যবস্থা:
রামগতি-কমলনগর উপজেলা দুটিতে মেঘনার সুবিশাল জলরাশি আঁচড়ে পড়ায় প্রতিনিয়তই নতুন নতুন চর জাগছে মেঘনার বুক জুড়ে। আছে অসংখ্য চর। এছাড়াও আছে ভুলুয়া নদীর দুপাশ ঘেঁষে গড়ে উঠা বহু সরকারি খাস ভুমি। বিস্তৃর্ণ চরাঞ্চল এবং উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে রয়েছে হাজার হাজার একর সরকারি ভূমি। স্থানীয় প্রভাবশালী এবং ভূমি দস্যূদের দৌরাত্মে এর বেশিরভাগ ভূমিই বেদখল হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃত ভূমিহীনরা এসব ভূমির বন্দোবস্ত পাচ্ছে না। সরকারি এসব ভূমির অবৈধ মালিকানা নিয়ে প্রায়শই মামলা-হামলার ঘটনা ঘটে থাকে। সরকার এবং স্থানীয় প্রসাশনের মাধ্যমে এসব সরকারি খাস ভূমির সু বন্দোবস্ত করা হলে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব পাওয়া যেত অন্যদিকে প্রকৃত ভূমিহীনরা পেত তাদের ন্যায্য অধিকার।

রামগতি-লক্ষ্মীপুর রুটে অবৈধ যানবাহন নিষিদ্ধকরন:
রামগতি-লক্ষ্মীপুর রুটে প্রতিনিয়তই বাড়ছে অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রায় ছেচল্লিশ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে লাশের মিছিল। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ইটভাটায় মাটি টানার কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টর ট্রলিও। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি দৌরাত্ম দেখা গেছে লেগুনা’র। নিয়ন্ত্রনহীন বেপরোয়া গতি, লাইসেন্সহীন চালক, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, ওভারটেকিং এবং ফিটনেটহীন এসব লেগুনা গুলোই সিংহভাগ দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। এমন অনিরাপদ যাত্রা থেকে মুক্তি পেতে লেগুনা, ট্রাক্টরট্রলি, অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করে বাস, মিনিবাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। সে সাথে এ রুটে বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের বহুমুখী হয়রানি থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনও সময়ের দাবি।

তথ্য প্রযুক্তির অনগ্রসরতার রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি:
তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের অন্যতম উপকরন শক্তিশালী মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় দেশব্যাপী ফোর-জি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা চালু করার বছর খানেক সময় পার হলেও রামগতি-কমলনগরে নেই এর সুফল। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফোর-জি সেবা দুরে থাক থ্রি-জি’র সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে না। স্বল্প সংখ্যক স্থানে চালু আছে ফোর-জি সেবা। তাও পরিপূর্ন স্পিড দেয়া হচ্ছে না অপারেটর গুলো কারসাজিতে। উপজেলা এবং ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্র গুলো চলছে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। বহুমুখী সীমাবদ্ধতায় গ্রাহক কিংবা শুভাকাংক্ষী বান্ধব হয়ে ওঠেনি রামগতি-কমলনগর উপজেলার বেশির ভাগ তথ্যকেন্দ্র। নিরবিচ্ছিন্ন বৈদ্যুতিক সেবা, শক্তিশালী ইন্টারনেট ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় উপকরনের ব্যবস্থা করে উদ্যোক্তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা গেলে শতভাগ উপকার ভোগী হতো উপকুলীয় অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর স্বতন্ত্র ওয়েব সাইট, ডিজিটাল হাজিরা, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন ওয়েব সাইট তৈরি এবং নিয়মিত আপডেটসহ তথ্য প্রাপ্তির সহজলভ্য করাও সময়ের দাবি রাখে।

লেখকের সীমাবদ্ধতা এবং একটি চাওয়া:
উপকূলীয় দুটি উপজেলা হিসেবে রামগতি-কমলনগরের সমস্যা সম্ভাবনা অন্তহীন। একদিকে রাষ্ট্রযন্ত্র এবং প্রকৃতির বিরুপ আচরনের শিকার এ নির্বাচনী এলাকা নানামূখী উপায় উপকরনে দীর্ঘ দিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছে। বিগত কয়েক দিন ধরে আমার চার পর্বের এ সিরিজ লেখায় অজান্তে কিংবা স্থান সংকুলান জটিলতায় সবগুলো বিষয় আশয় আংশিক কিংবা সবিস্তারে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। এ সীমাবদ্ধতার জন্য একজন সচেতন পাঠক কাম ভোটার হিসেবে ক্ষমার চোখে দেখবেন এ বিশ^াস হৃদয়ে লালন করি। চেষ্টা করবো রামগতি-কমলনগরের সমস্যা সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চালিয়ে যেতে। আপনাদের সহযোগীতা চাই। শেষ কথা: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে দু দুজন ভিআইপি এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব প্রার্থী হয়েছেন। একজন সচেতন নাগরিক/ভোটার হিসেবে বিবেক বুদ্ধি ব্যয় করে আপনার রায় প্রদানের অনুরোধ করছি। ভালো থাকুক রামগতি-কমলনগর। ভালো থাকুক উপকূল।

লেখক: ফ্রিল্যান্স লেখক এবং উন্নয়নকর্মী

 

সংসদ নির্বাচন আরও সংবাদ

লক্ষ্মীপুর-৩: কোন প্রার্থী কত ভোট পেলেন

লক্ষ্মীপুর-২: কোন প্রার্থী কত ভোট পেলেন

লক্ষ্মীপুর-১: কোন প্রার্থী কত ভোট পেলেন

লক্ষ্মীপুরে ১২ লাখ ভোটারের জন্য ৪শ৪৬ কেন্দ্র প্রস্তুত

ভোটের অপেক্ষায় লক্ষ্মীপুরবাসী: আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ অবস্থান

সড়কে যানবাহন চলাচল কমে গেছে

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]