লক্ষ্মীপুরের সড়কে বেপরোয়া সিএনজি

কাজল কায়েস: লক্ষ্মীপুরের সড়কগুলোতে চলছে বেপরোয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার দাপট। মালিক-চালকরা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই নিজেদের ইচ্ছেমতো অটোরিকশা চালাচ্ছেন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এদিকে বিআরটিএর ভাষ্যমতে, লক্ষ্মীপুরে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার নিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ২৬ জন চালকের লাইসেন্স আছে। নতুন করে যারা লাইসেন্স করতে আসেন, তাদের কোনো অক্ষর জ্ঞান নেই। এজন্য লাইসেন্সও দেওয়া যায় না।

তবে বেসরকারি একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে অন্তত ১৪ হাজার অটোরিকশা চলছে।

লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী ও রায়পুরের প্রধান সড়কে ১৩ জন অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে বলে জানা গেছে, প্রতিদিন মালিককে ভাড়া দিতে হয় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। জেলার আটিয়াতলী ও চন্দ্রগঞ্জে দুইটি গ্যাস পাম্প রয়েছে। লাইনে সারিবদ্ধভাবে থেকে অটোরিকশায় গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এতে বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট এবং জমার টাকার টেনশনে সব সময় চালকরা সড়কে তাড়াহুড়া করেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, ব্যস্ততম নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর- চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক ছাড়াও জেলা সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলনগর ও রামগতির অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে বেপরোয়া গতিতে রাতদিন বিরামহীন অটোরিকশা চলছে। অধিকাংশ অটোরিকশার চালকই অদক্ষ। অনেকেরই কোনো অক্ষর জ্ঞান নেই। এতে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে।

রামগঞ্জের পানপাড়া এলাকার অটোরিকশা চালক সাত্তার সুমন বলেন, আমরা লাইসেন্স করে ড্রাইভিং করতে আগ্রহী। কিন্তু বিআরটিএ অফিসে লাইসেন্স করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। ৩-৪ দিন ঘুরে পরে আর লাইসেন্স করিনি।

জানতে চাইলে জেলা সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি ও পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সেলিম রেজা বলেন, রাস্তায় অতিরিক্ত যানবাহন চলার কারণে সিএনজির সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকদের সতর্ক করার জন্য আমরা একাধিকবার সভা করেছি।

জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনা রোধে চালকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। টাকা আর দালাল ছাড়া বিআরটিএ অফিসে কাজ হয় না।

ঝামেলামুক্ত প্রক্রিয়ায় চালকদেরকে লাইসেন্স করার সুযোগ ও চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে দুর্ঘটনা কমবে বলে মনে করেন এ নেতা।

লক্ষ্মীপুর সার্কেল বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। বেশ কিছু মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে। নতুন করে অনেকেই আবেদন করেছেন। হয়রানি ছাড়াই লাইসেন্সের জন্য করা আবেদনগুলোর কাগজপত্র যাচাই-বছাই করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আ. স. ম. মাহাতাব উদ্দিন বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে বলা হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে।