রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, সমস্যার ভারে নিজেই জটিল রোগী

মিসু সাহা নিক্কন: লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চল ও মেঘনার ভাঙ্গন কবলিত ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রামগতি উপজেলা। উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের একমাত্র প্রতিষ্ঠান রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র চর আলেকজান্ডারে অবস্থিত ৩১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে ২০ শয্যা হাসপাতালের অবকাঠামোর মধ্যে। অকেজো অ্যাম্বুলেন্সসহ নানা সমস্যার ভারে নিজেই জটিল রোগীতে পরিণত হয়েছে।

একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স অকেজো। চলতি মাসে বিআরটিএ অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহারের অনুপযোগী বলে ঘোষণা দেন।

গত সেপ্টেম্বর মাসের ভর্তি রেজিষ্টার থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৬শ রোগী, আউটডোরে চিকিৎসার জন্য এসেছেন ৬ হাজার ৪’শ জন রোগী, নরমাল ডেলিভারি হয়েছে ১৪টি। ৫ বছরের নিচে প্রায় ২০-৩০ জন শিশুকে টিকা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে দিন দিন ভেঙ্গে পড়তে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। রামগতি উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৮ জন মেডিকেল অফিসারসহ রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু রয়েছে মাত্র ৩ জন মেডিকেল অফিসার। হাসপাতালের শুরু থেকেই চালু হয়নি প্যাথলজি, এক্স-রে, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাম সেবা। হাসপাতালের মোট জনবলের ৬৫% এরও বেশি পদ শূণ্য।

এছাড়াও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অর্থাৎ জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, সার্জারী এনেসথেসিয়া, গাইনী পদ এখন পর্যন্ত শূণ্য। দীর্ঘদিন যাবৎ মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট, এক্স-রে টেকনোলজিষ্ট, অফিস সহকারী, হিসাব রক্ষক, ওয়ার্ড বয়, এমএলএসএস, পিয়ন, সুইপার খালি পদের বিপরীতে কোন নিয়োগ নেই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ল্যাবরেটরী সেবা একেবারেই বন্ধ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্লাড গ্রুপিং, পায়খানা-প্রশ্রাবের মত সাধারণ পরীক্ষাগুলোও চালু নেই। সচেতন এলাকাবাসী জানান, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল সংকট দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলছে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। প্রতি মাসে গড়ে ১৫-২০ নরমাল ডেলিভারি হচ্ছে উপজেলা কমপ্লেক্সে।

উপকূলীয় অঞ্চলের অবহেলিত বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবার একমাত্র প্রাণকেন্দ্র এটি। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে শত শত রোগী আসে। এই চিকিৎসা সেবাকে আরও ত্বরান্বিত করতে শতভাগ জনবল খুবই জরুরি।

জানা গেছে, ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপি সরকারের আমলে ১’শ দিনের কর্ম-পরিকল্পনায় তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান তার নির্বাচনী এলাকায় এ প্রকল্পটি হাতে নেন। ২০০৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রামগতি উপজেলা সদর চর আলেকজান্ডার ৩ একর জমির ওপর ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

এরপর ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে চর আলেকজান্ডার ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হয়। গণর্পূত অধিদপ্তর সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিএমএমইউ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। ২০০৬ সালে বৃহত্তর রামগতি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের উত্তর অঞ্চলের ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে নবগঠিত কমলনগর পৃথক উপজেলা গঠিত হয়।

রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি (করইতলা) নবগঠিত কমলনগর উপজেলার মধ্যে পড়ে যায়। পরবর্তীতে, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১৬ আগস্ট চর আলেকজান্ডার ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যায় উন্নীত করে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু করা হয়। শুরু থেকেই প্রতিদিন আউটডোরে ৪ থেকে ৫’শ রোগী চিকিৎসার জন্য আসছেন।

লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা খালেদ আহমদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, শূণ্য পদ নিরসনের বিষয়ে অনেক বার লিখিত আবেদন করেছি, তা প্রক্রিয়াধীন। বার বার রিপেয়ারিং করে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসটি চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হওয়ার কারণে নতুন অ্যাম্বুলেন্সের জন্য লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।