বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’: বৃহস্পতিবার সকালে ভারতে আঘাত হানবে

নিজস্ব প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর:  শেষমেশ আশঙ্কা সত্যি করে  বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আজ (মঙ্গলবার) ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়ার পর এর পূর্ব নির্ধারিত নাম হয়েছে “#তিতলি”#Titli. তবে ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে খানিকটা রেহাই পেতে পারে বাংলাদেশ। এটি বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাত হানবে। তবে তিতলির প্রভাবে আগামী কয়েকদিন  বিভিন্ন জেলায় ভারী  বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত মানে হল- দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থারনরত ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম, মোংলা থেকে ৮৮০ কিলেমিটার দক্ষিণ- দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ওই সময় নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।

ঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা, ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আরব সাগরে আরেকটি ঘূর্ণিঝড় ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘লুবান’। ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ওমানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।