নির্মাণ কাজ শেষ হলেও জনবল না দেয়ায়  রায়পুর ফায়ার সার্ভিস চালু হয়নি

তাবারক হোসেন আজাদ:  প্রায় ১০ মাস আগেই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের। আর গত ৬ মাস আগে ২টি গাড়ীসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পড়ে আছে লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে। তারপরেও এর কার্যক্রম চালু হচ্ছেনা। তবে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার বলছেন চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। অপরদিকে কর্তৃপক্ষ বলছেন জনবল না দেয়ায় ফায়ার সার্ভিস উদ্ভোধন হচ্ছে না।

সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, অগ্নিকান্ড ঘটলে জেলা শহর থেকে ১৫ কি.মি. দুরত্বে রায়পুর শহরে আসতে হয়। এসময়ে নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে আসতে আসতে সব পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। গত বছরের অক্টোবর মাসে রায়পুর বাসটার্মিনাল এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পেট্রল পাম্পসহ তিনটি ট্রাক ও গাজী কমপ্লেক্সে ছয়টি দোকান পুড়ে গিয়ে ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রায় চার মাস আগে হায়দরগঞ্জ সড়কের সোলাখালী সংলগ্ন একটি ওষুধের দোকান পুড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়াও গত ১০ বছরে উপজেলায় অগ্নিকান্ডে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হলে ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কমে যাবে বলে তারা মনে করেন।

ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্রে জানা যায়, রায়পুর-চাঁদপুর সড়কের পাশে শহরের এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ২০১৬ সালে অধিগ্রহন করা ৩৬ শতাংশ জমিতে ২ কোটি ১৮ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৩৬ টাকা ব্যয়ে তিন তলা বিশিষ্ট এ স্টেশন নির্মাণ কাজ পান নোয়াখালীর শামীম এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পরে তার কাছ থেকে কিনে নেয় জাকারিয়া এন্ড সন্স নামে রায়পুরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ও জেলা পরিষদের সদস্য মামুন বিন জাকারিয়া। এ স্টেশনে ২জন গাড়ী চালক ও ১৫জন ফায়ারম্যানসহ ১৮জন জনবল থাকার কথা রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রায়পুরসহ দেশের ১৫৬টি স্টেশনের উদ্বোধন করা হবে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ও জেলা পরিষদের সদস্য মামুন বিন জাকারিয়া বলেন, অগ্নিকান্ডে মানুষ যেন দ্রুত সেবা পায় সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার রায়পুরসহ সারাদেশে ১৫৬টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ কাজের প্রকল্প হাতে নেয়। গত বছরের ডিসেম্বরেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয় এবং গাড়ী সহ অন্যান্য সরঞ্জাম লক্ষ্মীপুর স্টেশনে এসে পৌছে গেছে। এখন শুধু কার্যক্রম চালু হলেই রায়পুরবাসী স্বস্তি পাবে।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আক্তার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের তদারকিতে রায়পুরের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি আটমাস আগেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। গত বছরের ১৩ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লক্ষ্মীপুর সফরে এসে রায়পুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসহ ১৭টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ১০টি প্রকল্পের নামফলক উন্মোচন করেন। এখন এটি কার্যক্রম চালুর অপেক্ষায় রয়েছে।