সব কিছু
লক্ষ্মীপুর বৃহস্পতিবার , ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

শুধু কমলনগরেই নয়, দেশের বহু প্রকল্পেই ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং’’ এর ব্যাপক অনিয়ম

শুধু কমলনগরেই নয়, দেশের বহু প্রকল্পেই ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং’’ এর ব্যাপক অনিয়ম

লক্ষ্মীপুর কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকার মেঘনা নদীর তীর রক্ষা ১ কিমি বাঁধে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত কাজ শেষের দেড় বছরের মাথায় মোট ১০ বার ধস নামে। কমলনগরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বহুবার বিক্ষোভ করে। বাঁধটি নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং। কমলনগরের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের বহু অভিযোগ থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অদৃশ্য প্রভাবে কারোরই কিছুই করার ছিল না। স্থানীয় এলাকাবাসী এটা কে নিয়তি হিসেবে মেনে নেয়।  উল্টো প্রভাব খাটিয়ে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কমলনগরের মেঘনা নদী তীরে তাদের ব্লক ফ্যাক্টরী তৈরি করে দিব্বি বাণিজ্য করে যাচ্ছে।

কিন্তু শনিবার (২৬ অক্টোবর) বাংলা দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার প্রধান শিরোনামটি দেখে কমলনগরবাসী তাদের পুরাতন অভিযোগটি মেলাতে শুরু করে। এলাকার অনেকে বলতে শুরু করে আমাদের কথা তখন কেউ শোনেনি। কিন্তু আজ দেখুন সে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দেশের কত বড় সর্বনাশ করেছে। দৈনিক সমকাল ও প্রতিবেদনটির প্রতিবেদক জয়নাল আবেদীনের সৌজন্যে লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোরের পাঠকদের জন্য তা হুবুহু তুলে ধরা হলো:

সমকাল: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশির আহমেদ একসময় ছিলেন এলাকার বিএনপিদলীয় সাংসদের ব্যবসায়িক পার্টনার। বর্তমানে আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার ঘনিষ্ঠজন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বড় বড় প্রকল্পের এখন ‘অবিকল্প’ ঠিকাদার। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তখন সেই সরকারের ‘মুখোশ’ ধারণ করেন। রাজনৈতিক চরিত্র বদল হলেও অভিন্ন থাকে তার কাজের ধরন ও গুণগত মান। ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতনদের ‘ম্যানেজ’ করে কবজায় নেন একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। বশির আহমেদের এমন ‘জাদুকরী’ উত্থান বিস্মিত করেছে অনেককে।

সম্প্রতি ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যাংক হিসাব তলব করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অস্বাভাবিক লেনদেনের কারণে আলোচনায় আসেন বশির আহমেদ। অনুসন্ধানে ‘কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের’ হওয়ার অবস্থা। গত ১০ বছরে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার ৩১টি প্রকল্পের কাজ করেছে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কোনো প্রকল্পের ফল শুভ হয়নি। বাঁধ নির্মাণের পর হয় ধসে গেছে, নয়তো নদীতে বিলীন হয়েছে। রাস্তা নির্মাণের পর নষ্ট হয়েছে সামান্য বৃষ্টিতে। ড্যাম নির্মাণের পর খুলে গেছে রাবার। কুঠিবাড়িতে বিশ্বকবির স্মৃতি সংরক্ষণ প্রকল্পেও হয়েছে অনিয়ম। এমনকি চর না কেটেই অর্থ লোপাটের অভিযোগও রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

বিভিন্ন প্রকল্পে এই অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলার জন্য এক সপ্তাহ ধরে চেষ্টা করেও বশির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি। মেসেজ পাঠালেও জবাব মেলেনি। বৃহস্পতিবার টিসিবি ভবনে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কার্যালয়ে গেলে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। পরে অফিসের টেলিফোন নম্বরে ফোন করা হলে অভ্যর্থনায় দায়িত্বরত একজন জানান, বশির আহমেদ গত মঙ্গলবার বিদেশে গেছেন। কবে নাগাদ ফিরবেন কেউ বলতে পারছেন না। তার বদলে অন্য কেউ এসব বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা জানান।

গত ১৯ অক্টোবর বশির আহমেদের ব্যক্তিগত সচিব রুপম এই প্রতিবেদককে জানান, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্নিষ্ট প্রকল্প ব্যবস্থাপকরাই বলতে পারবেন। তবে তাদের ফোন নাম্বার প্রদানের ক্ষেত্রে অফিসের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ দেশের বিভিন্ন নদনদীর ভাঙন ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণ ও সংরক্ষণ, নদী খনন, সড়ক নির্মাণ, মেরামতসহ নানা রকম প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে নানা ধরনের গলদের চিত্র পাওয়া গেছে। সমাপ্ত প্রকল্পের করুণ পরিণতি এবং চলমান প্রকল্পে নানা অনিয়ম দুর্নীতি বেরিয়ে আসে অনুসন্ধানে। এতকিছুর পরেও নতুন প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিতে এ প্রতিষ্ঠানের বেগ পেতে হয় না।

জানা যায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং সারাদেশে ৩১টি প্রকল্পের কাজ শেষ করেছে। চলমান রয়েছে ৩৩টি প্রকল্প। ইতোমধ্যে .আরও ১২টি প্রকল্পের কাজ পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশই পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নানা প্রকল্প।

পাউবোর কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, কোনো প্রকল্প প্রস্তুত হতেই বশির আহমেদ এসে হাজির হন। অবস্থা এমন যে, প্রকল্প তৈরিই হয় যেন তার জন্য। চলমান প্রকল্পের বাইরে এই প্রতিষ্ঠান আরও যে ১২টি প্রকল্পের কাজ পেয়েছে, সেখানে ১০টিই পাউবোর। অনেকে রসিকতা করে বলেন, পাউবোতে টেন্ডারবাজি শব্দের অর্থই বদলে গেছে। এখন এখানে টেন্ডারবাজি হয় না, হয় ‘বশিরবাজি’।

বশির আহমেদের উত্থানের গল্পও বেশ চমকপ্রদ। স্কুলশিক্ষক বেলায়েত হোসেনের ছেলে বশির আহমেদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা এলাকায়। একাত্তরে বিতর্কিত ভূমিকা পালনকারী এক ব্যক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রায় তিন দশক আগে ঠিকাদারি কাজ শুরু করেন বশির। বহু বছর তিনি ছোটখাটো প্রকল্পের ঠিকাদারি করেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সম্পর্ক গড়ে ওঠে কুষ্টিয়া-২ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলামের সঙ্গে। সাংসদের সঙ্গে পার্টনারে (যৌথ উদ্যোগ) ব্যবসাও করেন।

স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠতাই বশিরের জন্য হয়ে ওঠে ওপরে ওঠার সিঁড়ি। এরপর কুষ্টিয়ার বড় বড় প্রকল্পে বশির হয়ে ওঠেন ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ ঠিকাদার। এখানেই শেষ নয়, ওই সাংসদের বদান্যতায় তৎকালীন পানিসম্পদমন্ত্রী হাফিজ উদ্দিনেরও আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন বশির। সেই সুযোগে পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুফল হাতে-কলমে এখনও পাচ্ছেন।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বশির আহমেদ পাউবোর অধীনে জেলার বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হলে লেবাস বদলে ফেলেন বশির। স্থানীয়রা বলছেন, সবসময় ক্ষমতাসীন দলের লেবাস ধরার কৌশল নেন তিনি। নিজের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সখ্য গড়ে তোলেন আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে। তখন তার ঠিকাদারি জেলা ছাড়িয়ে বিস্তৃত হতে থাকে সারাদেশে।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে গিয়ে দেখা যায়, আমলায় বশিরের ১০তলা ভবন এবং কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের পাশে তিন একর জমিতে ইটভাটা নির্মাণাধীন রয়েছে। এলাকায় নিজে ঘন ঘন না গেলেও ভাগ্নে মিল্টনই স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ঠিকাদারি দেখভাল করেন।

দাপট দেখিয়ে বাগিয়ে নেন প্রকল্প :জানা গেছে, দাপটের সঙ্গে একের পর এক প্রকল্প নিজের কবজায় নেন বশির আহমেদ। ঠিকাদারির পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে তার। এর মধ্যে আইবিসি পাওয়ার অন্যতম। এই আইবিসির চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবাল ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশির আহমেদ। আরও রয়েছে ওয়েস্টার্ন রিনিউঅ্যাবল এনার্জি, ভিনসেন কনসালট্যান্সি, দ্য ইমপেরো প্রপার্টিজ, ভিনসেন জিটেক লিমিটেড, ওয়েস্টার্ন ড্রেজেটেক প্রাইভেট লিমিটেড।

পাউবোর একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা রকম অনিয়ম দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরও নতুন প্রকল্পের ঠিকাদারি পেতে বেগ পেতে হয় না বশির আহমেদের। কারণ ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তা ছাড়া পাউবোর ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গেও রয়েছে তার নিবিড় যোগাযোগ।

জানা গেছে, এ মুহূর্তে সারাদেশে ৩৩টি প্রকল্পের কাজ করছে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তালিমনগর ড্রেনেজ ও সেচ পাম্প হাউস নির্মাণ, মেঘনার তীরে রামগতি ও কমলনগরে বাঁধ সংরক্ষণ, চরফ্যাসন পৌরশহর রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ, তজুমদ্দিন উপজেলা সদরে নদীতীরে বাঁধ নির্মাণ, যমুনার ভাঙন থেকে গাইবান্ধা ও ফুলছড়ি রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নতকরণ, ফেনী-নোয়াখালী চার লেন সড়ক নির্মাণ, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন, বাঁকখালী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ড্রেনেজ ও সেচ, গজারিয়া ৩৫০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্টের ভূমি উন্নয়ন, মেলান্দহে শেখ হাসিনা টেক্সটাইল কলেজ নির্মাণ, মাদারগঞ্জে শেখ হাসিনা স্পেশালাইজড জুট টেক্সটাইল মিল নির্মাণ, গাজীপুরে ৩৫ হাজার প্রিপেইড মিটার সরবরাহ প্রকল্প।

এ ছাড়া আরও অন্তত ১২টি প্রকল্পের ঠিকাদারি পাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং, চাঁদপুরে নতুন পাম্প হাউস নির্মাণ কাজ, কক্সবাজারের পেকুয়ায় পাওয়ার প্লান্টের ভূমি উন্নয়ন, সিলেট বিভাগে টেক্সটাইল কলেজ নির্মাণ, চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদী খনন, ভোলার বিভিন্ন নদী খনন, বরিশালের লেবুখালী ক্যান্টনমেন্টে ভূমি উন্নয়ন কাজ।

বাস্তবায়িত প্রকল্পে যত গলদ :কুষ্টিয়ার শিলাইদহে কুঠিবাড়ি এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির বাস্তবায়িত প্রকল্পের খোঁজ নিলে জানা যায়, কাজ শেষ হওয়ার বছর না ঘুরতেই দুই দফায় প্রায় দেড়শ’ মিটার বাঁধ চলে যায় পদ্মার পেটে। ফলে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগও ভেস্তে যেতে বসেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জনপ্রতিনিধিরাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার থেকে শুরু করে গোটা প্রকল্পে নয়ছয় করার অভিযোগ তোলেন। দুই কোটি টাকা জরিমানাও করা হয় এ প্রতিষ্ঠানকে।

২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর বগুড়া সফরে গিয়ে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার মধ্যে ছিল সারিয়াকান্দি উপজেলাধীন কুর্নিবাড়ী-কুতুবপুর-রহদহ-কামালপুর এলাকায় যমুনা নদীর ডান তীরে বিআরই বিকল্প বাঁধ নির্মাণ কাজ, অন্তরপাড়া, দড়িপাড়া এবং পাশের এলাকায় যমুনা নদীর ডান তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংরক্ষণ প্রকল্প। এটিও বাস্তবায়ন করে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং। তবে উদ্বোধনের পরের বছরই শুরু হয় ভাঙন।

ঝালকাঠির সুগন্ধা, গাবখান ও ধানসিড়ি নদীর মোহনায় জেগে ওঠা চরের কারণে জলযান চলাচল একমুখী হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বেগ পেতে হয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নির্মাণসামগ্রী সরবরাহে। সে জন্য গত বছর চ্যানেলের প্রস্থ বাড়ানো এবং চর অপসারণের উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রকল্পের কাজ পায় ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং।

জানা যায়, নদীর মোহনায় কিছু চর কেটেই পুরো প্রকল্পের অর্থ লোপাট করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে চ্যানেল আগের মতোই একমুখী রয়েছে।

কমলনগরে মেঘনার তীরে সরেজমিন দেখা যায়, প্রায় ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনার তীরে এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই বাঁধের ১০০ মিটার চলে যায় নদীতে। এর ফলে বাকি কাজ নিয়েও দেখা দেয় শঙ্কা। পরে অবশ্য ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে পুনরায় ব্লক ফেলে মেরামত করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণেই বাঁধের কাজ টেকসই হয়নি। প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী নদীর ভেতরে ৪৫ মিটার জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও যথাযথভাবে ব্লক স্থাপনের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে কাজটি শেষ করে।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর ওপর ৩২ কোটি টাকার রাবার ড্যাম প্রকল্পও বাস্তবায়ন করে প্রতিষ্ঠানটি। দুই বছর পার হওয়ার আগেই খুলে যায় ড্যামের রাবার। ওই ড্যাম এখন কোনো কাজেই আসছে না।

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের রাজঘাট এলাকায় তিন কোটি ৮২ লাখ টাকার ৪১৪ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ করে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং। স্থানীয়রা জানান, বাঁধের ওপরে চলাচলের রাস্তা ১২ ফুট প্রশস্ত হওয়ার কথা থাকলেও করা হয়েছিল চার থেকে আট ফুট। বসানো হয়েছিল নিম্নমানের ব্লক। ফলে নির্মাণ শেষ করার মাত্র এক বছরের মধ্যেই বিলীন হয় যায় বাঁধটি।

গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার চারটি পয়েন্টে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের কাজ শুরু হয় গত বছরের জুনে। ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে চার কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ পায় ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং। কিন্তু শুরু থেকেই কাজ নিয়ে গড়িমসি শুরু করলে পাউবো প্রকল্প বন্ধ করে দেয়।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াকৈর-বাঁশতলী আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করছে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সড়কের প্রায় সাত কিলোমিটার উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজের শুরু থেকে বালুর পরিবর্তে মাটি এবং নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। কাজ শেষ হওয়া অংশ গত বর্ষায় ভেঙে যায়। এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভের মুখে যদিও ভাঙা অংশ পুনরায় মেরামত করে দেওয়া হয়, কিন্তু পুরো সড়ক উন্নয়নের কাজ টেকসই না হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ।

কৃতজ্ঞতা: দৈনিক সমকাল

দেশে বিদেশে আরও সংবাদ

ঢাকায় গোল টেবিল বৈঠক: ১২ নভেম্বর ’উপকূল দিবস’ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রস্তাবনা

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: ৮ কমিউনিটি রেডিও’র ১৭৬ ঘন্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচার

ঢাকায় লক্ষ্মীপুরের এক কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

৩য় বার ইউনিসেফের মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন রফিকুল ইসলাম মন্টু

শুধু কমলনগরেই নয়, দেশের বহু প্রকল্পেই ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং’’ এর ব্যাপক অনিয়ম

ফেসবুক পোস্ট নিয়ে ভোলা রণক্ষেত্র: নিহত চারজন, আহত অর্ধশত

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৯
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]