১৪দিন ধরে অন্ধকারে রামগতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রোগীদের দূর্ভোগ

শাকের মোহাম্মদ রাসেল
মেঘনা নদীর ভাঙনে খুঁটি উপড়ে ফেলায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ ছাড়াই চলছে স্বাস্থ্য সেবার কাজ। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পুরো হাসপাতালের কার্যক্রম যেমনিভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। তেমনি ব্যহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবার কাজ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই মেঘনা নদীর ভাঙনে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে বিতরণ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে হাসপাতালটিতে বিদ্যুৎ নেই। নেই কোন বড় জেনারেটর কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা। ফলে হাসপাতালে প্যাথলজিক্যাল কোন পরীক্ষ-নিরীক্ষার কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। এতে করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
হাসপাতালের সেবিকা শিবানী বিশ্বাস জানান, বিদ্যুতের অভাবে পানির সরবরাহ বন্ধ থাকায় পানির অভাবে রোগীর বমি ও পায়খানা পরিষ্কার করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। চিকিৎসা শেষ না হতেই ভর্তি হওয়া রোগীরা হাসপাতাল ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত দুই মাসের শিশু ইশরাত জাহানের মা রিনা বেগম জানান, দ্বীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালে বিদ্যুত না থাকায় খুব কষ্টে রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আতাউর রাব্বী জানান, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া যাচ্ছে না।
জেলা সিভিল সার্জন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া জানান, মেঘনার ভাঙ্গনের ফলে বিদ্যুতের খুঁটি সরে নেয়া হয়, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সাথে বার বার যোগাযোগ করা হয়েছে, খুঁটি বসানো হয়েছে শুধু তার টেনে বিদ্যুত সংযোগের বাকি। আমা করি অচিরেই বিদ্যুতের সমস্যসা সমাধান হবে।
পল্লী বিদ্যুতের রামগতি আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) দিলীপ চৌধুরী জানান, গত মাসে উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙনে হাসপাতালসহ উপজেলার দক্ষিণ ও পূর্ব অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় আট কিলোমিটার নতুন লাইন তৈরি করে বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল এলাকায় মেঘনার ভাঙন অব্যাহত থাকায় গত ২৭ জুলাই বিকল্প সরবরাহ লাইনের একটি খুঁটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরবরাহ লাইন সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুয়ায়ী ওই ব্যয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বহন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।