সব কিছু
লক্ষ্মীপুর মঙ্গলবার , ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ৪ঠা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ভোটারদের ভাবনা থামবে যেসবে

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ভোটারদের ভাবনা থামবে যেসবে

আগামি ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থনের বাহিরে সাধারণ ভোটাররা নিজেদের ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় খুঁজে দেখবেন, আছে তাদের নানা ভাবনা। ভোটারদের সে রকম ভাবনা নিয়ে গতকাল ‘‘ লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে যে চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কেন্দ্রে যাবে ভোটাররা ‘’ এ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাতে পাঠকদের বিপুল সাড়ার কারণে আজ এর দ্বিতীয় কিস্তি প্রকাশিত হলো।

লিখেছেন, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সারোয়ার মিরন:

আজকের এ পর্বে এমন কতগুলো জনগুরুত্বপূর্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করবো যে সব বিষয় গুলোই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন সচেতন নাগরিক এবং ভোটার হিসেবে অবশ্যই আপনাকে ভাবাবে। ভাবতে হবে। ভোটার হিসেব রামগতি-কমলনগরে উন্নয়নে ইশতেহারসহ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে অবশ্যই রাখতে হবে।

রামগতি-সূবর্নচর সংযোগ সেতু সংষ্কার:
রামগতি উপজেলার সাথে নোয়াখালী জেলার সুবর্নচরের যোগাযোগের সংযোগ সেতু হিসেবে পরিচিত ভুলুয়া নদীর উপর নির্মিত বেইলি সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে প্রায় অর্ধযুগ সময়। বছর চারেক হতে চললো ধসে গেছে দু পাশের সংযোগ রাস্তার মাটিও। সেতুর পাটাতন গুলো ভেংগে ভেংগে নিচে পড়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে লক্ষ্মীপুর এবং নোয়াখালীর সংযোগকারী একমাত্র সড়কটির। বর্তমানে এটি এলাকাবাসীর জন্য মরনফাঁদে পরিনত হয়েছে এ সেতু। রামগতি উপজেলার পূর্ব সীমানা ও নোয়াখালী জেলার সূবর্নচর উপজেলার পশ্চিম সীমানায় ভুলুয়া নদীর উপর ২০০০ সালে প্রায় দুইশ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মান করা হয়। নির্মানের তিন বছরের মাথায়ই ভুলুয়ার করাল ¯্রােতে দু পাশের সংযোগ সড়কের মাটি ধসে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের অনুপযোগী থাকায় সেতুর পাঠাতন গুলো মরিচায় ঝরে পড়ে নদীতে। স্থানীয় প্রসাশন সহ বিভিন্ন পক্ষ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও সেতুটি সংষ্কারের ব্যবস্থা করতে পারেন নি।

রামগতি-হাতিয়া উপজেলার সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি:
স্বাধীনতার পর থেকেই লেগে আছে সীমানা বিরোধ। রামগতি উপজেলা এবং নোয়াখালী জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার স্থল এবং জল সীমানা নিয়ে এর বিরোধ মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে প্রায় এক যুগ আগ থেকেই। গতো কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার সীমানা বিরোধ নিয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামার মতো ঘটনা ঘটেছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে অপহরন হয়েছে সাংবাদিক। হতাহতের বহু ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের তালিকায় খোদ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যও রয়েছে। বন্ধ হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সর্বপোরি রামগতি এবং হাতিয়ার সীমানা বিরোধ নিয়ে দু পক্ষের লোকজনই রয়েছে মুখোমুখি অবস্থানে। রামগতি উপজেলার তেগাছিয়া বাজারে রামগতি থানার অধীনে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনকে কেন্দ্র করেও সংঘর্ষ হয়েছে। পরে সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। কয়েকদিন পর পর তুচ্ছ কারনেই এ সীমানা বিরোধ সংঘর্ষে রুপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ বিরোধ চলমান থাকলেও দুটি উপজেলার কোন পক্ষই এ বিরোধের স্থায়ী সমাধানে জোরালো কোন পদক্ষেপ নেন নি।

ভুলুয়া নদী রক্ষা:
অস্তিত্ব সংকটে এক সময়ের প্রমত্তা ভুলুয়া নদী। এ নদীর রামগতি এবং কমলনগর উপজেলা অংশের বিভিন্ন স্থানে কতিপয় ভূমি খেকো অসাধু ব্যবসায়ী নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের তৈরি করায় কোন কোন স্থানে নদী হয়ে পড়েছে মৃতপ্রায়। এছাড়াও দুপাশে অবৈধ দখলদারিত্বে ঘর বাড়ি দোকান পাট নির্মানসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মান করায় অনেকটাই গতি পথ বিচ্ছিন্ন এ নদী। প্রায় ৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৮৫মিটার প্রস্থের এ যৌবনা নদীর কোন কোন স্থানে গ্রীষ্ম মৌসুমে চাষাবাদ করা হয় কৃষি ফসলের। রামগতি উপজেলার নোমানাবাদ গ্রাম সংলগ্ন পশ্চিম পাশে গতো বছর শুকনো নদী থেকে ইটভাটার জন্য মাটি কাটতেও দেখা গেছে। সে অংশে নদীর কোন অস্তিত্বই বোঝা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আসম আবদুর রব মন্ত্রী থাকাকালীন একবার নদীটি খনন করা হয়েছে। বছর বিশেকের ব্যবধানে নদীটি এখন আবার মৃতপ্রায়।

মেঘনায় নৌ দস্যূ উৎপাত:
রামগতি-কমলনগরের মোট জনসংখ্যার বিরাট একটা অংশ মৎস্যজীবী। এটি এ অঞ্চলের মানুষের দ্বিতীয় প্রধান পেশা। প্রমত্তা মেঘনায় ভেসে ভেসে জীবন জীবীকা নির্বাহ করে। জীবীকা নির্বাহে দিনকে দিন পড়ে থাকতে হয় নদীর বুকে। বেঁচে থাকার রসদ যোগানো এ নদীতেই নানামুখী সংকটে পড়তে হয় জেলেদের। নৌ ডাকাতের আক্রমনে মৃতের ঘটনা এখানকার নিত্য দিনের সংবাদ। আক্রমনের শিকার হওয়াদের দু একজন ভাগ্য গুনে বেঁচে ফিরলেও সহায় সম্বল হারিয়ে নি:স্ব জীবন যাপন করছেন। ক্রসফায়ার, গ্রেফতারসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতায় নৌ দস্যুর উৎপাত খানিকটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। প্রতিনিয়তই মেঘনার কোলে ভেসে ওঠে লাশ। খোঁজ মেলেনা অনেকেরই। কতিপয় বাহিনীর নামে বিশাল নৌ অঞ্চলে সংগঠিত হয় ডাকাতি। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে হারিয়ে অনেককেই নি:স্ব জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

বিনোদন স্পটের অপ্রতুলতা:
মেঘনার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চল থাকলেও পর্যটনের জন্য কোন স্থান সেভাবে গড়ে ওঠেনি রামগতি-কমলনগরে। নেই সুস্থ বিনোদনের কোন মাধ্যমও। ইতিমধ্যে মেঘনার ভাংগন রোধে সাত কিলোমিটার পাথর ব্লক বাঁধ হলেও তাকে ঘিরেও কোন পর্যটন স্পট স্থাপনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয় নি। রামগতি-কমলনগরের কয়েকটি সম্ভাবনাময় পর্যটন স্থান হলো: মেঘনার বেড়ি বাঁধ, টাংকি স্লুইস গেট, বয়ারচর, মতিরহাট, চরগজারিয়া। এ স্থান গুলোকে সামান্য উদ্যোগেও করা যেতে পারে মনোরম বিনোদন স্পট। পর্যটকদের আকর্ষনের জন্য করা যেতে যেতে পারে হোটেল মোটেলও। স্থানীয় রামগতি উপজেলা চত্ত্বরের দক্ষিনে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার বেড়ি বাঁধের ঢালসহ আসপাশে সরকারি উদ্যোগে করা যেতে পারে পর্যটন স্পট। এছাড়া মেঘনার কোলে জেগে ওঠা বিচ্ছিন্ন চর গুলোও হতে পারে সম্ভাবনাময় নতুন ক্ষেত্র। রামগতি উপজেলার প্রানকেন্দ্র বলে পরিচিত রামগতি পৌরসভা গঠনের আঠারো বছর পার হলেও নেই কোন শিশু পার্ক কিংবা বিনোদন স্পট। কমলনগরের হাজীরহাটও যথেষ্ট সম্ভাবনাময় স্থান বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

চলবে…..

লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

সংসদ নির্বাচন আরও সংবাদ

লক্ষ্মীপুরের ৪ আসনে ২৪

লক্ষ্মীপুরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন যারা

যে ৫ আসনে নির্বাচন করছে আ স ম রবের জেএসডি

লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনে দু‘জোটের যে ৮ জন চুড়ান্ত

লক্ষ্মীপুরে বিএনপির চুড়ান্ত প্রার্থী এ্যানী, রায়পুরে খায়ের ভূইঁয়া

নৌকায় লড়বেন মেজর (অব.) মান্নান, ধানের শীষে রব

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: news@lakshmipur24.com