সব কিছু
লক্ষ্মীপুর বুধবার , ২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং , ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

রামগতি-কমলনগরে কবজায় রাখতে চায় আ. লীগ বিএনপির লক্ষ্য পুনরুদ্ধার

রামগতি-কমলনগরে কবজায় রাখতে চায় আ. লীগ বিএনপির লক্ষ্য পুনরুদ্ধার

কাজল কায়েস: মেঘনাপারের জনপদ রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আসনটি হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না। আর ভেদাভেদ ভুলে জয়ে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠছে বিএনপি। এ ছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলও (জেএসডি) মাঠে তৎপর। বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।

আরো পড়ুন: লক্ষ্মীপুর সদরে আ. লীগের ভরসা উন্নয়ন বিএনপির পুঁজি প্রতীক

                     রায়পুরে আ. লীগের ভয় জাপা নড়বড়ে ‘খালেদার ঘর’

                     রামগঞ্জ আসনে ফুরফুরে আ. লীগ অস্বস্তিতে বিএনপি 

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের প্রথম নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ২৭৭ নম্বর নির্বাচনী এলাকাটিতে বিজয়ী হন বিএনপি নেতা আবদুর রব চৌধুরী, ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি আবার সংসদ সদস্য হন। ওই বছরের ১২ জুনের নির্বাচনে বিজয়ী হন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের মো. আবদুল্লাহ। আগামী নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের শক্ত প্রার্থী।

একাত্তরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী চার নেতার একজন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়িয়েছেন। তিনি সাবেক মন্ত্রীও। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও সাম্প্রতিককালে এলাকায় আসা-যাওয়া বাড়িয়ে দেওয়ায় দলটির অনুসারীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীরাও রাজনীতি সক্রিয় হয়ে উঠছে।

রব বলেন, ‘আমি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। এমন নির্বাচন চাই, যেখানে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। রক্তারক্তি আর খুনাখুনি হবে না। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে। ভোটকেন্দ্র সবার জন্য সুরক্ষিত থাকবে।’

আওয়ামী লীগ : ক্ষমতায় থাকলেও রামগতি ও কমলনগরে সাংগঠনিকভাবে পাকাপোক্ত নয় আওয়ামী লীগ। তবে ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে সংসদ সদস্য সংগঠনের দিকে নজর দিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রামগতিতে আওয়ামী লীগ, এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলন হচ্ছে না। সর্বশেষ ২০০৩ সালের ২৩ এপ্রিল উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি হয়েছিল। এরই মধ্যে ওই কমিটির সভাপতি গোলাম মাওলা চৌধুরীসহ অন্তত ১৫ জন নেতা মারা গেছেন। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বাকিরা সব রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। সক্রিয় যাঁরা তাঁরাও বিভক্ত হয়ে ব্যক্তিগত কার্যালয়কেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে সাধারণ নেতাকর্মী ও কর্মী-সমর্থকরা হতচ্ছাড়া অবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামগতিতে এখন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ও নেই। আলেকজান্ডার বাজারে খাদ্য গুদামের পাশে একটি কার্যালয় থাকলেও দুই বছর ধরে সেখানে একটি খাবারের হোটেল (ভাণ্ডারী হোটেল) চলছে। অথচ ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে আলেকজান্ডার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের অত্যাধুনিক কার্যালয় ছিল। তখন রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের পদচারণে জমজমাট থাকত কার্যালয়।

রামগতি উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন হেলাল বলেন, ‘দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সম্মেলন না হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। দলকে বিজয়ী করতে হলে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক তৎপরতা বাড়াতে হবে, সেটিতে আমরা পিছিয়ে আছি।’

সার্বিক বিষয়ে রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বলেন, ‘ব্যাপক উন্নয়নের কারণে আমাদের সরকারের জনসমর্থন বেড়েছে। কমলনগরে দলের ভেতরে নেতাদের মধ্যে কিছুটা মনোমালিন্য থাকলেও রামগতিতে তা নেই। এখানে আমরা সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত। দলীয় কার্যালয় নেওয়ার জন্য ঘর দেখা হচ্ছে। শিগগিরই এ সংকট কেটে যাবে।’ তবে কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম নুরুল আমিন রাজু বলেন, ‘আগে আমাদের মধ্যে বিভক্তি ছিল; কিন্তু ছয় মাস ধরে আমরা ঐক্যবদ্ধ।’

এদিকে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিট চান দলের জেলা কমিটির নেতা ও সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ঢাকা মহানগর (উত্তর) যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজভীরুল হক অনু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান, কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. শামছুল কবির ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির সহসম্পাদক মোহাম্মদ আবদুজ্জাহের সাজু।

সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় গত সাড়ে চার বছরে প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ চলমান। রামগতি ও কমলনগরে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ অবকাঠামোর উন্নয়নের সুফল জনগণ ভোগ করছে। এতে সরকার ও আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ছে। আমাকে আবার মনোনয়ন দিলে জনগণ তাদের আস্থা ও বিশ্বাস থেকে শেখ হাসিনাকে আসনটি উপহার দেবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার নেতৃত্বে দল সংগঠিত এবং অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি শক্তিশালী। আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।’

ফরিদুন্নাহার লাইলী সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সরকারের সাফল্য ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন। তিনি বলেন, ‘রামগতি ও কমলনগরের মানুষ আগে উন্নয়নবঞ্চিত ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারই এ জনপদে উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমি তাদের বিপদে-আপদে পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।’

তাজভীরুল হক অনু বলেন, ‘রামগতি-কমলনগরকে রক্ষা করতে সরকার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দে কাজ করিয়ে হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ ও কয়েক শ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করেছে। শুধু এখানেই নয়, সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে আশাতীত উন্নয়ন হয়েছে। এ জন্য জনগণ আজীবন শেখ হাসিনাকে মনে রাখবে। আমি এ আসনের মানুষের পাশে সব সময় থাকতে চাই।’

আবদুজ্জাহের সাজু বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের সব আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। নদীভাঙন রোধসহ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চাইব।’

বিএনপি : দলটির নেতাকর্মীদের দাবি, পুলিশের হয়রানি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলা-মামলার কারণে তারা প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। নানা সীমাবদ্ধতা ও চাপের মুখে বিভিন্ন সময় আশরাফ উদ্দিন নিজান ও শফিউল বারী বাবু এলাকায় এসে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে তৎপরতা চালিয়েছেন। দলের নেতাদের ভাষ্য মতে, আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিএনপির আমলে আশরাফ উদ্দিন নিজান সংসদ সদস্য হয়ে রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন করেছেন। দল থেকে যাঁকে টিকিট দেওয়া হবে, তাঁকে বিজয়ী করতে ভেদাভেদ ভুলে নেতাকর্মীরা সবাই কাজ করবে।

বিএনপি থেকে রামগতি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সৈয়দ মোহাম্মদ শামছুল আলম ও কেন্দ্রীয় তাঁতী দলের সহসভাপতি আবদুল মতিন চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। শফিউল বারী বর্তমানে কারাবন্দি থাকলেও তাঁর অনুসারী নেতাকর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনী যোগাযোগ রাখছে।

আশরাফ উদ্দিন নিজান সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালেদা জিয়া সরকারের নীলনকশার কারণে কারাবন্দি। এখন নেত্রীর মুক্তি ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা করছি না। তারেক রহমান দলের দায়িত্বে আছেন। দল নির্বাচনে যাবে কি না, গেলে কী করতে হবে তিনি (তারেক রহমান) যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেভাবেই কাজ করব।’

বিনা খরচে দলের দলের নেতাকর্মীদের মামলা পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ শামছুল আলম। প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ জেলা বিএনপিরও সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অসহায়দের আর্থিক অনুদান দিয়ে ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’

আবদুল মতিন চৌধুরী বলেন, ‘গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য খালেদা জিয়া আন্দোলন করতে গিয়ে এখন কারাগারে আছেন। নির্বাচন এখন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আমি তৃণমূলের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি। রামগতি ও কমলনগরের মানুষের সেবা করার জন্যই আমি কাজ করব।’

সংসদ নির্বাচন আরও সংবাদ

আওয়ামী লীগ ও তরিকতের মনোয়ন চান লক্ষ্মীপুরের আওয়ামীলীগ নেতা

লক্ষ্মীপুরে কোন আসনে ভোটার কত ?

লক্ষ্মীপুর-৩ থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন আরিফ

লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ক্রেতা যে ৬২ জন

লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনে বিএনপির মনোনয়ন কিনলেন যারা

এমপি হতে যে যোগ্যতা লাগে

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: news@lakshmipur24.com