সব কিছু
লক্ষ্মীপুর মঙ্গলবার , ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং , ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

উপজেলা নির্বাচন: রামগতিতে নতুন হিসেব নিকাশ

উপজেলা নির্বাচন: রামগতিতে নতুন হিসেব নিকাশ

nirbachonসারোয়ার মিরন: আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বহুমুখী খেলায় জমবে রামগতি উপজেলা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আঠার দলীয় জোটের বর্জন করা ও আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে আবদুল্লাহ আল মামুন নির্বাচিত হওয়ায় সম্পূর্ন পাল্টে গেছে উপজেলা নির্বাচনের গোটা চিত্র। সেই সাথে আজাদ উদ্দিন চৌধুরীর সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন এবং শরাফ উদ্দিন সোহেল কে উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ তথা প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করায় দারুন ভাবে প্রভাব ফেলবে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে।
আজাদ উদ্দিন চৌধুরী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিবেন কিনা এব্যাপারে সন্দেহ থাকলেও তার স্ত্রী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রোকেয়া আজাদ প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। প্রার্থী হিসেবে আরো আছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ এবং বিএনপি থেকে সম্প্রতি বহিষ্কৃত সাবেক উপজেলা চেয়াম্যান পদপ্রার্থী শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা কমিটির সদস্য ডা: রেদোয়ান উল্লাহ সাহেদীও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। তার প্রার্থী হবার ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত হলেও জামায়াত নেতা কর্মীদের মাঝে রয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা। তিনি প্রার্থী হলে জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী বলে জানিয়েছেন অনেক জামায়াত কর্মী। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে আবদুল ওয়াহেদ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার প্রচারনা। তার কর্মী সমর্থকের মাঝেও রয়েছে ব্যাপক উতসাহ উদ্দীপনা। বিশেষ করে রামগতি বাজারে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কার্যালয়ে চলে দিনভর নেতা কর্মীদের মূখর পদচানরা। কথিত আছে উপজেলা নির্বাচন করার জন্যই তিনি আবদুল্লাহ আল মামুনের জন্য সংসদ নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে সিক্রেট প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সদস্য প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মোজাহিদুল ইসলাম জসিম। তবে জোটের নির্বাচনে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতা হলে দু দলের যে কোন একজন এ পদে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে। অনলাইন নির্ভর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইটে মোজাহিদুল ইসলাম জসীমকে এ পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারনা চালাতে দেখা গেছে। তার প্রার্থী হওয়ার বিষয় বা চেয়ারম্যান পদে বিএনপি কে জামায়াত কতোটা ছাড় দিবে সে ব্যাপারেও রয়েছে বেশ অস্পষ্টতা। তবে আলোচনা না থাকা আলেকজান্ডার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বিএনপি থেকে প্রার্থী হচ্ছেন বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। জামায়াতও তার ব্যাপারে ছাড় দিতে রাজী আছে বলে জানা গেছে। এ দুটি দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে একক প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে এ দুটি দলের প্রার্থীদের জেতা কঠিন হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। সাথে যুক্ত হবে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাথে তীব্র গ্রুপিং। অর্থাত উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে জোট সংকটে পতিত রামগতি উপজেলা জামায়াত-বিএনপি। অন্য দিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মধ্যেও প্রার্র্থী হওয়া নিয়ে আছে বেশ টানা পোড়ন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবদুল্লাহ আল মামুনের হয়ে সক্রিয় ভাবে কাজ করা শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল চেয়ারম্যান হিসেবে প্রার্র্থী হতে চাইলেও বিএনপি থেকে আসা সোহেল কে কতটা মেনে নিবেন তৃণমূল আওয়ামীলীগ তাও দেখার বিষয়। শোনা যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচনে সোহেল কে সমর্থন করবেন বলে কথা দিয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন তার নির্বাচনে তাকে ব্যবহার করেছেন। মূলত এ কারনেই আওয়ামীলীগের মূলধারা ও অতিথি প্রার্থীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হদে পারে। তবে প্রার্থী যে কেউ হলেও কেন্দল বা বিদ্রোহী প্রার্থী যে থাকবেন তা এক প্রকার নিশ্চিত। কেননা এ পদে শক্ত প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে আছেন আওয়ামীলীগের উপজেলা সাধারন সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ। নিজেকে আওয়ামীলীগের কর্মী দাবি করে নিজে প্রার্থী না হলেও ছেলে অথবা স্ত্রী রোকেয়া আজাদকে প্রার্থী করাবেন আজাদ উদ্দিন চৌধুরী। আর এতে কঠিন প্রতিদ্বন্ধীতার মুখে পড়তে হবে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে। কেননা বিগত সংসদ নির্বাচনে দেখা গেছে আওয়ামীলীগের বিরাট একটি অংশ আজাদ উদ্দিনকে সমর্থন করছেন। অনেকে বিশ্বাস করেন স্ত্রী রোকেয়া আজাদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও উপজেলার বিভিন্ন প্রসাশনিক কাজে অবৈধ নিয়ন্ত্রন ছিলো আজাদ উদ্দিন চৌধুরীর হাতে। আর এ কারনেই রোকেয়া আজাদের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে কারো নাম শোনা না গেলেও জামায়াত বিএনপি জোটের মধ্যে সমঝোতা হলে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ডা: মোসলেহ উদ্দিনকেই এ পদে প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে। সমঝোতা হলে নতুন কোন মুখকেও দেখা যেতে পারে এ পদে। উপজেলা জুড়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীদেও নিয়ে আলোচনা সমালোচনা এবং চায়ের কাপে ঝড় উঠলেও ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাউকে আগ্রহী হতে দেখা যাচ্ছেনা। অনুসন্ধানে জানা যায় উপজেলা পর্যায়ে এ দুটি পদেও তেমন কোন গ্রহন যোগ্যতা না থাকায় এ নিয়ে তেমন কারো আগ্রহ নেই। তবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমানে আসীন শাহনাজ কাজল প্রার্থী হবেন না বলে জানা গেছে। দুটি ভাইস চেয়ারম্যান পদে আসতে পারে বেশ কিছু নতুন মুখ।তবে চেয়ারম্যান পদে ঘুুরে ফিরে সেই পুরোনো মূখসহ বেশ কয়েকজন নতুন মুখের দেখা পেতে পারে রামগতিবাসী।
জোটসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে বড়ো ধরনের কোন পরিবর্তন না হলে আলোচ্য বিষয় এবং উল্লেখিত মুখ থেকেই রামগতিবাসী পাবেন তাদের কাংক্ষিত উপজেলা চেয়ারম্যান। এখন সময় কেবল অপেক্ষার।

রামগতি আরও সংবাদ

১৯ জানুয়ারি ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন রামগতিতে অবহিতকরণ সভা

লক্ষ্মীপুরে নৌকা মার্কার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে লিফলেট হাতে লাইলীর গণসংযোগ

বিজয় দিবসে রামগতিতে শিশু কিশোরদের মুগ্ধকর কসরত

রামগতির কলাকোপা মাদরাসার মোহতামিম মুফতি আবু বকর আর নেই

নৌকা বিজয় হলে মেঘনার ভাঙন রোধে দ্রুত কাজ করা হবে: মেজর অব: মান্নান

নির্বাচনকে ঘিরে লক্ষ্মীপুরে মাইক সার্ভিস ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]