সব কিছু
লক্ষ্মীপুর বুধবার , ১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং , ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

ইয়াবায় ভাসছে রায়পুর

ইয়াবায় ভাসছে রায়পুর

রায়পুর: মরণ নেশা ইয়াবা। প্রথমে প্রবেশ করে উচ্চবিত্ত পরিবারে। পরে মধ্যবিত্ত পরিবারের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আসক্ত হচ্ছেন এ ভয়াবহ নেশায়। অভিজাত নেশাদ্রব্য হিসেবে পরিচিত ইয়াবায় এখন ভাসছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা। মেথঅ্যাম্ফিটামিন ও ক্যাফেইনের মিশ্রণে তৈরি ইয়াবা ট্যাবলেট কেড়ে নিচ্ছে এখানকার তারুণ্যকে। মাধ্যমিক ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, রিকশাওয়ালা, তরকারিওয়ালা, বাজারের আড্ডাবাজ ও বখে যাওয়া তরুণ আর শিশুরাও আসক্ত হয়ে পড়ছে এ মরণ নেশায়। মাদক বিক্রেতাদের নাম পরিচয় সবার কাছে ওপেন সিক্রেট হলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ও রয়েছে। এতে শুধু অভিভাবকরাই নয় বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যদের মাঝেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিশেষ করে রাজধানীর চামেলীবাগে মর্মস্পর্শী ঘটনার পর ইয়াবা তথা মাদক নিয়ে সংশ্লিষ্টরা নড়েচড়ে উঠেছেন। অনুসন্ধানে শহরের অর্ধশতাধিক স্থানে মাদকদ্রব্য বিক্রির তথ্য মিলেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সূত্র জানায়, উপজেলার বাসস্ট্যান্ড, জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, মুড়ি হাটা সংলগ্ন আখড়া, মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকা, মুচি হাটা, পোস্ট অফিস সংলগ্ন ওয়াপদা কলোনি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার্কশপ এলাকা, নতুন বাজার, গোডাউন সংলগ্ন নদীর পাড়, পীর ফয়েজ উল্যা সড়কসহ প্রতিটি ইউনিয়নের ১০-১৫টি স্পটে জমজমাট মাদক ব্যবসা ও সেবন চলে। এছাড়াও সন্ধ্যার পর গ্রামের অন্ধকার রাস্তায় জমে ১৪ বছর বয়সী শিশু থেকে ৪০ বছরের তরুণদের ভিড়। গ্রামের কিছু বাড়িতে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করেই চলছে এ অবৈধ ব্যবসা। তবে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অসহায়ত্তের নানা চিত্র। এর মধ্যে সরকার দলীয় হস্তক্ষেপকে প্রধান কারণ বলে তারা উল্লেখ করেন। এছাড়া আকারে ছোট ও বহন সহজসাধ্য হওয়ায় পুলিশ বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেও এদের ধরতে পারেনি বলে তারা জানান। সূত্র জানায়, টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম হয়ে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস অথবা যাত্রীবাহী বাসযোগে জেলার রায়পুরে পৌঁছে যায় বহুল আলোচিত এ মাদক। রায়পুরে ২শ থেকে ৬শ টাকার মধ্যে মিলে প্রতি পিস ইয়াবা। আর সেভেন, শম্পা সুপার, ডব্লিউ ওয়াই ও জিপি ব্র্যান্ডের ইয়াবা রায়পুরে বেশি কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে সর্বাধিক দাম জিপির। এটি ৫শ থেকে ৬শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অপরদিকে শম্পা সুপার পাওয়া যায় ২শ থেকে ২শ ৫০ টাকার মধ্যে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার তরুণদের মানিব্যাগেই এখন থাকে ইয়াবা ট্যাবলেট, পোড়ানোর জন্য ফয়েল পেপার ও লাইটার। আর শিক্ষাঙ্গনের এ অঞ্চলের আবাসিক হলগুলোতেও এখন সহজলভ্য হয়ে উঠেছে ইয়াবা। এছাড়াও মোবাইল ফোনে নির্দেশনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট জায়গায় খুচরা বিক্রেতারা ইয়াবাসেবীদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী পৌঁছে দেয়। এক্ষেত্রে শহর এলাকায় তাদের নির্ধারিত কিছু রিকশাচালকও রয়েছেন। উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমকর্তা ডা. শিশির কুমার রায় বলেন, ইয়াবার রয়েছে প্রচণ্ড উত্তেজক ক্ষমতা। এটি ক্ষুধা ও ঘুম কমিয়ে দেয়। সেবনের পর থেকে বাড়তে থাকে ক্ষতিকর নানা উপসর্গও। তিনি জানান, সেবনকারীর শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়তে থাকে। মেজাজ খিটখিটে, গলা-মুখ শুকিয়ে ও প্রচণ্ড ঘাম আর গরমের অসহ্য অনুভূতি হয়। নাড়ির গতি, রক্তচাপ, দেহের তাপমাত্রা আর শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায়। রায়পুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপক কুমার সাহা বলেন, আমি এ থানায় মাত্র কয়েকদিন আগে যোগদান করি। তবে ইয়াবাসহ সকল মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ বেশ তৎপর রয়েছে।

রায়পুর আরও সংবাদ

ঢাকাস্থ রায়পুর যুবকল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি

রায়পুরে ডাকাতিয়া নদীর গলায় ফাঁসি !

রায়পুরে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ফেরাতে ব্যর্থ, যুবকের আত্মহত্যা

রায়পুরে শেষ সময়ে ঈদ বাজার জমজমাট

রায়পুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কুমিল্লা জেলার এক ফেরিওয়ালার মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]