সব কিছু
লক্ষ্মীপুর শুক্রবার , ২৪শে মে, ২০১৯ ইং , ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৮ই রমযান, ১৪৪০ হিজরী

লক্ষ্মীপুর জেলার ৩৫তম জন্ম বার্ষিকী আজ

লক্ষ্মীপুর জেলার ৩৫তম জন্ম বার্ষিকী আজ

সানা উল্লাহ সানু:: লক্ষ্মীপুর জেলার ৩৫তম জন্ম বার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর কে জেলা ঘোষণা দিয়ে এর উদ্বোধন করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক লেঃ জেনারেল হুসেইন মোঃ এরশাদ। এর আগে লক্ষ্মীপুর ছিল নোয়াখালী জেলার একটি উপজেলা।

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোরের গবেষণা বিভাগের সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর মেঘনা উপকূলীয় একটি জনপদ। চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত গ্রাম এ অঞ্চল কে সম্মৃদ্ধ করেছে। মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এ জনপদ নারিকেল, সুপারি, ইলিশ এবং সয়াবিনের জন্য পুরো দেশে বিখ্যাত। নদী ভাঙ্গা এ এলাকার প্রধান সমস্যা। ইংরেজ শাসনামলে এ জনপদের নামকরণ করা হয়।

বৃটিশ আমল থেকে শুরু করে সব কয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে রয়েছে লক্ষ্মীপুরের গুরুত্বপূর্ন ইতিহাস। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক কমরেড তোয়াহা এবং সানা উল্লাহ নূরীর জন্ম স্থান লক্ষ্মীপুরে। দেশের জাতীয় পতাকা যিনি সর্ব প্রথম উড়িয়েছেন সেই আ স ম আবদুর রবের জন্মভূমি এ লক্ষ্মীপুরে। ১৯৭১ সালে এখানেও ছোট বড় কয়েকটি যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ পাকিস্তানী শাসনের পরাধীনতা থেকে লক্ষ্মীপুর মুক্ত হয়। জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার ও  রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্লাহর জন্মস্থান লক্ষ্মীপুর। এভারেষ্ট পর্বত বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশী নারী নিশাদ মুজমদার, শত দেশ ভ্রমণকারী নারী নাজমুন নাহার সোহাগী লক্ষ্মীপুরের নাগরিক হিসাবে গর্ববোধ করেন।

কমরেড তোয়াহার হাতে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, মরহুম জমির আলীর হাতে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, আ স ম আবদুর রবের হাতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সাবেক জাসদ বর্তমানে জেএসডিসহ অন্তত ৫টি বাংলাদেশী রাজনৈতিক দলের জন্মদাতাদের জন্মভূমি লক্ষ্মীপুর। বর্তমানে বিশ্ব বিখ্যাত ইলিশের উৎপাদনস্থল এবং সয়াবিন উৎপানের স্বর্ণ রাজ্যের নামও লক্ষ্মীপুর। নারিকেল, সুপারি, ঘিগজ মুরি এবং মহিষের দই এ এলাকার ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে যুগযুগ ধরে। সে ঐতিহ্যগুলো শুধু লক্ষ্মীপুরের সম্পদই না, এগুলো বাংলাদেশের গর্বের সম্পদও বটে।

ইংরেজ আমলে ১৮৫০ সালের দিকে ফরাশগঞ্জ স্টীমারঘাট এলাকায় নোয়াখালির হাতিয়া থানার অধীন ফরাশগঞ্জ ফাঁড়ি থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে মেঘনার ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য বর্তমান সদর উপজেলার বাঞ্চানগরের দক্ষিণাংশে রহমতখালী নদীর পাড়ে ফরাশগঞ্জের সেই থানাকে স্থানান্তরিত করা হয়। এর নামকরণ করা হয় লক্ষ্মীপুর ফাঁড়ি থানা। ১৮৬০ সালে ইংরেজ কোম্পানী আমলে লক্ষ্মীপুর নামের থানাটি সর্ব প্রথম নোয়াখালীর একটি পূর্নাঙ্গ থানা হিসাবে ঘোষণা করা হয় । ১৯৭৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন  বাঞ্চানগর ইউনিয়ন কে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় রুপান্তরিত করা হয়। পরে এই পৌরসভাটির বর্তমান অবস্থায় বিস্তৃতি ঘটে। ১৯৭৯ সালের ১৯ জুলাই রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নিয়ে লক্ষ্মীপুর মহকুমা এবং একই এলাকা নিয়ে এরশাদ সরকারের সময় ১৯৮৪ সালের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর কে জেলা ঘোষণা করা হয় । ১৯৮৪ সালের ২৪ মার্চ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা গঠিত হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন এ জেলায় যুগযুগ ধরে বিদ্যমান।

এ লেখাটি কেউ কপি করতে চাইলে অবশ্যই লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোরের তথ্যসূত্র দিতে হবে Lakshmipur24.com

লক্ষ্মীপুর আরও সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে মরলো  খামারের সাত হাজার মুরগি

লক্ষ্মীপুরে গৃহবধূকে উদ্ধারে পুলিশকে নির্দেশ

রায়পুরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হায়দরগঞ্জে ভয়াবহ আগুন

কমলনগরে মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধে ব্যাপক ভাঙ্গন, এলাকাবাসীর মাঝে আতংক

রামগতিতে শারদাঞ্জলি ফোরাম’র ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প

চন্দ্রগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]