সব কিছু
লক্ষ্মীপুর শনিবার , ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

লক্ষীপুর

LakshmipurDistrictআচঁলে মেঘনার মায়া ডাকাতিয়া বুকে, রহমতখালি বয়ে চলে মৃদু এঁকে বেঁকে, নারিকেল সুপারি আর ধানে ভরপুর আমাদের আবাস ভূমি প্রিয় লক্ষ্মীপুর। নাম না জানা এক কবি তার কবিতার ৪টি পংক্তির মাধ্যমে লক্ষ্মীপুরের পুরো বর্ণনা দিয়েছেন।

কিন্তু বিস্তারিত লক্ষ্মীপুর কে জানতে হলে ঐতিহাসিক কিছু দলিল উপস্থাপন করতে হয়। ঐতিহাসিক সে দলিল এবং একাধিক তথ্য সূত্রের আলোকে লক্ষ্মীপুরের আধুনিক ইতিহাসের অনু সম্পাদনা করেছেন সানা উল্লাহ সানু।

ভুলুয়া থেকে নোয়াখালী হয়ে লক্ষ্মীপুরঃ

লক্ষ্মীপুর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভাগ চট্টগ্রামের অর্ন্তগত একটি জেলা। এটি আগে ভুলুয়া পরগনা বা নোয়াখালী জেলার অধীনে ছিল। পরে ১৯৮৪ সালের ২৮ ফ্রেবুয়ারী লক্ষ্মীপুর স্বতন্ত্র জেলা হিসাবে আত্ম প্রকাশ করে। কিন্তু লক্ষ্মীপুরের ইতিহাস খুজঁতে গিয়ে ঐতিহাসিকগণ প্রায় ৩০০ বছরের আগেকার ইতিহাস খুজেঁ পেয়েছেন।

১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজ উদ দৌলার পতনের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী তাদের রাজস্ব আদায়ের জন্য প্রাচীন ভুলুয়াকে ১৭৭২ সালে ঢাকার অধীন, ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মনয়মনসিংহের অধীন এবং ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে ত্রিপুরা রাজ্যের অধীনে নিয়ে যায়। পরে ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে ভুলুয়া পৃথক জেলার রূপ পায় এবং ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ভুলুয়া চট্টগ্রাম বিভাগের অধীনে চলে আসে। আর ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে এ ভূ-খন্ডের মধ্যবর্তী অঞ্চলে চাষাবাদ ও যোগাযোগের স্বার্থে একটি নতুন খাল খনন করা হয়। ঐ নয়া খালের গুরুত্ব বিবেচনায় ভুলুয়ার নামকরণ নোয়াখালী হয়। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতেও লক্ষ্মীপুর ভুলুয়া রাজ্যের অংশ ছিল।

লক্ষ্মীপু্ের থানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে। ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মীপুরে মুন্সেফী আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর ৫নং বাঞ্চানগর ইউনিয়ন লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়। অন্যদিকে রামগতি (১৮৮৩ খ্রিঃ), রামগঞ্জ (১৮৯১ খ্রিঃ) এবং রায়পুর (১৯৭৭খ্রিঃ) উপজেলা নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা গঠিত হয় ১৯৮৪ সালের ২৮ ফ্রেবুয়ারী। ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে রামগতি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে কমলনগর নামের আরো একটি উপজেলা গঠিত হয়।

সীমানা ও পরিমাপ ঃ

এ জেলার উত্তরে চাঁদপুর, পূর্বে নোয়াখালী, দক্ষিণ ও পশ্চিমে মেঘনা নদী এবং ভোলা, বরিশাল জেলা। মেঘনাবিধৌত এ জেলায় আরো ছোট কয়েকটি নদ আছে। বর্তমান লক্ষ্মীপুর রহমতআলী খালে (নদ) উভয় পাড়ে বাঞ্চানগর মৌজার দক্ষিণাংশ এবং সমসেরাবাদ ও মজুপুর মৌজার কতেক অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত একটি ছোট শহর। এ জেলায় ৪টি পৌরসভা, ৫৮টি ইউনিয়ন, ৫শ ১৪টি মৌজা ও ৪শ৭৪টি গ্রাম রয়েছে। জেলার মোট আয়তন ১৫৩৪.৭ বর্গ কি.মি। জিওগ্রাফিক্যাল লোকেশনে লক্ষ্মীপুর জেলা ২২০৩০’হতে ২৩০১০’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০০৩৮’ হতে ৯০০০১’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।

২০১১ সালের আদমশুমারী তথ্য অনুসারে জেলার জনসংখ্যা ১৭,২৯,১৮৮। গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুর এ অঞ্চলে আবহাওয়া মৃদু উষ্ণ ও আর্দ্র, সহনশীল তাপমাত্রা (সর্বোচ্চ ৩৪.৩০ সেঃ, সর্বনিম্ন ১৪.৪০ সেঃ) ও মাঝারি আকারের বৃষ্টিপাতের কারণে ( গড়ে ৩.৩০২ মি.মি.) এ অঞ্চল চ্ষাাবাদের জন্য উপযোগী।

লক্ষ্মীপুরের নামকরণ বিষয়ে কয়েকটি অভিমতঃ

কখন-কিভাবে লক্ষ্মীপুর নামকরণ হয়েছে তা নিয়ে কয়েকটি মত বেশ প্রচলিত রয়েছে। সবগুলো মতামতই তুলে ধরা হলঃ

অভিমত-১

লক্ষ্মী, ধন-সম্পদ ও সৌভাগ্যের দেবী (দূর্গা কন্যা ও বিষ্ণু পত্মী) এবং পুর হলো শহর বা নগর। এ হিসাবে লক্ষ্মীপুর এর সাধারণ অর্থ দাঁড়ায় সম্পদ সমৃদ্ধ শহর বা সৌভাগ্যের নগরী। ঐতিহাসিক কৈলাশ চন্দ্র সিংহ ‘রাজমালা’ বা ‘ত্রিপুরা’র ইতিহাস লিখতে গিয়ে তৎকালীন নোয়াখালীর পরগণা ও মহালগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন। এতে দেখা যায়, বাঞ্চানগর ও সমসেরাবাদ মৌজার পশ্চিমে ‘লক্ষ্মীপুর’ নামে একটি মৌজা ছিল। আজকের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর মৌজাই তৎকালীন লক্ষ্মীপুর মৌজা।

অভিমত-২

স¤্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজা আরাকান পলায়নের সময় ১৬২০ খ্রিস্টাব্দের ৬ মে ঢাক ত্যাগ করেন। তিনি ধাপা ও শ্রীপুর হয়ে ৯ মে ‘লক্ষ্মীদাহ পরগনা’ ত্যাগ করে ভূলুয়া দূর্গের ৮ মাইলের মধ্যে আসেন। ১২ মে ভূলুয়া দূর্গ জয় করতে না পেরে আরাকান চলে যান। সেই লক্ষ্মীদাহ পরগনা থেকে লক্ষ্মীপুর নামকরণ করা হয়েছে বলে কেউ কেউ ধারণ করেন। লক্ষ্মীপুর শহরের পূর্ব পাশে শাহ সুজার নামানুসারে একটি সড়কের নামকরণ করা হয় ‘সুজা বাদশা সড়ক’। বিখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক সানা উল্লাহ নূরী ‘সুজা বাদশা সড়ক’ নামে একটি ইতিহাস গ্রন্থও রচনা করেছেন।

অভিমত-৩

১৬১৪ খ্রিস্টাব্দে মগ ও ফিরিংগীদের মিলিত বাহিনী ভূলুয়া, ভবানীগঞ্জ ও ইসলামাবাদ আগুন দিয়ে পুড়ে দেয়। স্যার যদুনাথ সরকার এ সংক্রান্ত বর্ণনায় লিখেছেন, ইসলামাবাদ চাটগাঁ শহর নয়। ভূলুয়ার পশ্চিমে একটি দূর্গ সমৃদ্ধ শহর। ঐতিহাসিক ড. বোরাহ ইসলামাবাদকে লক্ষ্মীপুর বলে ধারণা করেছেন। এভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় যে, তৎকালীন লক্ষ্মীপুর মৌজার অংশ মেঘনা পাড়ের দূর্গ সমৃদ্ধ কামানখোলাই ইসলামাবাদ নামের মগ ও ফিরিংগীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল।

অভিমত-৪

শ্রী সুরেশ চন্দ্রনাথ মুজমদার ‘রাজপুরুষ যোগীবংশ’ নামক গবেষনামূলক গ্রন্থে লিখেছেন দালাল বাজারের জমিদার রাজা গৌর কিশোর রায় চৌধুরী ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী থেকে রাজা উপাধি পেয়েছেন। তাঁর পূর্বপুরুষরা ১৬২৯-১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে দালাল বাজার আসেন। তাঁর বংশের প্রথম পুরুষের নাম লক্ষ্মী নারায়ন রায় (বৈষ্ণব) এবং রাজা গৌর কিশোরের স্ত্রীর নাম লক্ষ্মী প্রিয়া। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, লক্ষ্মী নারায়ন রায় বা লক্ষ্মী প্রিয়ার নাম অনুসারে লক্ষ্মীপুরের নামকরণ করা হয়।

বিশ্ব বিখ্যাত পর্যটক এবং ঐতিহাসিকদের দৃষ্টিতে সাবেক লক্ষ্মীপুর এবং জনবসতিঃ

নোয়াখালীর ইতিহাস লেখক প্যারীমোহন সেন (১৯৪০) বর্ণনায় লিখেছেন, ‘ লক্ষ্মীপুর অঞ্চল এক সময় বঙ্গোপসাগরের অংশ ছিল। এক সময় যে স্থানে ভীষণ উর্মিমালা উত্থিত হইয়া মানুষের মনে ভীতি সঞ্চার করিত, সেই স্থান এক সময়ে অর্ণবচরগণে পরিব্যাপ্ত ছিল। অধুনা সেই স্থানে বহু সংখ্যক মানব সুখে স্বচ্ছন্দ্যে কালাতিপাত করিতেছে। ‘‘ড. কাদের (১৯৯১) এর বর্ণনায় দেখা যায়, ‘ফেনী নদীর পশ্চিমে, মেঘনা নদীর পূর্ব, ত্রিপুরা (কুমিল্লা) জেলার অন্তর্গত মেহারের দক্ষিণ, এই বিস্তীর্ণ ভূ-ভাগই সমূদ্র গর্ভজাত।’

এখানে নুতন ভূমি জেগে উঠলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ চাষাবাদ উপলক্ষ্যে এবং বহিরাগতরা ব্যবসা বাণিজ্য ও ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে জনবসতি গড়ে তোলে। তারপর মেঘনা নদীর ভাঙ্গা গড়ার মধ্যে এবং প্রতিকূল প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে লক্ষ্মীপুরের মানুষ টিকে আছে। এক সময়ের সমৃদ্ধ নগরী ইসলামাবাদ মেঘনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়, কালক্রমে নদী গর্ভে আরো বিলুপ্ত হয় সমূদ্র উপকূলবর্তী ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী অনেক জানা-অজানা প্রসিদ্ধ জনপদ ও শহর বন্দর; বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা তার ঐতিহাসিক বর্ণনায় যা উল্লেখ করেছেন।

২ শত বছর পূর্বে এ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি প্রত্যক্ষ করে স্কটিশ ভ্রমণকারী ডা. ফ্রান্সিস বুখানন ১৭৯৮ সালের ২ মার্চ তার এক গ্রন্থে লিখেছেন,‘এ অঞ্চল সম্ভবত বিভিন্ন সময় চর ছিল অথবা এ অঞ্চল নদীর বালুকা নিয়ে গড়ে উঠেছে। সব জায়গায় মাটি নরম, ঢিলেঢালা, তার সঙ্গে মিশ্রিত আছে বালুকণা। তাছাড়া কাদামাটি এখানে নেই বললেই চলে’। গাছ গাছালির ফাঁকে ফাঁকে গ্রামীণ মানুষের বসত বাড়ি বেশ ছাড়া ছাড়া এবং অনেক অঞ্চল এখনও প্রাকৃতিক অবস্থায় পড়ে আছে।’ এখানকার জমিন নিচু এবং প্রত্যেক ডোবা সুন্দর বনের গাছ গাছালিতে ভরা।

জনবসতি (মুগল আমলে মূলবসতি শুরু):

ভুলুয়া রাজ আমলে এ অঞ্চলে ঘন বসতি ছিল না । ঢাকা (বিক্রমপুর) ও বরিশাল (চন্দ্রদ্বীপ বা বাকলা) প্রভৃতি জেলা থেকে লোক এসে এ জেলায় বসতি স্থাপন করেন। তুর্কি শাসনের সময় নৌঘাঁটিকে কেন্দ্র করে এখানে আরো নতুন বসতি স্থাপিত হয়। মুঘল দখলে আসার পূর্বে পর্তুগীজ ও মগ দস্যুদের অত্যাচারে দেশের সম্পূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলের সাথে এ অঞ্চলও বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়। তবে মুঘল আমলে আবার নতুন করে জনবসতি শুরু হয়। শহর কসবা (বর্তমান পুরাতন তেয়ারীগঞ্জ এলাকা) বন্দর জমজমাট হয়। এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন বন্দর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙ্গর করতো বলে জানা যায়। এ সময় দিল্লি থেকে আগত রাজ কর্মচারীসহ কিছু সম্ভ্রান্ত পরিবার, আরব ও ইরান থেকে আগত কিছু ধর্মপ্রচারক, শহরে আসলে আগত পাঠান এবং ঈশা খাঁর বিদ্রোহী পাঠানগণ এ অঞ্চলে নতুন বসতি স্থাপন করেন। এছাড়া পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল থেকে আগতরাও কিছু নতুন বসতি স্থাপন করে। ফলে লক্ষ্মীপুর জেলায় হিন্দু-মুসলিমের ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে এসেছে।

যে কারণে জেলার অনেক স্থানের নাম চরঃ

বিখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন সাঙ তাঁর ‘সিউতী’ নামক ভ্রমণ কাহিনী ‘কমলাঙ্ক’ কে সমূদ্র তীরবর্তী বলে বর্ণনা করেছেন। ‘কমলাঙ্ক’ বর্তমানে কুমিল্লা ও পূর্ববর্তী ত্রিপুরা জেলার প্রাচীন নাম। জনশ্রুতি আছে, ত্রয়োদশ শতকের প্রথম দশকের গোড়ার দিকে ভুলুয়া রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বম্ভর বাবু মুর্শিদাবাদ থেকে চট্টগ্রামে (চাটগাঁও) নৌকা যোগে চন্দ্রনাথ তীর্থ দর্শনে যাবার পথে এ অঞ্চলে আসেন। এটা ছিল নিশ্চিতই নতুন জাগা চর। হয়তো তৎকালে ত্রিপুরা জেলার সাথে সম্পৃক্ত রায়পুর ও রামগঞ্জের উত্তরের ক্ষুদ্রতম কোন একাংশ প্রাচীন ভূখন্ড ছিল। বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলার অধিকাংশ ভূমি নদী বা সমূদ্র গর্ভ থেকে ক্রমশ চর বা দ্বীপ হিসেবে জেগে উঠে। এ জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকার নামের সাথে চর দিয়ে যুক্ত যে সব এলাকার সাথে পুর বা গঞ্জ যুক্ত হয়েছে সেগুলি প্রাচীনতম নয়। নতুন বসতি স্থাপনকারীগণ এসব যুক্ত করেছেন।

লক্ষ্মীপুরের আদি এবং ঐতিহাসিক স্থান শহরকসবা (বর্তমান পুরাতন তেয়ারীগঞ্জ এলাকা):

চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ভুলুয়া জয় করেন। তখন লক্ষ্মীপুর ভুলুয়ার অধীনেই ছিল। ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ এখানে পূর্বাঞ্চলীয় রাজধানী স্থাপন করেন এবং একজন শাসনকর্তা নিয়োগ করেন। মেঘনা উপকূলীয় সীমান্ত রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী নৌঘাঁটিও স্থাপন করেন। তখন এ নৌঘাঁটি কেন্দ্রিক ‘শহর কসবা’ (বর্তমান পুরাতন তেয়ারীগঞ্জ এলাকা) জনপদ গড়ে উঠে। সে সময় প্রমত্তা মেঘনা নদী শহর কসবার পাশ দিয়ে ফরাগঞ্জ ও ভবানীগঞ্জের উপর দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে প্রবাহিত ছিল। আর ভুলুয়া পরগণায় ভূলুয়া নামক একটি গ্রাম ছিল, যা মাইজদি (নোয়াখালী) শহরের দক্ষিণ পশ্চিমের ১৫ মাইল এবং ভবানীগঞ্জের (লক্ষ্মীপুর) ৩ মাইল পূর্বে ছিলো। বর্তমান শহর কসবা ও তেওয়ারীগঞ্জ গ্রামগুলোর কোন এক জায়গায় ভুলুয়া গ্রামের সীমানা ছিলো বলে অনেক ঐতিহাসিকগণ অভিমত দেন।

সপ্তদশ শতাব্দীতে মুঘলরা ভূলুয়া দখল করে। তারা শহর কসবায় একটি মিলিটারী আউটপোস্ট স্থাপন করেন। যা ছিল পূর্বাঞ্চলে মুগলদের প্রধান নৌঘাঁটি। সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্য ভাগে সম্রাট শাহজাহানের সময় বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খাঁন সনদ্বীপ ও চট্টগ্রামে পর্তুগীজ জলদস্যু ও আরাকানদের বিরুদ্ধে অভিযান চালোনে হয়। এজন্য ঢাকার ‘‘লালবাগ দূর্গ’ থেকে পাঠানো স্থল বাহিনী চাঁদপুর হয়ে ডাকাতিয়া ও মেঘনা নদীর পথ ধরে শহর কসবায় এসে নৌবাহিনীর সাথে মিলিত হয়। শহর কসবা ছিলো সে কালের উপকূলীয় প্রধানতম নৌবন্দর এবং লক্ষ্মীপুরের সব চেয়ে প্রাচীন এলাকা।

লক্ষ্মীপুরে ঐতিহাসিক সবআন্দোলন এবং জাতীয় নেতাদের আগমনঃ

ষোড়শ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত এই এলাকায় প্রচুর লবণ উৎপাদন ও রপ্তানী হতো। ফলে লবণ আন্দোলনের সূত্রপাতও হয় এ জেলায়। স্বদেশী আন্দোলনের সময় সংগঠিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরপরই মাহত্মা গান্ধী এ অঞ্চল পরিভ্রমনের সময় রামগঞ্জের শ্রীরামপুর রাজবাড়ী ও কাফিলাতলী আখড়াতে অবস্থান করেন। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাাম লক্ষ্মীপুর সফর করেন। এ ছাড়া শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মজিবুর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুবার লক্ষ্মীপুরে এসেছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৭টি বড়সহ ২৯টি লড়াই হয় লক্ষ্মীপুরের মাটিতে।

 

ধর্ম : লক্ষ্মীপুর জেলাটি ইতিহাস-ঐতিহ্য নানাভাবে সমৃদ্ধ। আর এস সমৃদ্ধির পেছনে মুখ্যত মেঘনা নদীর ভাংগা-গড়া ও সামুদ্রিক ঘুর্ণিঝড় আর জলোচ্ছাসে ভৌগোলিক অবস্থা যেমন জড়িত তেমনি বহিঃ দেশীয় (বিশেষত আরব দেশীয়) ধর্ম প্রচারক-সাধকদের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের প্রচার-প্রসার কর্ম ও সংশ্লিষ্ট। ফলে এখানের অধিকাংশ মানুষ একদিকে প্রতিকূল প্রকৃতির সাথে সংগ্রামে সাহসী, জীবন সংগ্রামী ও আত্মপ্রত্যয়ী হয়েছে, আবার অন্যদিকে ইসলাম ধর্মের আদর্শবাদিতা ও জীবনাচরণের উৎসাহ-অনুপ্রেরণা পেয়েছে। জৈনপুরের পীর হযরত মাওলানা কেরামত আলী, ছাদুল্লাহপুর থেকে আগত হযরত মাওলানা ইমাম উদ্দিন, কাঞ্চনপুরের পীর হযরত মিরান শাহ, শামপুরের পীর হযরত জকি উদ্দিন শাহ, লক্ষ্মীপুরের পীর হযরত আজিম শাহ, হযরত চাঁদ শাহ, হযরত সোলায়মান শাহ (লেংটা শাহ), রায়পুরের বুড়া হযরত পীর ফয়জুল্লাাহ ও তাঁর বড় ছেলে বড় মিয়া পীর সাহেব এ অঞ্চলের ধর্মীয় চেতনায় সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

কর্ম: লক্ষ্মীপুর জেলার মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সাহসী, কর্মদ্যোগী, বুদ্ধিদীপ্ত, কৌশলী ও নেতৃত্বশীল। শত বছর থেকে জীবন জীবিকার প্রয়োজনে বহির্গমনমুখিতা জেলাবসীকে অধিকতর সার্থবান করেছে। স্থানীয়ভাবে যারা বসবাস করছেন তারা কৃষিকাজ, মাছ ধরা এবং হাটবাজারে ব্যবসায়ের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। কর্মক্ষ জনগোষ্ঠীর বড় একটা অংশ দেশের বিভিন্ন স্থানে কিংবা বিদেশে যোগ্যতার অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনেছেন। মূলত নদীর-পানি, বৃষ্টি, বন্যা, পলিযুক্ত নরম সবুজ প্রকৃতি এ জেলার মানুষকে সহজ-সরল জীবন-যাপন দিয়েছে। ফলে এক সময় এ জেলায় ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠে। আবার দূরবর্তী জেলা হওয়ায় মানসম্মত জীবন যাত্রার ব্যবস্থা গড়ে না উঠায় মানুষ কঠোর পরিশ্রমী হয় এবং তাদের বহির্মূখী দৃষ্টি ফেেুট উঠে।

শতবছরের নদী-সাগর উত্থেলিত লক্ষ্মীপর জেলার বালুকাময় প্রান্তর একদিন সবুজ গুল্ম লতা-পাতায় ভরে উঠে। ক্রমশ সবুজ গাছ-গাছালি ও নদ-নদীর ফাঁকে ফাঁকে/ ভাঁজে ভাঁজে জনকোলাহল মুখর হয়ে উঠে। মেঘনা নদীর চিত্র, পাল তোলা নৌকা, ইলিশ ধরার দৃশ্য, সুবজ বন বেষ্টনী, কেয়া বনের বাহার, বিশাল চর গজারিয়া দ্বীপ, মহিষের পাল, দুধ আর মিষ্টিতে লক্ষ্মীপুর এক পর্যটন ভূমি হিসেবে প্রখ্যাত হয়ে উঠেছে।

ঐতিহাসিক পেশা ও ব্যবসাঃ

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে লক্ষ্মীপুর ছিলো লবণ ও বস্ত্র শিল্পে সমৃদ্ধ। লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত লবণ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং ইংল্যান্ডে রপ্তানী হতো। তাঁত শিল্পগুলো স্থানীয় চাহিদার অনেকাংশ মেটাতে সক্ষম ছিলো। কলকাতার ব্যবসায়ীগণ এ অঞ্চলে কাপড়ের ব্যবসায় সম্পৃক্ত ছিলো। সল্ট হাউজ ও কুটি বাড়িগুলো এ শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করতো। সাহাপুর কুঠি বাড়ি, জকসিন কুঠি ও রায়পুরের সাহেবগঞ্জ কুঠি বাড়ি লবণ ও বস্ত্র ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী নীল চাষের স্থানীয় জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ ও বাধ্য করত। মেঘনা নদী, ডাকাতিয়া নদী, রহমত আলী নদী, ভবানীগঞ্জ খাল, ভুলুয়া খাল ও জারিরদোনা খাল অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল ভূমিকা রাখতো। এসব নদীতে পণ্যবাহী বড় বড় বালাম ও মহাজনী নৌকা আসত এবং ধান, সুপারী, নারিকেল, লবণ, মরিচ ও অন্যান্য ফসল নিয়ে দূরবর্তী কোন গঞ্জ বা বন্দরে চলে যেত। রায়পুর, দালাল বাজার, ভবানীগঞ্জ, তেওয়ারীগঞ্জ (শহর কসবা) ও ফরাশগঞ্জ ছিলো জেলার প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র। ভবানীগঞ্জকে তৎকালে ছোট কোলকাতা বলা হত।


সংস্কৃতিঃ

লক্ষ্মীপুরবাসী নিজেদের বসবাসযোগ্য নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরকে আধুনিক জীবন যাপন নির্ভর শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অংশ হিসাবে শিক্ষা-সংস্কৃতি বিস্তারে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তৎকালে লক্ষ্মীপুরে একটি ইংলিশ স্কুল (পরবর্তীতে লক্ষ্মীপুর মডেল হাই স্কুল), পাবলিক লাইব্রেরী ও টাউন হল, বাণী রঙ্গলয় মিলনায়তন ও বার লাইব্রেরী গড়ে ওঠে। শহরের স্বর্ণকার পট্টি ছিল শহরের লোকের মদিরালয় বা নিষিদ্ধ পল্লী।


ঐতিহাসিক স্থান:

লক্ষ্মীপুরের ঐতিহাসিক স্থানগুলো হচ্ছেঃ দালাল বাজার জমিদার বাড়ী, সাহাপুর নীল কুঠি বাড়ি, কামানখোলা জমিদার বাড়ি, হযরত আমি শাহ দায়রা শরীফ, রায়পুর চুন্নু মিয়া (গজনফর আলী চৌধুরী) জমিদার বাড়ি, শায়েস্তানগর রায় বাহাদুর পেয়ারী লাল চৌধুরী বাড়ী, রামগঞ্জ শ্রীরামপুর রাজবাড়ী, করপাড়া জমিদার রাজেন্দ্র চৌধুরী বাড়ী ও হায়দরগঞ্জ তমিজ উদ্দিন হাওলাদার বাড়ি।

ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানঃ

লক্ষ্মীপুরের উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান গুলো হচ্ছে, লক্ষ্মীপুর মডেল হাই স্কুল (বিলুপ্ত ভবন), রায়পুর এল এম হাই স্কুল, সাহাপুর সাব বাড়ী, তিতাখাঁ জামে মসজিদ, ধোলাকান্দি মসজিদ, মটকা মসিজিদ, মান্দারী বাজার বড় মসিজদ, খোয়া সাগর দিঘী, ঐদারা দিঘী, কমলাসুন্দরী দিঘী, আনন্দমীয় কালী বাড়ী, দালাল বাজার মহাপ্রভু জিউর আখড়া ও মঠ, রাণী ভবাানী মঠ, কামদা মঠ, রায়পুরের বড় মসজিদ, জ্বিনের মসজিদ, রামগঞ্জের সনাতন হরিসভা, চন্ডিপুর আশ্রম, যাদবপুর আশ্রম, মিরান শাহ মাজার, শামপুর মাজার, রামগতির হাট দায়রা শরীফ ও বুড়া কর্তার আশ্রম।

আধুনিক স্থাপনা ও সৌন্দর্যঃ

রায়পুরের মৎস্য হ্যাচারী, মজুচৌধুরীরহাট সুইজ গেট, মতিরহাট মাছঘাট ও মেঘনার ভাসমান চর, কমলনগর উপজেলা কমপ্লেক্স, সাইফিয়া দরবার শরীফ,হাজিমারা সুইচগেইট,চরবসু এসইউএসডিপি উল্লেখযোগ্য।


লক্ষ্মীপুরের মুক্তিযুদ্ধ:

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে লক্ষ্মীপুর জেলায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এ দেশীয় রাজাকার বাহিনীর হত্যা, লুট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের ঘটনার নির্মম স্বাক্ষী। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা যুদ্ধ ছিল তাদের জন্য আতংকের। ৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে লক্ষ্মীপুর জেলা হানাদার ও রাজাকার মুক্ত হয়। লক্ষ্মীপুরে মুক্তিযোদ্ধের প্রধান সংগঠক ছিলেন এ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান চৌধুরী ও রফিকুর হায়দার চৌধুরী। লক্ষ্মীপুর শহরের মাদাম ব্রীজ, বাগবাড়ী গণকবর, দালাল বাজার গার্লস হাই স্কুল, মডেল হাই স্কুল, মদিন উল্যা চৌধুরী (বটু চৌধুরী) বাড়ী, পিয়ারাপুর বাজার, মান্দারী মসজিদ ও প্রতাপগঞ্জ হাই স্কুল, রায়পুর আলীয়া মাদ্রাসা, এম.এম হাই স্কুল ও ডাকাতিয়া নদীর ঘাট, রামগতির চর কলাকোপা মাদ্রাসা, রামগতির ওয়াপদা বিল্ডং, বর্তমান কমলনগরের করইতোলা, আলেকজান্ডার গোডাউন এলাকা, রামগঞ্জ সরকারী হাই স্কুল, জিন্নাহ হল (জিয়া মার্কেট) ও ডাক বাংলো হানাদার ও রাজাকার ক্যাম্প এবং গণহত্যার স্বাক্ষী হয়ে আছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এখানে ১৭টি বড় যুদ্ধসহ ২৯টি লড়াই হয়। প্রতাপগঞ্জ হাই স্কুল, মান্দারী মসজিদ, মাদাম ঘাট ও বাগবাড়ী, কালি বাজার, দালাল বাজার, কাজির দিঘীর পাড়, কাফিলাতলী, পানপাড়া, মিরগঞ্জ, পদ্মা বাজার, মঠের পুল এবং রামগঞ্জের হাই স্কুল সড়ক ও আঙ্গারপাড়া, লক্ষ্মীপুর রামগতি সড়কে চর কলাকোপার দক্ষিণে মিদার হাট সংলগ্ন সড়কে, করুণানগর, হাজিরহাট, আলেকজান্ডার এবং রামগতি থানা ও ওয়াপদা বিল্ডিং এলাকা, রায়পুর আলীয়া মাদ্রাসা ও এল. এম হাই স্কুল এলাকায় অধিকাংশ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ সময় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এবং ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এছাড়া মুক্তিবাহিনীর হাতে শত শত হানাদার ও রাজাকার নিহত হয়।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা: সদর: ১. আবু ছায়েদ, সোনাপুর, ২. আবু হালিম বাসু, বাঙ্গাখাঁ ৩. আব্দুল মতিন, বাঙ্গাখাঁ ৪. রবীদ্র কুমার সাহা, ভবানীগঞ্জ, ৫. মাজহারুল মনির (সবুজ), আলীপুর ৬. চাঁদ মিয়া, আলীপুর, ৭. মুনসুর আহম্মেদ, ছবিলপুর ৮. আলী আজ্জম, নন্দনপুর, ৯. নায়েক আবুল হাসেম, সামাসপুর, ১০. মোঃ মোস্তা মিয়া, জামিরতলী, ১১. লোকমান মিয়া, জামিরতলী, ১২. জয়নাল আবেদীন, চররুহিতা, ১৩. মোহাম্মদ হোসেন, ফতেধর্মপুর ১৪. এসএম কামাল, পালপাড়া, ১৫. আবদুল বারেক, নরসিংহপুর, ১৬. নুরু মোহাম্মদ, বড়ালিয়া, ১৭. রুহুল আমিন, আটিয়াতলী, ১৮. আবুল খায়ের, কাঞ্চন নগর, ১৯. জহিরুল ইসলাম সৈয়দপুর, ২০. আহাম্মদ উল্যা, উড়িষার কান্দি, ২১. সিরাজ রায়পুর ঃ ২৪. মোঃ আতিক উল্যা, কেরোয়া, ২৫. আব্দুল্লাহ, কেরোয়া, ২৬. মোঃ মোস্তফা, উত্তর কেরোয়া, ২৭. আবুল খায়ে ভুতা, চরমহোন্না ২৮. ইসমাইল মিয়া, উত্তর সাগরদি ২৯. সাহাদুল্লাহ মেম্বার, চরপাংগাসিয়া ৩০. আবুল কালাম, উত্তর সাইছা।

রামগতি: ৩১. মোস্তাফিজুর রহমান, তোরাবগঞ্জ ৩২. আলী আহম্মদ, তোরাবগঞ্জ ৩৩. বেনু মজুমদার, চর জাঙ্গালিয়া,

রামগঞ্জ: ৩৪. নজরুল ইসলাম, মাঝির গাঁ ৩৫. আব্দুর রশিদ, কাঞ্চনপুর।

মুক্তিযোদ্ধা: ১৫৫৪ জন (সদর-৪৬০, রাফুর-২২৫, রামগঞ্জ-৪৮৬, রামগতি ও কমলনগর- ৩৮৩)

লক্ষ্মীপুর জেলার তথ্য চিত্র

জেলার আয়তন: ১৫৩৪.০৭ বঃকিঃ, উপজেলা ৫টি- (সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর), পৌরসভা ৪টি (লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, রামগঞ্জ ও রামগতি), ইউনিয়ন ৫৮টি (সদরে ২১টি, রায়পুরে ৩০টি, রামগঞ্জে ১০টি, রামগতি ৮টি ও কমলনগর ৯টি), গ্রাম- ৫৩৭টি, মৌজা-৫১৫টি।

লোক সংখ্যা: ১৫.৫৫ লক্ষ পুরুষ ও মহিলা- ৪৯.২১% ও ৫০.৭৯%, জনসংখ্যার ঘনত্ব- ১০২১ জন প্রতিবর্গ কিঃ মিঃ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার- ১.৭৩%। (২০০১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী)।

শিক্ষা: শিক্ষার হার ৬২.২৬ঁ

প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: প্রাথমিক বিদ্যালয়- ৭২১টি (সরকারী- ৫১২, রেজিঃ ১৪২, আনরেজিঃ ০৪, উঃবিঃ সংখ্যা ০৪ কমিউনিটি- ৪৯) কর্মরত শিক্ষক ৩১২ জন মধ্যে তার মধ্যে প্রাঃ শিঃ ৪৬৯ জন) ভর্তিকৃত ছাত্রছাত্রী- ১,৮৮,৩৪৩ জন (ছাত্রী ৯৬,৫৬৭জন)।


মাধ্যমিক বিদ্যালয়:
১৭০টি (সরঃ ০৩টি, বেসরঃ ১৬৭) কর্মরত শিক্ষক ১,৬৭৮ জন (শিক্ষিকা ২৫৩) ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রী- ৭৬৫৭৮ জন (ছাত্রী- ৪২,৩০৯ জন) কিন্ডার গার্টেন- ৮০টি।

কলেজ ঃ ২৪ (সরকারী-০৫, বেসরকাারী- ১৬ ও বেসরকারী স্কুল সংযুক্ত-০৩)

অন্যান্য: পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কারিগরী স্কুল ও কলেজ, ভোকেশনাল (টেক্সটাইল), পিটিআই, বিএড, বিপিএড, কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আইন কলেজ ০১টি করে। এবতেদায়ী- ১৯টি, উচ্চ মাদ্রাসা সংযুক্ত- ১১১টি, মাদ্রাসা- ১৩৬টি, (দাখিল- ৮৯, আলিম- ২৩টি, ফাজিল- ১৭টি, কামিল- ০৭টি) মক্তব- ২৪০টি।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: মসজিদ- ৩,৩৩৫টি, মন্দির- ৪৫টি, গীর্জা- ০১টি, দরগাহ- ০৬টি, মাজার- ১৫টি, আশ্রম- ০২টি, হরিসভা- ০৮টি।

পুলিশ থানা- ০৬টি, পুলিশ ফাঁড়ি ৭টি, (তদন্ত কেন্দ্র: দত্তপাড়া, হাজির হাট; ফাঁড়ি ঃ শহর, দাসের হাট, হায়দারগঞ্জ, হাজীমারা, নৌফাঁড়ি: বড় খেরী)।

স্বাস্থ্য ঃ হাসপাতাল ঃ সদর/আধুনিক হাসপাতাল ০১টি (১০০০ শয্যা), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স- ০৪টি (৯০১টি ৫০ শয্যা- রায়পুর, ০২টি ৩১ শয্যা, রামগঞ্জ ও কমলনগর, ০১টি ২০ শয্যা রামগতি), সাব-সেন্টার ২১টি, কমিউনিটি ১১৫টি (চালু ৯৮টি) ডাক্তার- ১২৬ জন (আছে ৫৫ জন), নার্স -৬৫ জন (আছে ৪২ জন), বেসরকারী হাসপাতাল/ ক্লিনিক ১৩টি প্যাথলজি ৩৫টি (০১-০৪-০৯ অনুযায়ী)। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র- ০২টি, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও প.প. কেন্দ্র- ২৮টি, প.ক. সহকারী- ২৫৩ জন।

সড়ক ঃ পাকা ১,২৬৮ কিঃ মিঃ (আঞ্চলিক মহাসড়ক- ৩৯, সড়ক ও জনপথ- ৩৮৬, এলজিইডি- ৮৮৩), আধাপাকা- ১৪৮ কিঃমিঃ, কাঁচা- ২৯০৫ কিঃ মিঃ।

কৃষি ঃ জমি- ২৯৭, ৯৬০ একর (আবাদি জমি ২৯১, ১২২ একর অনাবাদি জমি- ৬,৮২৮ একর), সেচকৃত জমি ৫২,০০০ একর।

প্রধান ফসল সমূহ : ধান, সুপারী, নারিকেল, সয়াবিন, গম, সরিষা, পাট, মরিচ, আলু, ডাল, ভুট্টা, চিনা বাদাম, আখ, তরমুজ এবং নানা ফলমুল ও তরী তরকারী।

বিদ্যুৎ ঃ পিডিবি (নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়, বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ)- প্রধান লাইন (চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-চৌমুহনী) ৬৬ কিঃ মিঃ, বিদ্যুতায়িত লাইন ১১/৪ কেভি- ১১৬ কিঃমিঃ, .৪/.২ কেভি ১৫০ কিঃমিঃ, গ্রাহক সংখ্যা- আবাসিক ৯,৫৭৯টি, বাণিজ্যিক- ২,০৭২টি, ক্ষুদ্র সেচ- ৫৭টি, ক্ষুদ্র শিল্প- ১৭২টি, মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও দাতব্য- ১৭৪টি, মধ্যম শিল্প- ২টি, সড়ক বাতি সংযোগ- ২৯টি, অভিযোগ কেন্দ্র- ১টি, ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র- ১টি, সর্বোচ্চ চাহিদা- ৫.৫ মেগাওয়াট (ফিডার- দঃ তেমুহনী ১.৫২, ডিসি কলোনী ০.৫, সার্কিট হাউজ .০৪, মেঘনা রোড ০.৫, বাজার ১.৪২, উঃ তেমুহনী ০.৭)।

লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (১৯৯০) ঃ বিদ্যুতায়িত লাইন ২,৯৯০.৫৩ কি. মি (৩১/১২/০৮), পিডিবি থেকে অধিগ্রহণ ঃ ২৬৮ কি. মি., উপকেন্দ্র ৪টি, জোনাল অফিস ৩টি (রামগঞ্জ, রামগতি, রায়পুর), অভিযোগ কেন্দ্র ৯টি (চন্দ্রগঞ্জ, বটতলী, দাসের হাট, পোদ্দার বাজার, হায়দরগঞ্জ, হাজির হাট, ভাটরা, পানপাড়া ও চৌধুরী বাজার), সংযোগ- আবাসিক ৯৫,৪৬৯টি, বাণিজ্যিক- ১৭,৪৩২টি, সেচ- ৭০৩টি, শিল্প- ১,৬৮৮টি, দাতব্য- ২০২৮টি, রাস্তার বাতি- ৭৬টি। সর্বোচ্চ চাহিদা- ২৮ মেঘাওয়াট। গ্রাম- ৪২০টি।

গ্যাস ঃ বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিঃ লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকা (১৯৯৮), চন্দ্রগঞ্জ (২০০৮) গ্রাহক সংযোগ ৪৫০০ (প্রায়), বাণিজ্যিক- ৬০টি।

পানি সরবরাহ ঃ লক্ষ্মীপুর- ০২টি (১৯৯৩ ও ২০০৮) ৪,০০,০০০ লিটার করে ৮ লাখ লিটার সংযোগ ও উপ-সংযোগ প্রায় ৪,০০০টি (সরবরাহ লাইন ২৫ কি. মি) রায়পুর- ১টি (২০০৪) ৭,২০,০০০ লিটার সংযোগ ও উপসংযোগ ১০০০টি।

পশু সম্পদ ঃ খামার- পশু- ৩১২টি, হাঁস/মুরগী- ৫৪৮টি, হাসপাতাল ৫টি, কৃত্তিম পশু প্রজনন কেন্দ্র- ০৩টি।

মৎস ঃ পুকুর ৫১,৪১১টি, নদী ২টি, খাল ৯৬টি, সরকারী পুকুর ৮৫টি, বরোপি ৮৯২টি, মোট আয়তন ৯,০৩৩ হেক্টর, মাঠের উৎপাদন ৫৮,৮১২ মে. টন (ইলিশ ৪০,৬০০, চিংড়ি ৩০), চাহিদা ৫৪.৪২৫ মে.টন, মৎসজীবী ২৮,০১০ জন, হ্যাচারী ঃ সরকারী ২টি, বেসরকারী ১১টি, রেনু উৎপাদন ১,৯২৩ কেজি। উল্লেখযোগ্য হ্যাচারী-রায়পুর মৎস প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

উদ্ভিদ ঃ নারিকেল, সুপারি, তাল, খেজুর, গাব, আম, জাম, কাঁঠাল, বরই, করই, রণা, সনালূ।

প্রাণী ঃ শিয়াল, বাগদাস, কাঠবিড়ালী, বেজী, বাদুর ও জলাভূমির পাখ-পাখালি।

পানি সম্পদ ঃ নদ-নদী ১১৮ বর্গ কি.মি, খাল- ৫৮৬ কি.মি., বাঁধ- ৫২কি.মি., সুইজ গেট- ৩০টি।

প্রধান নদ-নদী ঃ মেঘনা, ডাকাতিয়া, রহমতখালী, ভুলুয়া, ওয়াপদাখাল, জারিরদোনা।

সমাজ সেবা ঃ সদর হাসপাতাল সমাজ সেবা ১টি, দালাল বাজার সমন্বিত অন্ধ শিক্ষা কার্যক্রম ১টি (আবাসিক- ১০ জন) বয়স্ক ভাতা ঃ ২৪,৬৮১ জন (চলতি অর্থ বছরে ৩,৫৭১ জন), মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা- ৭০৭ জন, শিক্ষা উপবৃত্তি- ২,৩৯০ জন, কিশোর অপরাধী পুর্নবাসন- ১৩৮ জন, সরকারী শিশুপল্লী- ১টি (১৭৫ জন ধারণ ক্ষমতা সম্মন্ন) এতিমখানা- ৪৭টি, ক্লাব-সমিতি সহ নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ঃ ৩৩০টি।

যুব প্রশিক্ষণ ঃ কম্পিউটার, সেলাই, মৎস চাষ, ইলেকট্রিক ও উলেট্রনিক্স, মোবাইল, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগী ও বৃক্ষরোপন।

বন (২০০২) ঃ রেঞ্জ ৪টি, বীজতলা ১টি, মোট বাগান (বাঁধ, সড়ক ও সংযোগসড়ক) ১৭১টি, দৈর্ঘ্য ৯২৬ কি.মি., চারা ১৮,৫৩,৭০০টি, উপকারভোগী ২৩,৯০৪ জন।

ব্যাংক ঃ সোনালী ব্যাংক (২৪-০৭-১৯৬৩) ১৬টি , জনতা ব্যাংক (০৬-০২-১৯৬২), ৬টি, রূপালী ব্যাংক ৯টি, কৃষি ব্যাংক ১৬টি, অগ্রণী ব্যাংক (২১-১২-১৯৭০) ৯টি, ইসলামী ব্যাংক ৩টি, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ইউসিবিএল, সিটি, ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।

বীমা ঃ সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, জীবন বীমা কর্পোরেশন, ডেলটা লাইফ, ন্যাশনাল লাইফ, পিপলস্ লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ, পপুলার লাইফ, পদ্মা লাইফ, সন্ধানী লাইফ, প্রগতি লাইফ, বায়রা লাইফ, মেঘনা লাইফ ও প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোং লিঃ।

এনজিও ঃ ত্রিবেদী মহিলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (১৯৯৩), জেমস, সিডব্লিউডিএ, সোডা, সোপিরেট, জনসেবা, সেভ, ভয়েজ, পিডিও, উষাপ, ব্যাক, আশা, কেয়া, প্রশিকা ,কোডেক, গ্রামীণ ব্যাংক, ভোস্ড, বিটা, এনআরডিএস, পৌর মহিলা সমাজ ও উন্নয়ন সংস্থা।

অন্যান্য ঃ গ্রন্থাগার ঃ সরকারী- ০১টি, বেসরকারী ২২টি, ইফা- ০১টি, রাশিএ- ০১টি, স্টেডিয়াম- ০১টি, সংস্কৃতি সংগঠন- ৩৫টি, কাব- ২০২টি, নারী সংগঠন- ১৫০টি, সিনেমা হল- ১৩টি, ডাকঘর- ২৪টি, কুয়িার- ০৬টি, দ্বীপ- ০২টি, (চর গজারিয়া ও তেলিরচর) ৫০ ব.কি.মি., তাঁত (১৯৪৫) ৩৬০০টি বর্তমানে ১০০০টি (প্রায়), আশ্রয় কেন্দ্র- ১১০টি, খাদ্য গুদাম- ০৫টি (৮,৫০০ মে.টন) বজি গুদাম ০১টি, (২০০ মে.টন) আদর্শ গ্রাম- ৭টি, জল মহল ৪২টি, হাট বাজার ১৬৫টি, টেক্সাইল- ০১টি, নোয়াখালী টেক্সটাইল মিলস, রাখালিয়া, রায়পুর।

পত্রিকা প্রিন্ট: ২৮টি।

দৈনিক ভোরের মালঞ্চ, দৈনিক নতুন চাঁদ, দৈনিক আল-চিশত, দৈনিক লক্ষ্মীপুর কন্ঠ, দৈনিক ভিশন, দৈনিক মেঘনারপাড়, দৈনিক রব, দৈনিক লক্ষ্মীপুর নিউজ, দৈনিক লক্ষ্মীপুর আলো, দৈনিক মা মাটি মানুষ, দৈনিক গ্রামীণ কন্ঠ, দৈনিক মানব কন্ঠ, সাপ্তাহিক এলান, সাপ্তাহিক দামামা, সাপ্তাহিক লক্ষ্মীপুর দিগন্ত, সাপ্তাহিক বতমান লক্ষ্মীপুর, সাপ্তাহিক নতুন সমাজ, সাপ্তাহিক নতুন পথ, সাপ্তাহিক রামগঞ্জ বার্তা, রায়পুর দপন, মাসিক লক্ষ্মীপুর বার্তা, মাসিক বাংলা আওয়াজ, মাসিক অগ্রজ, মাসিক সাম্প্রতিক স্বদেশ, মাসিক লক্ষ্মীপুর সমাচার (অনিয়মিত)।

পত্রিকা অনলাইন: ১টি লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম www.lakshmipur24.com

আদালত ভবন ঃ চৌকি/মুন্সেফী আদালত (১৮৭০), জজকোর্ট (০১-১২-১৯৮৮)।

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ঃ ১. রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদুল্লাহ এডভোকেট, ২. কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহা, ৩. আ স ম আব্দুর রব, ৪. মাওলানা মোহাম্মদ উল্যাহ (হাফেজী হুজুর), ৫. কমরেড আবুল বাশার, ৬. আলহাজ্ব মোহাম্মদ জমির আলী, ৭. শাহ সৈয়দ গোলাম সারওয়ার হোসাইন (রহঃ), ৮. এডভোকেট আবদুল হাকী, ৯. খালেদ মোহাম্মদ আলী।

জাতীয় সংসদ সদস্য:

১ম জাতীয় সংসদ

(০৭-০৩-১৯৭৩) ১. মোঃ আবদুর রশীদ ২. ক) মুহাম্মদুল্লাহ (ডপুটি স্পীকার, স্পীকার, রাষ্ট্রপতি) খ) ডাঃ মোঃ আব্দুল আওয়াল, ৩। জনাব এ. কে. এম শাহাজাহান কামাল, ৪। এম. সিরাজুল ইসলাম।

২য় জাতীয় সংসদ

( ১৮-০২-১৯৭৯) ১। মোঃ মমিন উল্যাহ, ২। এ্যাডভোকেট মোঃ ইসমাইল (প্রতিমন্ত্রি, ভূমি মন্ত্রণালয়), ৩। আলহাজ্ব মোঃ সফিক উল্যা, ৪। হাজী আবুল কালাম, ৫। মোহম্মদ তোয়াহা।

৩য় জাতীয় সংসদ

( ০৩-০৩-১৯৮৮) ১। আব্দুল গোফরান, ২। অধ্যাপক চৌধুরী খুরশিদ আলম (চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ) ৩। মোহাম্মদ উল্যা ৪। আ স ম আব্দুর রব।

৪র্থ জাতীয় সংসদ

(০৩-০৩-১৯৮৮) ১। আব্দুল গোফরান, ২। অধ্যাপক চৌধুরী খুরশিদ আলম (চয়ারম্যান, জেলা পরিষদ) ৩। আব্দুচ ছাত্তার মাস্টার ৪। ক) আ স ম আব্দুর রব (জাতীয় সংসদ বিরোধী দলীয় নেতা) খ) মোশাররফ হোসেন।


৫ম জাতীয় সংসদ

(২৭-০২-১৯৯১) ১। জিয়াউল হক জিয়া, ২। রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদুল্লাহ ৩। এ্যাডভোকেট খায়রুল এনাম ৪। এ্যাডভোকেট আব্দুর রব চৌধুরী।


৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ

(১৫-০২-১৯৯৬) ১। নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ২। আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ৩। নুরুল আমিন ভূঁইয়া, ৪। এ্যাডভোকেট আব্দুর রব চৌধুরী।

৭ম জাতীয় সংসদ

(১২-০৬-১৯৯৬) ১। জিয়াউল হক জিয়া, ২। ক) বেগম খালেদা জিয়া (জাতীয় সংসদ বিরোধী দলীয় নেতা), খ) হারুনুর রশীদ, ৩। এ্যাডভোকেট খায়রুল এনাম, ৪। আ স আব্দুর রব (মন্ত্রি নৌ পরিবহন/মৎস ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়)।

৮ম জাতীয় সংসদ

(০১/১০/২০০১) ১। জিয়াউল হক জিয়া (প্রতিমন্ত্রী এলজিআরডি মন্ত্রণালয়), ২। ক) বগেম খালেদা জিয়া (প্রধান মন্ত্রী), খ) আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ৩। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ৪। এবিএম আশরাপ উদ্দিন।


৯ম জাতীয় সংসদ

(২৯-১২-২০০৮) ১। নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ, ২। আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ৩। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ৪। এ বি এম আশরাফ উদ্দিন।

১০ম জাতীয় সংসদ

(০৫-০১-২০১৩) ১্। একেএম শাহাজাহান কামাল। ২। মোঃ নোমান ৩। লায়ন এম এ আওয়াল ৪। আবদুল্লাহ আল মামুন ।

শিল্পপতি/ ব্যবসায়ী:

১। আনসার উদ্দিন, পিপলস ও ষ্ট্যান্ডর্স সিরামিক ইন্ডাট্রিজ, ২। তাজিকম আলহাজ্ব ইউছুপ হারুন ভূঁইয়া, হামদর্দ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ লিঃ ৩। সৈয়দ বদরুল আলম, উইলস গ্র“প, ৪। কামাল উদ্দিন খান, মিনহাজ গ্র“প, ৫। আলহাজ্ব এম. এ হাসেম, সজীব কর্পোরেশন, ৬। আমিন আহমেদ ভূঁইয়া, মেট্রো গ্র“প, ৭। আলী হায়দার চৌধুরী, বেঙ্গল লেদার, ৮। শফিক উল্যা নান্টু, নোভা ট্র্যাভেল ৯। মোহাম্মদ আলী খোকন, ম্যাকসন্স গ্র“প, ১০। শামসুল হুদা এফসিএ, ১১। মোঃ নুরুল আমিন, এনসিসি ব্যাংক লিঃ ১২। আলহাজ্ব সুফী আহমদ ভূঁইয়া, হোসেন সেন্ট মার্টিন।

সাহিত্য ও সাংবাদিকতা:

১। মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক, ২। সানাউল্যাহ নূরী, সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদ, ৩। ড. এম কাদের, গবেষক ও ইহিতাসবিদ, ৪। অধ্যক্ষ হোসনে আরা শাহেদ, কথাশিল্পী ও কলামিষ্ট, ৫। সেলিনা হোসেন, উপন্যাসিক ও কথাশিল্পী, ৬। কামাল উদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক ও উপন্যাসিক, ৭। এম. এ শহীদ সাংবাদিক, ৮। রেজাউর রহমান সোহাগ, ক্রীড়া সাংবাদিক, ৯। আবু হেনা আবদুল আউয়াল, কবি।

শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ:

১। ড. মোজাফ্ফর আহম্মেদ চৌধুরী (ম্যাক), উপাচার্য, চাবি, ২। ড. আবদুল মতিন চৌধুরী, বোস প্রফেসর, উপাচার্য, ঢাবি, ৩। ড. এ এন এন মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী, উপাচার্য, ইবি, ৪। ড. মফিউজ উল্যাহ কবির, উপ-উপাচার্য, ৫। ড. সিরাজুল হক, প্রফেসর এমিরেটার্স, ঢাবি, ৬। ড. হাবিবুর রহমান, সুপার নিউমারী, ঢাবি ৭। ড. কবির চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক, ৮। অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, শহীদ বুদ্ধিজীবী, ৯। ড. ওয়াহিদুল হক, টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয় কানাডা (সাবেক অর্থমন্ত্রী), ১০। অধ্যক্ষ সাফায়েত আহম্মেদ ছিদ্দিকী, ১১। ড. হাবিবুর রহমান চৌধুরী, ঢাবি, ১২। ড. মোসলেহ উদ্দিন, উপাচার্য, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ১৩। অধ্যক্ষ কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকী ১৪। ড. তোফায়েল আহমেদ, উপ-উপাচার্য, জা বি।

প্রশাসন:

১. এ এস এম শাহজাহন, সাবেক উপদেষ্টা, ২. মেজর জেনারেল ডাঃ এ এস এম মতিউর রহমান, সাবেক উপদেষ্টা, ৩. আবুল আহসান, সার্ক প্রথম মাহ সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, ৪. মোঃ রফিক উল্ল্যাহ, ৫. মোঃ রফিকুল আলম ৬. মোঃ আবদুর রব চৌধুরী ৭. কামাল উদ্দিন আহম্মেদ, ৮. এ.এইচ. এম রেজাউল কবির, ৯. ইসমাইল জবি উল্ল্যাহ, ১০. মেজর জেনারেল ইকরামুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত, ১১. রাশেদ আহম্মেদ চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত। ১২. শহুদুল হক, আই জি পি, ১৩. এ কে এম শামছুদ্দিন, ডি এম পি কমিশনার।

প্রধান বিচারপতি ঃ ১. রুহুলআমিন, ২. এম এম রুহুল আমি।

ক্রীড়াঃ ১. হারুনুর রশিদ এম.পি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, ২. কাজী শাহানা পারভীন, গুটার, স্বর্ণ পদক, ৩. এফ আই কামাল, খেলোয়াড়- জাতীয় দল ও আবহানী ক্রীড়া চক্র।

শিল্প ও সংস্কৃতি:

১. রামেন্দু মজুমদার, ২. ফেরদৌসী মজুমদার, ৩. রোজী আফসারী,দ ৪. এটিএম শামছুজ্জামান, ৫. বাবুল বিশ্বাস, ৬. দিলার জামান, ৭. ত্রপা মজুমদার, ৮. মাহফুজ আহমেদ, ৯. তাজিন, ১০. তারিন, ১১. ইসমাইল হোসেন, ১২. অরন্য আনোয়ার, ১৩. হুমায়রা হিমু ১৪. দোয়েল, ১৫. সুব্রত, ১৬. দিগী ১৭. ইদ্রিস আনোয়ার পরাণ।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান- ১৯৮৮ ঃ অধ্যাপক খুরশিদ আলম- এমপি।

উপজেলা চেয়ারম্যান- ১৯৮৬ ঃ ১. রামগঞ্জ- সফিকুল ইসলাম, ২. রায়পুর- তোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী দুলাল, ৩. সদর- আওম শফিক উল্যা, ৪. রামগতি- এবিএম হামিদ উদ্দিন ফেরদৌস, ১৯৮৮ ঃ ১। মনির আহমেদ, ২। রায়পুর- ফজলুল করিম, ৩। সদর- আওম শফিক উল্যা, ৪। রাগতি- অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ।

২০০৯ ঃ ১। রামগঞ্জ- মনির হোসেন চৌধুরী, ২। রায়পুর- তোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী, ৩। সদর- মোসলেহ উদ্দিন নিজাম, ৪। রামগতি- রোকেয়া আজাদ, ৫। কমলনগর- আবুল বারাকাত দুলাল।

পৌরসভা নির্বাচিত চেয়ারম্যন/মেয়র ঃ লক্ষ্মীপুর (০১-০৯-১৯৭৬) ১। মোহাম্মদ উল্ল্যাহ এমপি ২। আব্দুল কুদ্দুছ ৩। মিঞা আবু তাহের ৪। হাছানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টু ৫। এম এ তাহের ৬। সাহাবুদ্দিন সাবু। রায়পুর (২০-০১-১৯৯৪) ঃ ১। হায়দার বাবুল পাঠান ২। এবিএম জিলানী। রামগঞ্জ (৩০-১১-১৯৯১) ঃ নূর নবী ২। মোঃ আকবর আলী ৩। শেখ মোঃ আমিন উল্যা

তথ্য সূত্র:

০১। ডাঃ ফ্রান্সির বুখানন : দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা সফর-১৭৯৮।

০২। নোয়াখালী জেলা গেজেটিয়ার-১৯১১, ১৯৭৪।

০৩। বৃহত্তর নোয়াখালীর ইতিবৃত্ত: ড এম আব্দুল কাদির।

০৪। বৃহত্তর নোয়াখালীতে ইসলাম প্রচার (প্রবন্ধ): মুহাম্মদ আবু তালিব।
০৫। বৃহত্তর নোয়াখালীর ইতিহাস : মোঃ ফখরুল ইসলাম- ১৯৯৮।

০৬। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে জেলা লক্ষ্মীপুর : সাংবাদিক সানা উল্লাহ নূরী ।

০৭। রফিকুল হায়দার চৌধুরী, লক্ষ্মীপুরের মুক্তিযুদ্ধ, লাল পলাশের মিছিলে- ১৯৮৫।
০৮। ঐতিহাসিক লক্ষ্মীপুর : নাজিম উদ্দিন মাহমুদ- ১৯৯৬।

০৯। রামগতি দর্পন: ম নুরুল আলম সম্পাদিত- ১৯৯৮।

১০। লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবি সমিতি: স্মরণিকা- ১৯৯৯।

১১। লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতি, ঢাকা’র স্মরণিকা: -১৯৯৯।
১২। জেলা তথ্য : লক্ষ্মীপুর, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, জুলাই-২০০৫।

১৩। সাপ্তাহিক দামামা, লক্ষ্মীপুর।

১৪। ২০০১ এবং ২০১১ সালের আদমশুমারী প্রতিবেদন।

১৫। জেলা তথ্যবাতায়ন: http://www.lakshmipur.gov.bd

১৬। ইউকিপিডিয়া: http://en.wikipedia.org/wiki/Lakshmipur_District

১৭। বাংলাপিডিয়া

১৮। স্খনীয় সরকার বিভাগ:http://www.lged.gov.bd/DistrictLGED.aspx?DistrictID

১৯। নির্বাচন কমিশন ওয়েব সাইট।
২০। লক্ষ্মীপুরটোয়ান্টিফোর ডটকম, লক্ষ্মীপুরের একমাত্র অনলাইন পত্রিকা।

জেলার ইতিহাস আরও সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে ঐতিহাসিক বয়ার পাশে দানবাক্স; উড়ছে লাল সাদা নিশান: সংরক্ষণ জরুরী (ভিডিও)

লক্ষ্মীপুর জেলার ৩৫তম জন্ম বার্ষিকী আজ

লক্ষ্মীপুরের ৫ম পৌরসভা চন্দ্রগঞ্জের যাত্রা শুরু: গেজেট প্রকাশ

রায়পুর সরকারি কলেজ: প্রতিষ্ঠার পিছনের গল্প

রঙধনু দৃষ্টান্তের লক্ষ্মীপুর এর একজন তৃষ্ণার্থের স্বপ্ন

লক্ষ্মীপুরে কর্ম শুরু করলেন জেলার প্রথম নারী ডিসি হুমায়রা

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৯
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]