সব কিছু
লক্ষ্মীপুর রবিবার , ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২০শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

লক্ষ্মীপুর জেলার ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তারা টেনশনে

লক্ষ্মীপুর জেলার ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তারা টেনশনে

জেলার প্রায় ২০ লাখ নাগরিকের সফল জন্ম নিবন্ধন কিংবা বিশ্বের বৃহত্তম বাংলাদেশ ডটগভ ডটবিডির মতো ওয়েবসাইটের লক্ষ্মীপুর জেলা অংশ তৈরিসহ দৈনন্দিন নানা ধরনের ডিজিটাল সেবা প্রদান করে যারা প্রতিদিন ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ করে যাচ্ছেন,  লক্ষ্মীপুর জেলার  ৫৮  ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের এমন উদ্যোক্তারা এখন  নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে চরম টেনশনে।

এ উদ্যোক্তারা ২০১০ সাল থেকে ডিজিটাল সেন্টারে বিনা বেতনে কাজ করার পাশাপাশি দীর্ঘ দিন থেকে তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণের দাবি করে আসছিল।

বৃস্পতিবার (১০ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর  জেলা  ব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের টেনশনটা আরো বেড়ে গেল বলে জানিয়েছেন কয়েকজন উদ্যোক্তা।

বৃস্পতিবার লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন জেলার ২৬টি ইউনিয়ন পরিষদে “হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর” নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে পূর্বের উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে বিভিন্ন জেলার ইউনিয়ন পরিষদে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই সময় এ নিয়োগ বাতিল করে উল্লেখিত পদে উদ্যোক্তাদের স্থায়ী নিয়োগ দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচী পালন করে উদ্যোক্তারা। পরে ২০১৭ সালে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার পদে উদ্যোক্তাদের নিয়োগের জন্য হাইকোর্টে রিট করা হয়। উচ্চ আদালতের বিচারক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রিটকারীদের নিয়োগের জন্য নির্দেশনা প্রদানের পর রায়ের বিপক্ষে সরকার পক্ষ আপীল করে। আপীলের শুনানিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উদ্যোক্তাদের নিয়োগের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।

উদ্যোক্তাদের অভিযোগ রাজনৈতিক ও রহস্যজনক কারণে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পরে নিয়োগের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের কোন অগ্রাধিকার না দিয়েই কয়েকটি জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পরবর্তীতে পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হয় উদ্যোক্তারা। যে মামলা এখনও চলমান রয়েছে। এছাড়াও এ নিয়ে পরে পৃথকভাবে আরও কয়েকটি রিট করেন উদ্যোক্তারা। সেগুলোও শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। যার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের ৫ উপজেলার ৫৮টি ইউনিয়নে রয়েছে ডিজিটাল সেন্টার। প্রত্যেক  সেন্টারে ২ জন করে মোট ১১৬ জন নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তা রয়েছে। তারা ২০১০ থেকে টানা নয় বছর বিনা পরিশ্রমে কাজ করে আসছেন। ডিজিটাল সেন্টারের দৈনন্দিন আয় রোজগারেই চলছিল তাদের কর্মজীবন।

এদিকে অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর জেলায়  ২৬ জন হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর উদ্যোক্তাদের মাঝে ক্ষোভ  তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন উদ্যোক্তা। উদ্যোক্তদের পক্ষ থেকে এ নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করার আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন, লক্ষ্মীপুর জেলা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা ফোরামের একাধিক নেতা। 

লক্ষ্মীপুর জেলা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মুহাম্মদ সেকান্তর আলী জানান,  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১০ সালে সারাদেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু করেন। পরবর্তীতে যা ডিজিটাল সেন্টার হিসেবে রূপলাভ করে।

তিনি আরো বলেন, “লেগে  থাকলে ভাগি হবো” এরকম একটি প্রবাদ বিশ্বাস করেই ডিজিটাল সেন্টার চালুর পর থেকে উদ্যোক্তারা বিনামূল্যে ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক কাজ করে যাচ্ছেন। বিনিময়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্য নিয়ে কোন রকম জীবন পরিচালনা করছেন তারা। আমরা ভেবে ছিলাম একদিন আগে বা পরে আমাদের চাকুরী স্থায়ী হবে এবং আমরা জাতীয়করণের অধিভুক্ত হবো। কিন্তু বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া আমাদের কে ব্যর্থিত এবং ক্ষুব্ধ করেছে।

রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা সহেল হোসন সাগর বলেন, চাকুরী স্থায়ী হবে এমন আশায় অনেক উদ্যোক্তা অন্যকোন স্থানে চাকরির চেষ্টাও করেননি। ডিজিটাল সেন্টারে থাকাকালীন সময়েই  অনেকের জন্য সরকারি চাকুরীর বয়স শেষ হয়ে গেছে।

রামগতি উপজেলার চর আলগী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা নজরুল ইসশাম খসরু বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল সন্তানখ্যাত ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করি।

লক্ষ্মীপুর জেলা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা ফোরামের সভাপতি ও সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মোঃ মিজান উদ্দিন সোহাগ জানান, আমারা উদ্যোক্তারা দীর্ঘ নয় বছর ডিজিটাল সেন্টারে ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় দাফতরিক কার্যক্রম বিনামূল্যে করে আসছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টা আর আমাদের শ্রমে আজ ডিজিটাল ইউনিয়ন বিশ্বব্যাপী মডেল। আমাদেরকে বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে এরকম যে কোন পদে নিয়োগের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নিবো। আগামি সপ্তাহে লক্ষ্মীপুর জেলার পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তাদের জাতীয়ভাবে এদেরকে বলা হয় ডিজিটাল বাংলাদেশের সন্তান বা ডিজিটাল নির্মাণ সৈনিক। ইউনিয়ন পরিষদসহ ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ ও ২০১৩ সালে দু’বার সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কয়েকটি পুরষ্কার পায় বাংলাদেশ। 

সহায়তা আরও সংবাদ

রামগতিতে ঘূর্নিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে টাকা ও চাল বিতরণ

ইউনাইট-১৫; একটি ইউনিয়ন পরিবর্তন করতে চায় তারা

লক্ষ্মীপুর লিগ্যাল এইড অফিসের সহযোগিতায় পাঁচ মাস পর শিশু সুমাইয়া মায়ের কাছে

রামগঞ্জে পথ শিশুদের স্কুলে ড্রেস দিলেন পুলিশ কর্মকর্তা মহসিন

লক্ষ্মীপুরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মাঝে বিনামূল্যে ‘ডিজিটাল সাদাছড়ি’ বিতরণ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর হাসপাতালে ২ মাস যাবত পড়ে থাকা এ মানুষটি কে

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৯
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]