সব কিছু
লক্ষ্মীপুর রবিবার , ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

সমস্যায় আক্রান্ত রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সমস্যায় আক্রান্ত রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

তাবারক হোসেন আজাদ: চিকিৎসক ও জনবল সংকটসহ নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে ঢিমেতালে চলছে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা কার্যক্রম। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। ফলে হাসপাতালটিতে দূর-দূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ।

এতে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসা সেবা প্রদানে অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। এছাড়াও রয়েছে কর্তব্যরতদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগও। আর হাসপাতালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকায় নানা রোগের শঙ্কায়ও ভোগেন রোগীর স্বজনরা।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সোয়া ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এ অঞ্চলের মানুষের উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষে প্রায় দেড় একর জমিতে এ হাসপাতালটি স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে এটিকে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়। কিন্তু সে অনুযায়ী দেয়া হয়নি প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল।

বর্তমানে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে এখানে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। ফলে উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ। এতে করে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ উপজেলার হাজারো মানুষ।

রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বর্তমানে চারজন কনসালটেন্টের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১ জন। ৯ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও এখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন চিকিৎসক। ২২ জন সেবিকার স্থলে আছেন মাত্র ১৩ জন। এতে করে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ উপজেলার বাসিন্দারা।

এদিকে হাসপাতালটিতে সেবা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হয়েও তারা সময় মতো ডাক্তার ও সেবিকাদের দেখা পান না। ডাক্তার ও সেবিকারা তাঁদের ইচ্ছে-মত আসেন এবং যান। রয়েছে ঔষধ না পাওয়ার অভিযোগও। এছাড়া হাসপাতালটিতে এক্স-রে ও আল্ট্রসনোগ্রাফ মেশিন অকেজো থাকায় ও টেকনিশিয়ানের অভাবে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা বাহির থেকে করাতে হচ্ছে তাদের। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা।

রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটরা গ্রামের আলী আকবর জানান, এ হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। সার্জারী চিকিৎসক না থাকায় গাইনী চিকিৎসক দিয়েই চালানো হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

একই উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বপন হোসেন জানায়, ডাক্তার সংকটের কারণে চার মাস যাবত তিনি তার বাবার চিকিৎসা ঢাকায় গিয়ে করাতে হচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তাদের। এখানে শুধুমাত্র ড্রেসিং সুবিধা ছাড়া আর তেমন কোন সেবা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে হাসপাতালের বর্হিবিভাগ ও আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানালেন, হাসপাতালটিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। বেসিন, ওয়াশ রুম সবই নোংরা। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হয় তাদের। এদিকে দৈনিক জাগরণের প্রতিনিধির উপস্থিতি টের পেয়ে হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠতে দেখা যায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের। আর হাসপাতালটির নার্স ষ্টেশনে সেবিকার দেখা না মিললেও সেই স্থানে পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি ঝাড়–। ভর্তিকৃত রোগীরা জানালেন, সময়মতো সেবিকার ধেখা পান না তারা। প্রয়োজনের সেবিকাদের ডেকে আনতে হয় তাদের।

রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া গ্রামের মরিয়ম বেগম জানান, হাসপাতালে ঠিকমত ঔষধ পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র স্যালাইনটাই এ হাসপাতালে দেয়া হয়। বাকীসব ঔষধ বাহির থেকে কেনার অভিযোগও করেন রোগীরা। স্যালাইনসহ অন্যান্য সেবা নিতেও বেশিরভাগ সময় সেবিকাদের খুঁজে আনতে হয়। এছাড়া হাসপাতালটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবও রয়েছে।

রামগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা ও গণমাধ্যম কর্মী মো. ফারুক হোসেন জানান, তার ছেলের হাত ভেঙ্গে গেছে। কিন্তু হাসপাতালটিতে টেকনিশিয়ান না থাকায় এক্স-রে মেশিন থাকা সত্ত্বেও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ফলে দ্বিগুণ খরচে বাহির থেকে এক্স-রে করাতে হচ্ছে তাকে। এতে অর্থ ও ভোগান্তি দুইই পোহাতে হচ্ছে এখানে সেবা নিতে আসা রোগীদের।

এদিকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত সেবিকা ইনচার্জ সাবেত্রী দেবী জানান, ডাক্তার ও লোকবল সংকটের কারণে ওয়ার্ডে রোগীদের কাঙ্খিত সেবা প্রদান করতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। জনবলের তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় একজন রোগী আসলে তাকে বসিয়ে রেখে আরেকজন রোগীর চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। রোগী বেশি হওয়ায় খাবার নিয়েও তাদের পড়তে হয় নানা সংকটে।

তবে এসব অভিযোগ স্বীকার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার গুণময় পোদ্দার জানালেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের বর্হিবিভাগ ও আন্তঃবিভাগের রোগীদের মানসম্মত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জনবল সংকট নিরসন হলে রোগীরা মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পাবেন বলেও জানান তিনি।

উপজেলাবাসীর মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

স্বাস্থ্য আরও সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে পরিবার কল্যাণ সেবা গ্রহণে সভা

লক্ষ্মীপুরে বেসরকারি হাসপাতালের মাইকিং প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা

রায়পুুরে রক্তদাতাদের কাউন্সিলিং সভা

সমস্যায় আক্রান্ত রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

লক্ষ্মীপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে ২ হাজার টাকায় আজীবন চিকিৎসা

মানুষের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মাছ: উদ্বিগ্ন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৯
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]