রায়পুরে অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা পাচ্ছেনা মানুষ

তাবারক হোসেন আজাদ: রায়পুর উপজেলায় ৩৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেনা সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কমিনিউটি ক্লিনিক পুনরায় চালু করে। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরাই ক্লিনিকে আসেন মাঝে-মধ্যে। এতে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ৫ লাখ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে নালিশ করলেও টাকার বিনিময়ে তা আড়ালেই থেকে যায়। জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৩৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের (৯৬ সালে) আমলে চালু হয়। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। শুধু তাই নয়, নিয়োগের শুরুতেই নানা বিতর্ক দেখা দেয়। তাই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে এগুলো বন্ধ করে দেয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে (২০০৯ সালে)পুনরায় চালু করে।

জনগণকে স্বাস্ব্যসেবায় সম্পৃক্ত রাখতে সরকার ক্লিনিকে একজন কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী (হেলথকেয়ার প্রোভাইডার), একজন স্বাস্থ্য সহকারী ও একজন পরিবারকল্যাণ সহকারী নিয়োগ দেয়। সকাল ৯টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তাদের ক্লিনিকে বসে রোগীদের সেবা দেয়ার কথা। কিন্তু তারা তা করেন না।

স্বাস্থ্য সহকারী একজনকে সপ্তাহে তিন দিন প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু তারা তা করেন না। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনা সহকারী একজন মহিলাকে সপ্তাহে তিন দিন দায়িত্ব পালন করতে হয়। একজন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টকে মাঝে-মধ্যে রোগী দেখতে যেতে হয়। এ জন্য সরকার প্রতি মাসে ক্লিনিকে লাখ লাখ টাকার ওষুধও বরাদ্দ দেয়।

জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিটি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত তিনজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-কর্মী দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তবে অভিযোগ রয়েছে- এসব ক্লিনিকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না অনেকে। ফলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ উপজেলার সেবা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ। রায়পুর পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ।

কাঞ্চনপুর গ্রমের শেফালী আক্তার ও বামনী গ্রামের মো. আমেনা জানান, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তারা গত বৃহস্পতিবার সকালে ক্লিনিকে গেছেন। ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাউকে না পেয়ে চলে আসেন।

দক্ষিণ চরবংশী গ্রামের জাহিদ আলম জানান, তাদের এলাকার ক্লিনিকগুলো প্রায়ই বন্ধ থাকে। মাঝে-মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীরা দুপুরে এসে আধঘণ্টা থেকে চলে যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোস্তফা খালেদ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের শতভাগ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ক্লিনিক নির্মাণ ও ওষুধ দিয়ে সরকার প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা গরিব মানুষের জন্য ব্যয় করে। কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন না করলে বা এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’