সব কিছু
লক্ষ্মীপুর শনিবার , ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

রায়পুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিশুদের ক্লাশ

রায়পুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিশুদের ক্লাশ

তাবারক হোসেন আজাদ: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দু’টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিশুদের ক্লাশ। যেকোনো মুহূর্তে জরাজীর্ণ ভবনের ছাদ ধসে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন বা অন্য কোন ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্যগন ও অভিভাবকগন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় ওই দু’টি বিদ্যালয়ে ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করা হচ্ছে। এদিকে গত ৬ এপ্রিল রায়পুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা টিপু সুলতান সরজমিন বিদ্যালয় দু’টি পরিদর্শণ করেন এবং দ্রুত শিক্ষার্থীদের ওই ভবন থেকে সরিয়ে পাশর্^বর্তী আশ্রায়ন কেন্দ্র ভবনে পাঠ দান করার জন্য প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

এছাড়াও তিনি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বড় ধরনের দুর্ঘটনাসহ কোমলমতি শিশুদের জীবননাশের কারণ হতে পারে। তাই ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ রেখে অন্যত্র পড়াতে বলা হয়। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান অব্যাহত রাখলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে শিক্ষকগন ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে সতর্ক করা হয়।

রোববার গোলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এতে ৬জন শিক্ষক কর্মরত ও প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছেন। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রায় শতাধীক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা হচ্ছে। এ সময় ওই ভবনের বিমে ফাটল দেখা যায়। এ ছাড়া ভবনের পলেস্তারাও খসে পড়তে দেখা যায়। কয়েক দিন আগে পলেস্তারা খসে পড়ে ৪ জন শিক্ষার্থী মারাত্বক আহত হয়। তারপরও ওই ভবনে পাঠদান করা হচ্ছে।
এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, ‘ক্লাস করতে ভয় লাগে। কিন্তু স্যাররা ক্লাস করতে বলে তাই ক্লাস করি।’ চতুর্থ শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী বলে, ‘স্যারদের জন্য ক্লাস করছি। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে স্যাররাই দায়ী থাকবেন।’
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাথী রাণী সাহা বলেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে। সহকারী শিক্ষা অফিসার টিপু সুলতান স্যার পরিদর্শনে এসে আশ্রায়ন কেন্দ্রে পাঠদান করাতে বলে গেছেন। তবে আশ্রায়ন কেন্দ্রে আছে ২টি কক্ষ। আমাদের প্রয়োজন ৫টি কক্ষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন ভবন দেওয়ার জন্যও কেউ গুরুত্ব দেয় না।
পশ্চিম দক্ষিন কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা রাহিমা বেগম বলেন, ‘বিকল্প না থাকায় আমরা জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ একমাত্র ভবনে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কেএম মোস্তাক আহাম্মেদ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এই উপজেলায় যোগদান করেছি। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী রায় বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দু’টি বিদ্যালয় সম্পর্কে আমার জানা নেই। শিক্ষা কর্মকর্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ দু’টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাঙ্গন আরও সংবাদ

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে অনার্স কোর্স সমাপনী উৎসব

কমলনগরে বিএমজিটিএ’র সম্মেলন

শুধুমাত্র পাঠ্য বই পড়ে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন সম্ভব নয়: লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক

লক্ষ্মীপুরে ‘ক্যাডেট কোচিং’ এর যাত্রা

রামগতিতে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা

কমলনগরে প্রাথমিকের পরীক্ষার সেই ভুয়া পরীক্ষার্থীদের বহিষ্কার

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৯
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]