সব কিছু
লক্ষ্মীপুর শুক্রবার , ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

“জাহিদুল আলম পিয়াস” তথ্যসেবায় লক্ষ্মীপুরের এক বিরামহীন সৈনিক

“জাহিদুল আলম পিয়াস” তথ্যসেবায় লক্ষ্মীপুরের এক বিরামহীন সৈনিক

সানা উল্লাহ সানুঃ ২০০৯ সালেও গ্রামঞ্চল তো দূরে থাক লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের নাগরিকরা ও তথ্য প্রযুক্তির তেমন কোন ব্যবহার জানতো না। সে সময় একান্ত প্রয়োজন না হলে কেউ কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতো না। এ জেলা শহরেও কেউ ভাবেনি এক নিমেষে বিদেশে প্রিয়জনের সাথে প্রযুক্তির ব্যবহারে সরাসরি কথা বলতে পারবে।

piaspic-1ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন যখন বাস্তবে তখন গ্রাম আর শহরের ব্যবধান কমতে শুরু করে। ২০১০ সালে সরকার একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)র আওতায় জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়নে স্থাপন করে ৬৮টি তথ্যসেবা কেন্দ্র। লক্ষ্মীপুর জেলাব্যাপী এসব তথ্যসবা কেন্দ্রে যুক্ত এ জেলারই স্থানীয় শতাধিক তরুণ-তরুণী। এদেরই একজন জাহিদুল আলম পিয়াস। সবাই তাকে পিয়াস নামেই ডাকে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তথ্যসেবা কেন্দ্রের বর্তমান টেকনেশিয়ান তিনি। প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা দিয়ে তার পরিচিতি এখন পুরো জেলায়। পরিচিতজন, প্রশাসন, সহকর্মী এবং তথ্য গ্রহিতাসহ সকল ধরনের মানুষের কাছে তিনি তথ্য সেবার অনন্য সৈনিক। তার কাজে আছে আস্থা আর বিশ্বাস। কারণ অন্য দশজন সহকর্মীর মতো সে শুধু রুটিন দায়িত্বই পালন করেন না।

দৈনন্দিন চলতি দায়িত্বের বাহিরে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রতিমূর্হতে পোস্ট করে যাচ্ছেন প্রয়োজনীয় সরকারী-বেসরকারী সব নোটিশ ও প্রজ্ঞাপন অথবা বিজ্ঞাপন। কখনো শিক্ষকদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাশের তথ্য, কখনো পরীক্ষার রুটিন, ভর্তি তথ্য, কৃষিতথ্য, চাকুরী বিজ্ঞাপন,বাল্য বিবাহের কুফল ইত্যাদি হাজারো সেবার প্রয়োজনীয় তথ্য। তার এসব তথ্যের পোস্ট থেকে উপকৃত হচ্ছেন হাজারো মানুষ। তাছাড়া লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের প্রতিদিনের প্রতিটি কাজ তিনি প্রশাসনের পক্ষে পোস্ট করছেন উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক আইডিতে। সে সকল পোস্ট থেকে সাধারণ মানুষ যেমন পাচ্ছে তথ্য, তেমনি সংবাদকর্মীরাও পাচ্ছে প্রয়োজনীয় তথ্য। জেলার কয়েকজন সাংবাদিকের দেয়া তথ্যমতে, দ্রুত তথ্য পাওয়ার কারণে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের সংবাদ মিডিয়াতে বেশি আসছে। ওই সাংবাদিকদের বিশ্বাস,এ কাজে ফেসবুক পোস্টগুলো বড় ভূমিকা রাখছে। নিজের দৈনন্দিন কাজের বাহিরে সে কাজটি করছেন এ উদ্যেমী যুবক পিয়াস। আর এভাবেই নিজের কাজ এবং মিডিয়া কাভারেজের সূত্রে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান হয়ে উঠেছেন জেলার জনপ্রিয় প্রশাসন। চলতি বছরে নিজ কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও’র পুরস্কার

এভাবে তথ্য প্রযুক্তিগত সেবার মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন সদর উপজেলার টেকনেশিয়ান যুবক জাহিদুল আলম পিয়াস। অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে জনগণ কেন্দ্রীক সেবা সমূহ জনগণের দোঁড়গোড়ায় নিশ্চিত করতে কাজ করছে উদ্যোক্তা পিয়াস।

পিয়াস বলেন, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিলেও স্বপ্ন ছিল তথ্য প্রযুক্তিগত সেবায় জেলাকে আলোকিত করে বাংলাদেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। আজ সে তার বাস্তব রূপ দিয়ে সর্বক্ষেত্রে পেয়েছে অগণিত প্রশংসা।

তিনি আরো বলেন, “ আমার দৈনন্দিন কাজের বাহিরে সরকারি কাজে সহযোগিতা করাও আমার দায়িত্ব কারণ সরকার এ কারণেই আমাদের কে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে উদ্যোক্ত হিসাবে তৈরি করেছেন।” তিনি ২০১৪ সালের জেলা পর্যায়ে আয়োজিত ডিজিটাল মেলায় জেলার সেরা উপজেলা টেকনিশিয়ান হিসেবে পুরষ্কার লাভ করেন।

লক্ষ্মীপুর আর্দশ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল মজিদ জানান, পিয়াসের কারণে শিক্ষা বিষয়ক অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য আমরা দ্রুত পাই এবং তার তথ্যে আমাদের আস্থা আছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, জাহিদুল আলম পিয়াস উদ্যোক্তা জনগণ কেন্দ্রীক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় নিশ্চিত করার প্রচেষ্ঠায় খুব আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। তার জন্য আমাদের শুভ কামনা।

জাহিদুল আলম পিয়াস লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাধীন লাহারকান্দি ইউনিয়নের লাহারকান্দি গ্রামের মৃত বদরুল আলম এর ছেলে। ২০১৪ সালে তিনি সদর উপজেলার টেকনিশিয়ান পদে যোগদান করেন। পাশাপাশি তিনি লক্ষ্মীপুর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্নাতক( সম্মান) শেষ বর্ষে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

এটুআই সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের একটি যৌথ উদ্যোগে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রসহ উপজেলা পর্যায়ের এ সকল তথ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউএনডিপির প্রশাসক মিস হেলেন ক্লার্ক ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে সেগুলো উদ্বোধন করেন। এগুলো স্থাপনের মূল লক্ষ্য হলো, স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠান সমূহকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। যাতে এই সব প্রতিষ্ঠান ২০২১ সালের মধ্যে একটি তথ্য ও জ্ঞান-ভিত্তিক দেশ প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সকল কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ফলে সাধারণ নাগরিক এখন সহজে ও কম খরচে, ঝামেলাহীনভাবে প্রায় ৬০ ধরনের সরকারি বেসরকারি সেবা পাচ্ছে এবং প্রতিনিয়িত যুক্ত হচ্ছে আরো নতুন নতুন সেবা। পাশাপাশি এই সব কেন্দ্র সরকারি, বেসরকারি তথ্য ও সেবাসমূহ জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যেতে, প্রযুক্তি বিভেদ দূর করতে ও সকল নাগরিককে তথ্য প্রবাহের আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে সুদুর প্রসারী ভূমিকা রাখছে।

লক্ষ্মীপুর সংবাদ আরও সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে প্রতিবন্ধী দিবস পালিত

লক্ষ্মীপুরে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরে শহীদ শেখ মণি’র জন্মদিনে খতম ও দোয়া

রায়পুরে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার বিচার চেয়ে মানববন্ধন

শুধুমাত্র পাঠ্য বই পড়ে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন সম্ভব নয়: লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক

আইজলের দু পা শুকিয়ে দিন দিন সরু হয়ে যাচ্ছে

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৯
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]