সব কিছু
লক্ষ্মীপুর বুধবার , ২২শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং , ৯ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৭শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২৩ বছরের অপেক্ষা, এর পরে ও

একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২৩ বছরের অপেক্ষা, এর পরে ও

মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন: আমাদের সংবিধানের আর্টিকেল ১৫(ক) এবং ১৭এর(ক) অনুযায়ী প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার ও অবৈতনিক করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব হলেও সত্য আমাদের সকল স্তরে বা সকল স্থানে এখনও শিক্ষার নন্যূতম অধিকার টুকুও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আমরা এর বাস্তবতা খুঁজতে খুব বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নাই। বহু গ্রাম পাড়া মহল্লা, চরাঞ্চল রয়েছে যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে শত শত পরিবার তাদের শিশুদের শিক্ষার আলো দিতে পারছে না। এরূপ একটি গ্রামের কথা নিম্নে উপস্থাপন করছিঃ

বাংলাদেশের সুপরিচিত জেলা লক্ষ্মীপুর সদর থানার অন্তর্গত বর্তমান ১৯ নং তেওয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আন্দারমানিক গ্রামের একটি বাস্তব ঘটনা। মেঘনা নদীর প্রবল ভাঙ্গন শেষে এখন থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে আন্দারমানিক গ্রামটির সৃষ্টি। পলি পড়া উর্বর ফসলি ভূমি হওয়ার কারণে এই গ্রামে বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষি নির্ভর পরিবারগুলি বসতি গড়ে তোলে। উক্ত গ্রামের দৈর্ঘ্য উত্তর দক্ষিণে প্রায় প্রায় ৫ কিলোমিটার। বর্তমানে ৪০০-৫০০টি পরিবারের বসবাস। ২০০০ সালের আগে এই গ্রামে চলাচলের জন্য কোন রাস্তা ছিল না। লক্ষ্মীপুর শহর থেকে ২২-২৫ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত চরাঞ্চল হওয়ার কারণে সরকারী বা স্থানীয় প্রতিনিধির নজরে এই গ্রামটির কোন অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় আসেনি। ২০০০ সালে একটি গুচ্ছগ্রাম সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হয়েছে। যার সুবাধে একটি পাকা রাস্তার নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু রাস্তাটি তৈরি হওয়ার পর অদ্যবধি কোন উন্নয়নমূলক কাজ বা মেরামত না করার কারণে উক্ত পাকা রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোন গাড়ী চলা ত দূরের কথা পায়ে হাটাও কষ্টকর।

যাহোক বলছিলাম শিক্ষার কথা। এতগুলি পরিবার এই গ্রামে বসবাস করলেও এদের শিশু-কিশোরদের জন্য গড়ে ওঠেনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু নানাবিধ কারণে উক্ত উদ্যোগ বা চেষ্টা শেষ পর্যন্ত স্থবির হয়ে পড়েছিল। আশির দশকে একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসা গড়ে ওঠেছিল এই গ্রামে। সরকার উক্ত মাদ্রাসার অনুমোদন না দেওয়ার কারণে কিছু দিন পর মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর পর দীর্ঘ ৮-১০ বছর সময় চলে যায়।

১৯৯১ সালে দক্ষিণ আন্দারমানিক এ-জামান বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি বিদ্যালয় স্থানীয় উদ্যোগে যাত্রা শুরু হয়ে ছিল। নানা চড়াই উতরাই পার করে ৮ বছর অপেক্ষার পর ১৯৯৮ সালে স্থাপনও চালুর অনুমোদন প্রাপ্ত। ১৯৯৯ সালে অস্থায়ী অনুমোদনের জন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। যার অফিসিয়াল তথ্য নি¤œপরূপ ঃ

বিগত ১৫/০১/১৯৯৮ ইং তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ২৯১/রেজিঃ/৯৩/২৩৭/১০ এর মূলে বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্থাপন ও চালুর অনুমোদন প্রাপ্ত হয়। উপ-পরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম মহোদয়ের স্মারক নং ডিডি/প্রাই/চ-বিচ-২৮৪১, তারিখ ১৩/০৬/’৯৯ ইং এর মূলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, লক্ষ্মীপুর মহোদয়ের স্মারক নং ৭৭৯৬/৯৯ তারিখ ৩১/১০/’৯৯ইং এর মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে অস্থায়ী রেজিষ্ট্রেশন প্রদানের জন্য নির্ধারিত ফরমে পরিদর্শন প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি প্রেরণ করা হয়।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে গরীব এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে, সরকারী নানা নিয়মের জটিলতা, শিক্ষকদের বেতন-ভাতার নন্যূতম অংশ পরিশোধ করতে না পারা, বিনাবেতনে শিক্ষকগণ দীর্ঘ সময় শ্রম দিতে রাজি না থাকা, সরকারী অফিসের খরচ চালিয়ে যেতে না পারার কারণে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০০০ সালে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ২৫০-৩০০ ছাত্র/ছাত্রীকে রেখে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কোন দাতা সংস্থা বা কোন ব্যক্তি ও বিদ্যালয়টির সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। বিদ্যালয়টি বন্ধ হওয়ার কারণে এই গ্রামের প্রায় ৩০০ শিশুর মধ্যে ৮০% শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার অভাবে অনেক শিশু নানা রকম ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে জড়িত হয়ে পড়ছে বছর পর বছর থেকে।

বর্তমানে এক জরিপে দেখা গেছে এই গ্রামে ৯০% শিশু-কিশোর শুধু মাত্র মক্তবের শিক্ষার উপর নির্ভর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে উক্ত গ্রামে প্রায় ৩০০-৪০০ শিশু বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগী। এই সকল শিশু-কিশোর বিদ্যালয় দূরের কারনে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ না পেয়ে বিভিন্ন নুরানী-হাফিজি মাদ্রাসায় পড়ার দিকে ঝুঁকছে অনেক শিশু-কিশোর।

গ্রামের লোকজনের সাথে আলাপ করতে গেলে প্রথমে চলে আসে শিক্ষার কথা। তাদের নিজেদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হওয়া নিয়ে ভাবেন না। কিন্ত তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ের অভাবে পড়াতে পারছেন না, এটাই বড় কষ্টের সাথে বলেন। এখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হলে ৩০০-৪০০ শিশু কিশোর শিক্ষার সুযোগ পাবে।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারী শর্তের সকল শর্ত পূরন করা এখানে সম্ভব। জমি একটি বড় শর্ত। বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ৩০ শতাংশ জমি স্থানীয় একজন ব্যক্তি দান করেছেন। স্থানীয়ভাবে ৪-৫জন শিক্ষক ও পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু গরীব এলাকায় হওয়ায় অবকাঠামো তৈরির জন্য পর্যাপ্ত ফান্ড সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। যার কারণে বিদ্যালয়টি চালু করা যাচ্ছে না। বিদ্যালয়টি চালু করতে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রয়োজন বিদ্যালয় ভবন, আসবাব পত্র ও একটি টিউবওয়েল বসানো এবং ৪-৫জন শিক্ষকের নন্যূতম সম্মানী। সবমিলিয়ে প্রাথমিক পর্যালে ৮-১০ লাখ টাকার প্রয়োজন।

আপনাদের সকলের কাছে আমার অনুরোধ- আমাদের গ্রামের শত শত শিশুকে শিক্ষার আলোতে আলোকিত করার জন্য আপনি বা আপনার কোন আত্মীয় বা আপনার বন্ধু বা আপনার পরিচিত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি আমাদের এই মহতি উদ্যোগের সাথে শরিক হতে চান তাহলে আপনার এই সহযোগিতার কথা আমরা চিরদিনের জন্য স্মরণ করব।

এই বিষয়ে যোগাযোগর জন্য মোবাইল নং ০১৭১-৬২৫৩৪৪৩ বা ০১৯৩৪৩১২১০০বা জনাব আনোয়ার উল্যাহ মিয়া মোবাইল নং ০১৮৩১৯৬১১৪৯-তে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি। আমাদের বিদ্যালয়ের একটি সঞ্চয়ী হিসাব সোনালী ব্যাংক লক্ষ্মীপুর শাখায় রয়েছে। বর্তমানে হিসাবটি পুনঃ চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। হিসাবটি চালু হলে আমরা যে কোন অংকের সহযোগিতা (সরকারী-বেসরকারী ও ব্যক্তির অনুদান) উক্ত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে গ্রহণ ও বিধি মোতাবেক ব্যয়ের ব্যবস্থা করব।

আপনাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

শিক্ষাঙ্গন আরও সংবাদ

রায়পুরে মাইলস্টোন ভোকেশনাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট উদ্বোধন

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের দুই অধ্যক্ষকে বিএনসিসি’র গার্ড অব অনার

অধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন পাঠানকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে সাংবাদিক সমিতির বিদায়ী শুভেচ্ছা

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে সাংবাদিক সমিতি গঠন

আন্দারমানিকের সেই বিদ্যালয়ে লক্ষ্মীপুরের প্রবাসী আমেরিকানদের ১ লাখ টাকা অনুদান

অধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন পাঠানকে বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস, রেড ক্রিসেন্টের বিদায়ী সংবর্ধনা

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৯
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]com