সব কিছু
লক্ষ্মীপুর বুধবার , ২০শে মার্চ, ২০১৯ ইং , ৬ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ১৩ই রজব, ১৪৪০ হিজরী

এক বছরে লক্ষ্মীপুরে প্রায় ২ হাজার মোটরসাইকেল চুরি

এক বছরে লক্ষ্মীপুরে  প্রায় ২ হাজার মোটরসাইকেল চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক,লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোরঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর এবং রামগতি উপজেলায় মোটরসাইকেল চোরদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। পুরো জেলায় রয়েছে এ নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি।এরা ৪-৫ মিনিট সময় পেলেই কৌশলে মোটরসাইকেল নিয়ে উধাও হয়ে যায়। আর এভাবে প্রতি মাসেই প্রায় গড়ে ৮/৯টি মোটর সাইকেল চুরি করছে তারা।

ভুক্তভোগী, পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১ বছরে জেলার কমলনগর, রায়পুর, রামগতি, লক্ষ্মীপুর সদর ও রামগঞ্জে পালসার, ডিসকভার, বাজাজ ও হিরোসহ বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন ব্যান্ডের বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন ২ হাজার মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও নানা স্থাপনাসহ বাসাবাড়ি থেকে গত এক বছরে এসব মোটর মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ অবস্থায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেও চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। এ নিয়ে মোটরসাইকেল মালিকরা আতঙ্কে রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, ইমাম, ইউপি চেয়ারম্যান, শিক্ষক, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংকার, পল্লী চিকিৎসক, ছাত্র ও প্রবাসী রয়েছেন।

এত বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল চুরি হলেও মাত্র ২০/২৫টি চুরির ঘটনায় থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হলেও অন্য ঘটনাগুলোতে কোন অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ কে জানানোর পরও পুলিশ চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার ও চোরদের আটক করতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় না।

১ম রমজানে (২৮ মে) কমলনগরের তোরাবগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ আবদুল কাদের ভুইঁয়া মাগরিবের নামাজের সময় মসজিদের সামনে তার মোটরসাইকেলের লক লাগিয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজ থেকে ফিরে দেখেন তার মোটরসাইকেলটি (লক্ষ্মীপুর ল-১১-১৮৩৩) উদাও। সাথে সাথেই ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানোসহ কমলনগর থানায় জিডি করা হয়। পরে লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপারকে ও বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু ঘটনার ১০ দিন পরেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোন তৎপরতা দেখেনি বলে ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন।

তোরাবগঞ্জ এলাকা থেকে কাদেরর মতো আরো ৮টি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। এদের মধ্যে ব্যবসায়ী সুমন, আমিন ওর্য়াকসপের আমিন, ব্যবসায়ী মমি, ব্যবসায়ী রাজু, কলেজ ছাত্র তানজুর রহমান রুবেল, আবদুস ছলিম পাটোয়ারীর মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে গত ৫ মাসের মাথায়। আর গত এক বছরে পুরো কমলনগরে প্রায় ২শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের তথ্য থেকে জানা যায়। এ সময় একই ভাবে রামগতি থেকে প্রায় ২শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি হয়।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি রায়পুর শহরের মোহাম্মদিয়া হোটেলের কাছ থেকে ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের ও ৬ জানুয়ারি স্কুলশিক্ষক হারুনুর রশিদ ও প্রবাসী সাইফুল ইসলামের মোটরসাইকেল চুরি হয়। এর আগে গত ডিসেম্বরে চর বংশীর বালু ব্যবসায়ী আলম পাটোয়ারী, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তা তছলিম উদ্দিন, চরপাতা গ্রামের ফারুক হোসেন, বামনী গ্রামের জাকির হোসেন ও গত বছরের নভেম্বরে কেরোয়া গ্রামের ব্যবসায়ী মো. সবুজ মিয়ার মোটরসাইকেল রায়পুর বাজার থেকে চুরি হয়। এ ছাড়া গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সাড়ে রায়পুর পৌরসভার গিয়াস উদ্দিন, মহসিন মিয়া, মোঃ ইব্রাহিমসহ চারশতাধিক ব্যক্তির মোটরসাইকেল চুরি হয়।
লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিক রবিউল, স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ প্রায় শতাধিক জনের মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে।

রামগঞ্জ উপজেলার আঙ্গারপাড়া এলাকার আবুল হোসেন পাটওয়ারী, দরবেশপুরের মিজানুর রহমান, কাজীরখিলের জামাল হোসেন, রতনপুরের রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, শোয়াইব হোসেন, সাতারপাড়া এলাকার রেজাউল করিম খোকন, মাহফুজুর রহমান সুমন, ইসমাইল হোসেন, ভোলাকোটের কবির হোসেন মোল্লা, আলীপুরের আবদুর সাত্তার, আঙ্গারপাড়ার মো. হানিফ, পশ্চিম আঙ্গারপাড়ার বাদলেরসহ পাঁচশতাধিক ব্যক্তির মোটর সাইকেল চুরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর কে জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন স্থানের কিছু ইয়াবা ব্যবসায়ী তাদের সাথে ক্ষমতাসীন দলের নাম বিক্রি করা কিছু কর্মী মোটরসাইকেল চুরির সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।

তারা চালক ও মালিকদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ৪-৫ মিনিট সময় পেলেই মোটরসাইকেল নিয়ে উধাও হয়ে যায়। আবার অনেক সময় বাড়ির দরজা বা গ্রিল কেটেও মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। সংঘবদ্ধ প্রশিক্ষিত চোরদের কাছে সব সময় বিভিন্ন মোটরসাইকেলের একাধিক চাবি থাকে। তারা চুরি করা মোটরসাইকেল ২-৩ ঘন্টার মধ্যে কয়েক হাত বদল করে।

চুরির পর এ সকল মোটরসাইকেল মজুচৌধুরীর হাট ফেরিঘাট হয়ে ভোলা, বরিশাল, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ এবং কুমিল্লায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে দেয় তারা। অনেক সময় মালিকের সাথে যোগাযোগ করে বিক্রিত দামে মালিক কে ফেরত দেয় তারা।
রামগঞ্জের কৃষি ব্যাংকের মাঝিরগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক আবদুস সাত্তার লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর কে জানান, গত বছরের ১৪ জুন রাতে তার মোটরসাইকেলটি চুরি হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তিনি চোরের সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমঝোতা করে চার দিন পর কুমিল্লা থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেন।

এত গুলো মোটরসাইকেল চুরি হলেও এ পর্যন্ত রামগঞ্জ, রায়পুর ও লক্ষ্মীপুরে চোরাই মোটরসাইকেল চোরের ৬ জন কে আটক করতে পেরেছে পুলিশ। তবে অভিযোগ রয়েছে তারা চুরির দুর্বল মামলায় জামিনে এসে আবার সে একই কাজে মনোযোগ দিয়েছে।

এ সকল বিষয় জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর কে বলেন, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় থানায় জিডি হলে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার ও চোরদের আটক করতে পুলিশি অভিযান করে। প্রতিনিয়ত পুলিশ যানবাহনের কাগজপত্র চেক করছে।

আরো পড়ুন:

লক্ষ্মীপুরের সিসি ক্যামরায় আরো দুইটি মোটরসাইকেল চুরির দৃশ্য

লক্ষ্মীপুর আরও সংবাদ

সালাহ উদ্দিন টিপুর প্রতি কপিল উদ্দিন কলেজ ছাত্রছাত্রীদের সমর্থন

কমলনগরে শিক্ষককের মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরে পিকআপ ভ্যান চাপায় পথচারী নিহত

কমলনগরে উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভা

রামগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ সিএনজি পাম্প, যেকোনো সময় দূর্ঘটনার সম্ভাবনা

লক্ষ্মীপুরের গোবিন্দ সাহা, ক্যামরার পিছনেই যার ৩৩ বছর

লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম ২০১২ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক: সানা উল্লাহ সানু
রতন প্লাজা (৩য় তলা) , চক বাজার, লক্ষ্মীপুর-৩৭০০
ফোন: ০১৭৯৪-৮২২২২২,ইমেইল: [email protected]