গাইনী চিকিৎসক তানিয়ার অবহেলায় বরিশালে নবজাতকের মৃত্যু

946731_613731455360329_245312533_nবরিশাল: বরিশাল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ও উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তানিয়া আফরোজ এর অবহলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবী করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন নবজাতকের বাবা সিএন্ডবি ১ নংপুলের বাসিন্দা টিআইবি কর্মী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
তার অভিযোগে বলেন, তার স্ত্রী কামরুন নাহার লিজা ডা. তানিয়া আফরোজ এর একজন রোগী। তিনি সন্তান সম্ভবা হওয়ায় ৩ মে ২০১৪ তারিখের আলট্রাসনাগ্রাম এর রিপোর্ট অনুযায়ী প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল ২৬ অক্টোবর ২০১৪। পরবর্তীতে ডা. তানিয়া আফরোজ এর পরামর্শক্রমে ৮ অক্টোবর তারিখে পূণরায় আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়।
রিপোর্ট দেখে ডা. তানিয়া আফরোজ ২৮ অক্টোবর ২০১৪ তারিখ প্রসবের তারিখ দেন এবং সবরকম রিপোর্ট দেখে সব ঠিক আছে বলে রোগীকে আশ্বস্থ করে ২৮ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। রোগীর ২৭ অক্টোবর রাতে প্রসব বেদনা ওঠে এবং ২৮ তারিখ সকাল থেকে পানি ভাঙ্গে, ফেনা জাতীয় পদার্থ বের হয় এবং রক্তপাত হয়। ২৮ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৭.৩০ থেকে ৮টার সময় ডা. তানিয়া আফরাজ এর সাথে আমি মোবাইল ফোনে রোগীর বিস্তারিত অবস্থা অবহিত করা হলে ডা. তানিয়া রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।
রোগীর অবস্থা দেখে হাসপাতাল থেকে তাকে অবহিত করবে বলেও রোগীর স্বামীকে আশ্বস্থ করেন। রোগীকে ১১টার সময় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল লি: এ নিয়ে এসে কর্তব্যরত চিকিৎসক এর কাছে পূণরায় রোগীর সকল ইতিহাস বলা হলে তিনি রোগীকে নরমাল চেকআপ করে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর সামনেই ডা. তানিয়া আফরোজের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপ করে আবারো আলট্রাসনোগ্রাম করার জন্য বলেন। আলট্রাসনোগ্রাম এর রিপোর্ট দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন বলে রোগীকে জানান। রোগী ভর্তি করার জন্য অনুরোধ করলে তিনি ভর্তির অনুমতি দেন। দুপুর ১.৩০ ঘটিকায় রোগী ভর্তি করা হয়। দুপুর ২.৩০ ঘটিকায় আলট্রাসনোগ্রামের রিপার্ট দেয়া হয়।
যে বাচ্চার অবস্থা আশংকাজনক সেই আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে ডা. ফারজানা ইয়াসমীন ৭ নভেম্বর ২০১৪ তারিখ প্রসবের তারিখ দেন। এরই মধ্যে পিভি পরীক্ষাও করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক রিপোর্ট দেখে ডা. তানিয়া আফরোজ এর সাথে কথা বলে সিজার করা লাগবে বলে রোগীর স্বামীকে জানান। কখন সিজার করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন ম্যাডাম রোগী দেখে সুযোগ মতো সিজার করবেন। সেটা সন্ধ্যায়ও হতে পারে আবার অনেক রাতও হতে পারে। অবশেষে ওটি রুমে একসাথে ৮ থেকে ১১ জন রোগীকে ডা. তানিয়া আফরোজ সিজার করার জন্য প্রবেশ করান।
রোগী এতো সিরিয়াস হবার পরও তার সিজার হয় দুইজন রোগীর সিজার করা পর রাত ৭.৪০ ঘটিকায়। ওটি রুমে তিনি সিজার করার ফাঁকে রোগীও দেখেন এবং আনুমানিক ১৫জন রোগীকে তিনি ওটি রুমে দেখতে থাকেন। ডা. তানিয়া রোগীর সিজার করার পর বাচ্চা অসুস্থ দেখতে পান এবং বাচ্চার বাবাকে ডেকে বলেন বাচ্চা ভিতরে পায়খানা করে খেয়ে ফেলেছে তাই বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। সিজার করার অনেকক্ষণ পরেও তারা বাচ্চাকে ওটি রুমের মধ্যে রাখেন। বাচ্চা যখন রোগীর স্বজনদের কাছে দেয়া হয় তখন আনুমানিক রাত ৮.৩০ ঘটিকা এবং তখনও বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। কেবিনে ডাক্তার ডাকা হলে তিনি বাচ্চাকে দেখার পর অক্সিজেন ও স্যালাইন দেন এবং অনেক সময় পর শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুজিবর রহমান এসে বাচ্চাকে শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ এ রেফার করেন।
অ্যাম্বুলেন্স এ করে বাচ্চাকে শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ এ আনুমানিক রাত ৯.৩০টায় নেয়া হয়। হাসপাতাল গেট থেকে অক্সিজেন খুলে ফেলা হয়। ঐ সময়ে অক্সিজেন সহ যিনি বাচ্চার অভিভাবকের সাথে যান তাকে অনেক অনুরোধ করার পরও তিনি অক্সিজেন সহ শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ এর ভিতরে যেতে রাজি হননি। অ্যাম্বুলেন্স চালক তখন রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে তিনশত টাকা আদায় করে মানি রিসিপ্ট দেন।

এখানেও তিনি সময় ক্ষেপন করেন। যেহেতু নবজাতকের মা হাসপাতালে ভর্তি তাই অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পরে দিতে চাইলেও স্বজনরা চালক সাহাবুদ্দিন কে কোনভাবেই রাজি করাতে না পোরে টাকা দিতে বাধ্য হন। এভাবে শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ এর গেট থেকে শিশু ভর্তি পর্যন্ত শিশুটিকে অক্সিজেন ছাড়া বেশকিছু সময় থাকতে হয়। শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ এর শিশু বিশেষজ্ঞ শিশু কে দেখে বলেন শিশু পেটে পায়খানা করে খেয়েছে এবং নি:শ্বাসের সাথে ফুসফুসে গিয়েছে। তাই শিশুর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। অবস্থা খুবই আশংকাজনক।

অক্সিজেন ছাড়া বাচ্চা নেয়ায় ডা. স্বজনদের ভৎসনাও করেছেন। ডা. তাদের আরো জানান কমপক্ষে ৫-৬ ঘন্টা আগে সিজার করা প্রয়োজন ছিল। এভাবে চিকিৎধীন থাকা অবস্থায় শিশুটি ২৯ অক্টোবর রাত ৮.২০ ঘটিকায় মারা যায়।
রোগীর স্বামী জানান তার স্ত্রীর থাইরয়েডের সমস্যা ছিল। এসব কিছু জানার পরেও ডা. তানিয়া আফরোজ এভাবে বিলম্বে সিজার করায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে মারা যায়। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এর ক্ষতিপূরণ দাবী করেন এবং কর্তব্যে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক সহ দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। অন্যথায় তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করবেন।