লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক সম্প্রাসারণে কাটা হচ্ছে ৫ হাজার গাছ !

তাবারক হোসেন আজাদ: রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের শতবর্ষীসহ ছোট-বড় ৪ হাজার ৫শ ৮৫টি গাছ কাটতে চায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যায়ে বায়পুর-লক্ষ্মীপুর ও জাতীয় সড়ক সাম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ওইসব গাছ কাটার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গাছ টাকার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছে সওজ বিভাগ। পরিবেশবাদীরা বলছেন, গাছ রেখেই মহাসড়ক সম্প্রাসারন কাজ সম্ভব। আর সেটি না করা হলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। অপরদিকে-মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ন পুরাতন গাছগুলো না কাটার ফলে প্রায় সময়ে দূর্ঘটনা ঘটে পথচারি, পরিবহন ও যাত্রীরা ক্ষতিগস্থ হচ্ছেন। কয়েক দিন আগে রায়পুর সরকারি হাসপাতালের সামনে ও ভূইয়া রাস্তা সংলগ্ন সড়কের পাশে দুটি পুরাতন গাছ পড়ে ৬টি দোকান, বিদ্যুতের খুটি ও তার ছিড়ে গিয়ে ৪দিন যোগাযোগসহ সকল কাজ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

লক্ষ্মীপুর জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে একনেকের সভায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রায়পুর-লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ পর্যন্ত জাতীয় সড়কের ৪০ কিলোমিটার যথাযথ মান ও প্রশস্ততার উন্নীতকরণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এ সড়কের উভয় পাশে শতবষীসহ বিভিন্ন বয়সী ৪ হাজার ৫৮৫ টি গাছ রয়েছে। অপরদিকে চলতি বছরের মার্চ মাসে একনেকের সভায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যায়ে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর চন্দ্রগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রশস্তকরণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে ৪ হাজার ৫৮৫টি বিভিন্ন বয়সী গাছ রয়েছে। উভয় প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী ‘মহাসড়কের প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার থেকে বৃদ্ধি করে ১০ দশমিক ৩ মিটার করা হবে। একই সঙ্গে সড়কের উভয় পাশে ১ মিটার করে মাটির জায়গা রাখা হবে। এতে সড়কের প্রস্থ দাঁড়াবে ১২ দশমিক ৩ মিটার। সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মহাসড়কের উভয় পাশের মোট ৪ হাজার ৫৮৫টি গাছ কাটাতে হবে।

লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম কথা বলতে রাজি হন নাই। তবে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম বলেন, মহাসড়কের দুই পাশের গাছ ও জমির গাছগুলো কাটার প্রক্রিয়াধীন শেষ। লক্ষ্মীপুর চন্দ্রগঞ্জ থেকে রায়পুর বর্ডার বাজার পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার সড়কের পাশের পুনারতন ঝুঁকিপূর্ন গাছগুলো সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে অপসারন করা হবে।

জেলা বন বিভাগের উপ-পরিচালক নুরে আলম হানিফ জানান, সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে প্রায় ৪০ কিলোমিটার আঞ্চলিক এ মহাসড়কের দু’পাশে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো নোয়াখালি আঞ্চলিক অফিস থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে অপসারনের প্রক্রিয়াধীন শেষ হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে গাছগুলো কাটার ব্যবস্থা করা হবে।