লক্ষ্মীপুরে ডিজাস্টার অ্যান্ড ক্লাইমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইন এগ্রিকালচার প্রকল্প চলছে

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের সমগ্র উপকূলীয় এলাকায় তথা দক্ষিণাঞ্চলের ১৪টি জেলার জন্য ২০১৩ থেকে ২০২১ মেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘মাস্টার প্ল্যান ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ইন দ্য সাউদার্ন রিজিওন অফ বাংলাদেশ’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সামগ্রিক কৃষির উন্নয়নের জন্য এফএও’র (ফাও) সার্বিক সহযোগিতায় এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী।

রবিবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত তরীকত ফেডারেশনের সংসদ সদস্য এমএ আউয়ালের (লক্ষ্মীপুর-১) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, মহাপরিকল্পনার আওতায় দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক কৃষি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতসহ পানি ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং জনগণের জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২৬টি কর্মসূচির আওতায় টপ, হাই, মেডিয়াম, লো_ এই চারটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৮৫টি ইনটারভেনশনস চিহ্নিত করা হয়েছে। মতিয়া চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লক্ষ্মীপুর জেলায় ডিজাস্টার অ্যান্ড ক্লাইমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইন এগ্রিকালচার প্রকল্প এবং উপকূলীয় এলাকায় সাতটি জেলায় লবণাক্ত ও পতিত জমিতে কৃষি সমপ্রসারণ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, লবণাক্ত সহনশীল ফসল ও ফলের ভুট্টা, চিনাবাদাম, সফেদা, আম (আম্রপালি), লেবু চাষ, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও ব্যবহার, সামাজিক বনায়ন সৃষ্টির জন্য নার্সারি স্থাপন, পতিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য সবজি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পারিবারিক খামার তৈরি।

সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার (কুমিল্লা-১) প্রশ্নের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, সরকার কৃষকের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ ও কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন করেছে এবং কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, প্রান্তিক কৃষক তাদের উৎপাদিত দানাদার ফসল মাড়াই পরবর্তী সময়ে (মৌসুমে) নিম্নমূল্যে বিক্রয় করে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে লক্ষ্যে দেশের ৩৫টি জেলার ৮৮টি উপজেলায় ১২৬টি গুদামের মাধ্যমে শস্য গুদাম ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শস্য গুদাম ঋণ কার্যক্রমের আওতায় তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রান্তিক কৃষকদের গুদামে ফসল সংরক্ষণ ও গুদাম পরিচালনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। ২০০৯ থেকে ১৩ পর্যন্ত ৫ বছরে প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় দেশে প্রায় ১ লাখ কৃষক পরিবার উপকৃত হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ৫ বছরে ৪৫ হাজার ৮৬ জন কৃষককে ৪৬ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন শস্য জমার বিপরীতে ৬৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।