রায়পুরের কাছিয়ারচর আশ্রায়ণ কেন্দ্রে চরম দূর্ভোগ

তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাসেবা, সুপেয় পানি, ও টয়লেট না থাকা ও সরকারী সুবিধা না পাওয়ায় রায়পুর উপজেলার চরবংশী ইউনিয়নের কাছিয়ারচর আশ্রায়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দারা চরম দূর্ভোগে রয়েছেন। গত ১৪ বছর প্রশাসন জানলেও যেন দেখার কেউ নেই। বাসিন্দারা একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং জেলা প্রশাসকের নিকট এসব সুবিধা পাওয়ার আবেদন করে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

মঙ্গলবার সরজমিনে গিয়ে আশ্রায়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দাদের সাথে কথা বললে তারা তাদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করার চিত্র দেখা যায়।

আশ্রায়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন (৭০) ও আমির হোসেন (৬৭)সহ কয়েকজন জানান, ২০০১ সালে আ’লীগ সরকার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৮নং দক্ষিন চরবংশীর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পাড়ে ১ একর ৪৮ শতাংশ জমিতে নদী ভাংঙ্গন, দুস্থ ও অসহায় ৬০ পরিবারকে বসতঘর তৈরীসহ চরে প্রতিজনকে এক একর করে জমি বরাদ্ধ দেন। তাদের সুবিধার্থে আশ্রয়ণ কেন্দ্রের এলাকায় দু’টি পুকুর, একটি ডিপকল, ৬টি টয়লেট ও একটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করে দেন। কিন্তু আজও পর্যন্ত শিশুদের জন্য স্কুল গড়ে তোলা হয়নি। ওই কেন্দ্রের প্রায় ১০০ শিশূ কিশোর ৩ মাইল পথ হেটে সরকারী স্কুলে যেতে হয়। অনেকে স্কুলে না গিয়ে কৃষি কাজ ও নদীতে মাছ ধরতে চলে যায়। আশ্রায়ন কেন্দ্র নির্মানের এক বছরের মাথায় পুকুর দু’টি ভেঙ্গে যায়, পানির কল ও টয়লেট গুলো পরিত্যক্ত হয়। কোন উপায় না পেয়ে কেন্দ্রের পাশে খোলা জায়গা ও নদীর পাড়ে মল-মুত্র ত্যাগ করতে হয় বাসিন্দাদের। বাসিন্দাদের খোঁজ-খবর রাখার জন্য ১২ সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়া হয়। কিন্তু কমিটির কার্যক্রম না থাকায় তা তিন বছর আগে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এতে দেখা দেয় নানান বিশৃংখলা ও অবৈধ কর্মকান্ড ।

আশ্রয়ণ কেন্দ্রের কিশোরী সুরমা আক্তার ও কাকলী বলেন, তারা দু’জনেই অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। এ আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ৪৫জন কিশোরী রয়েছে। তারা দিনের বেলায় নদী ও পুকুর থেকে পানি এনে অসুধের দ্বারা পরিস্কার করে তা পান করতে হয়। দিনের বেলায় কেন্দ্রের পাশে মল-মুত্র ত্যাগ করলেও রাতে ভয়ে মহিলারা ঘর থেকে বের হয় না। গত এক বছরে ১২জন মেয়েকে দুরের স্কুলে আসা যাওয়ার পথে বখাটেদের অত্যাচারে লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছে। প্রায় সময় তারা ইভটিজিংয়ের শিকার হন। ফাঁড়ি থানায় অভিযোগ বা মামলা করলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে আশ্রায়ণ কেন্দ্রের সঘোষিত নেতা ও ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, কেন্দ্রের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কথা ও সরকারী সুবিধা পাওয়ার জন্য একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যানসহ জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। কিন্তু গত ১৪ বছরে এ কেন্দ্রের বাসিন্দারা কোন সরকারী সুয়োগ সুবিধা পায়নি বলে দাবি করেন।

রায়পুর উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদার বলেন, এ আশ্রয় কেন্দ্রের সুযোগ সুবিধা ও সমস্যা দেখে থাকেন স্থানীয় এমপি। কিন্তু গত দুইবারের সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা আবুল খায়ের ভুইয়া সরকারী সকল সুয়োগ সুবিধা তার দলের নেতাকর্মীসহ লুটপাট করে খেয়েছেন। বাসিন্দাদের দুভোগের বিষয়টি নিয়ে বর্তমান এমপি ও জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক একেএম টিপু সুলতান বলেন, আশ্রায়ন কেন্দ্রের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কথা তার জানা নেই। সরজমিন গিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেবেন।