আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে লক্ষ্মীপুর গবেষণা !

নিজস্ব প্রতিনিধি: উচ্চতর গবেষণার জন্য বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইন(ইউসিআই)র পিএইচডির একটি বিশেষ গবেষণায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর।লক্ষ্মীপুরের নদী ভাঙ্গনের খবর সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যে বিশেষ ভাবে ফুটে ওঠেছে তা দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে ওই গবেষণায়। গবেষণাটি এ বছরের ২২-২৪ জুন কানাডার সানটাবারবারায় আর্ন্তজাতিক ACM LIMITS সেমিনারে তা উপস্থাপিত হয়েছে।এর আগে গত ২০১৬ সালের  নভেম্বর থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চলে এ গবেষণা।

“এ স্ট্যাডি অফ হ্যাশট্যাগ একটিভিজম ফর রাইজিং অ্যাওয়ারনেস এবাউট রিভারব্যাংক ইরোশান ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক এ গবেষণাটি করেছেন, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের পিএইচডির গবেষক মারুফ জুবায়ের। তার তত্ত্বাবধানে ছিলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফোরমেটিক্স বিভাগের প্রফেসর ড. বন্নি নরদী এবং নিউইর্য়ক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিভাগের প্রফেসর ড. জ্যা চেন।

 

গবেষণাপত্রটি বর্তমানে বিশ্ববিখ্যাত এসিএম ডিজিটাল লাইব্রেরী (ডিএল) এ সংরক্ষিত আছে। এসিএম ডিজিটাল লাইব্রেরী (ডিএল) হচ্ছে কম্পিউটিং এবং ইনফরমেশন টেকনোলজি বিষয়ের গ্রন্থের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডাটাবেস।

গবেষণার কাজে বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর বিশেষ করে রামগতি, কমলনগর এলাকায় বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমেরকর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নানা ব্যবহারকারী ও তাদের পরিচালিত সামাজিক বিভিন্ন গ্রুপ এবং পেইজ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।গবেষণা শেষে লক্ষ্মীপুরের নদী ভাঙ্গার ন্যায় পৃথিবীর এ রকম যে কোন স্থানীয় সমস্যা সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচার করে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব বলে মতামত দিয়েছেন গবেষকগণ।যার মাধ্যমে দেখা হয়েছে যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি বিশেষ টুল হ্যাশট্যাগ  কিভাবে জনগুরুত্বপূর্ন বিষয় কে একত্রিত করে প্রচার করে।

গবেষক মারুফ জোবায়ের এবং গবেষণাপত্রটি থেকে জানা যায়, গবেষণাপত্রটির উদ্দেশ্য ছিল উন্নয়নশীল ও স্বল্প উন্নত দেশে দূযোর্গপীড়িত মানুষ নদী ভাঙ্গার মতো একটি বিষয় সমাধানে কিভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হ্যাশট্যাগের ব্যবহার করে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে তা দেখানো। গবেষকগণ ইতোমধ্যে আরো ৮টি দেশের প্রযুক্তি নির্ভর আরো কয়েকটি বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন।

গবেষণাটিতে যা ছিল:

গবেষণাটিতে বলা হয়েছে হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে ওই এলাকার বেশ কিছু তুরুণ ও যুবক তাদের এলাকার নদী ভাঙ্গার সমস্যাগুলো কাংখিত ব্যক্তিদের নিকট পৌঁছাতে পেরেছেন এবং সমাধান পেতেও শুরু করেছেন। স্থানীয় সংবাদকর্মী সানা উল্লাহ সানু বিভিন্ন ব্যক্তি ও মিডিয়ায় প্রচারিত নিজ এলাকার নদী ভাঙ্গার সংবাদগুলো একত্রে পাওয়ার জন্য সোস্যাল মিডিয়ায় তিনটি বিশেষ হ্যাশট্যাগ তৈরি করেন।

এরপর তিনি তা ব্যবহারের নানা দিক নিয়ে স্থানীয় কমিউনিটি বেইজ অনলাইন সংবাদ মাধ্যম লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোরে একটি নিবন্ধন প্রকাশ করেন। সে সূত্র ধরেই সে হ্যাশট্যাগ গুলোও এলাকার নেটিজেনদের কাছে ব্যাপক জাগরণ সৃষ্টি করে। তার ডাকে সাড়া দিয়ে ওই এলাকার ইন্টারনেট ব্যবহারকারি তরুণ ও যুবক সোস্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ ব্যবহার শুরু করে নিজেদের এলাকার নদী ভাঙ্গার খবরগুরো প্রচার শুরু করে। এ সকল তরুণ ও যুবকেরা ১৬-৩৪ বছরের মাঝামাঝি বয়সের ছিল।

সাধারণ মানুষ ছাড়াও অল্প সময়ের মধ্যে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ওই এলাকার সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠন গুলো নদী ভাঙ্গার খবর, চিত্র এবং তথ্য অনলাইনে ব্যাপক প্রচার শুরু করে।

সংবাদ মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় অনলাইন গণমাধ্যম লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর, দৈনিক কালেরকন্ঠ, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক প্রথম আলো, উপকূল বাংলাদেশ ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ব্যাপক ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ফেসবুক ভিত্তিক সংগঠন হৃদয়ে রামগতি, ভয়েস অব রামগতি, রামগতি বাঁচাও ছাত্রসংঘ, রামগতি-কমলনগর অনলাইন এ্যাক্টিবিষ্ট ফোরামসহ বেশ কয়েকজন অনলাইন ব্যবহারকারি ব্যাপক ভূমিকা রাখে।এ সকল কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সামাজিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার এখন ওই এলাকায় নদী ভাঙ্গারোধে কাজ শুরু করেছে।

গবেষকের বক্তব্য:

গবেষণার বিষয়টি নিয়ে গবেষক মারুফ জাবের যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কাইফির মাধ্যমে এ প্রতিবেদক কে জানান, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য এক জায়গায় ব্যবহার করে কিভাবে স্থানীয় সমস্যা প্রচার ও প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় তা গবেষণা করতে গিয়ে তিনি সারা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলণগর উপজেলার তথ্য বেশি পেয়েছেন। তিনি জানান, আমিসহ আমার সাথে অন্য গবেষকরা অভিভুত হয়েছে বাংলাদেশের মতো একটি দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের মানুষ যখন বিশ্বমানের একটি মডেল ব্যবহার করেছে। তিনি আশা করেন এর মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে এ ধারণা টি ছড়িয়ে পড়বে যেখানে বাংলাদেশ হবে মডেল। যদি ও হ্যাশট্যাগ ব্যবহার এর মধ্যেই প্রথম নয়। কিন্তু নদী ভাঙ্গার মতো সমস্যা উপস্থাপনে এটি প্রথম হতে পারে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন,বাংলাদেশের নদী ভাঙ্গার মতো একটি সমস্যা স্থানীয় ব্যবহারকারিগণ যেভাবে বিশ্বব্যাপী প্রচার করতে সমর্থ হয়েছে ঠিক এমনি ভাবে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সমস্যা পীড়িত নাগরিকরা তাদের সমস্যা গুলো তুলে ধরতে পারেন। এর মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যম গুলো ব্যবহারকারীদের কন্ঠস্বর হিসেবে গড়ে ওঠবে। অন্যদিকে এ গবেষণা কর্মটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার পর তা দেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্ণেল ইউনিভার্সিটির গবেষণা সহযোগি প্রফেসর ড. ইশতিয়াক আহমেদ নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেন, হ্যাশট্যাগ একটিভিজমের মাধ্যমে বাংলাদেশের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার নদী ভাঙ্গার যে চিত্র ফুটে ওঠেছে আশা করছি কর্তৃপক্ষ তা অচিরে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহন করবে। গবেষকগণ তাদের গবেষণার শেষে আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রযু্িক্ত কে শুধু বিনোদনে না রেখে তা ব্যবহার করে তথ্য প্রাপ্তি ও সামাজিক সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশের তরুণ ও যুব সমাজ যে আইডিয়া তৈরি করেছে তা খুব শীঘ্রই সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। গবেষক মারুফ জুবায়ের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার এন্ড ইনফরমেশান সাইন্সে গ্রাজুয়েশ সম্পন্ন করার পর বর্তমানে বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালির্ফোনিয়া ইভারনে ইনফরমেটিক্স বিষয়ে পিএইচডি করছেন। তার বাড়ি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায়।

ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি:

ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি (ইউসি) সারা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ও নামকরা ইউনিভার্সিটির অন্যতম একটি। চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রাখা নভোচারী নীল আমষ্ট্রং এ ইউনিভার্সিটির ছাত্র। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এ ইউনিভার্সিটির ৬২ জনছাত্র নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ও গবেষণাগারে ১৮টি রাসায়নিক পদার্থ আবিস্কৃত হয়েছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেম। ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির ১০টি ক্যাম্পাসের অন্যতম ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইন(ইউসিআই)। যেটি উচ্চতর গবেষণার জন্য পৃথিবীখ্যাত। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া আরভাইনে অবস্থিত। সে ইউনিভার্সিটির ইনফরমেশান এন্ড কমিউনিকেশন সাইন্স ফ্যাকাল্টিতে পিএইচডি ডিগ্রীর গবেষণায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের উপকূলীয় এবং নদী ভাঙ্গা কবলিত লক্ষ্মীপুর জেলা।

কি ছিল হ্যাশট্যাগে?

কি এই হ্যাশট্যাগ তা জানতে চাইলে নদী ভাঙ্গার খবর প্রচারের হ্যাশট্যাগ তৈরি করার উদ্যোক্তা দৈনিক সংবাদের স্থানীয় সাংবাদিক এবং লক্ষ্মীপুরের কমিউনিটি বেইজ অনলাইন সংবাদ মাধ্যম লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোরের সম্পাদক সানা উল্লাহ সানু বলেন, আমরা স্থানীয় সংবাদকর্মীরা প্রায় সময় স্থানীয় সমস্যা হিসেবে নদী ভাঙ্গনের সংবাদ তৈরি করে নিজেদের গণমাধ্যমে প্রেরণ করি। আবার অন্য সাধারণ নাগরিকরা প্রতিদিনই তাদের নিজ নিজ সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইলে নদী ভাঙ্গন বিষয়ে অসংখ্য ছবি, তথ্য এবং ভিডিওসহ নানা বিষয় তুলে আলোচনা করছে। কিন্তু এর সব কিছুই দিনের ব্যবধানে ইন্টারনেটের বিশাল রাজ্যে হারিয়ে যায়। সে জন্য আমি এলাকার নদী ভাঙ্গনের বিষয়ে নানা সংবাদ, ছবি, আলোচনা এবং সমালোচনা একত্রে গুচ্ছ ভিত্তিক উপস্থাপনের লক্ষ্যে ফেসবুক, টুইটার, গুগল-প্লাস, ইউটিউবের জন্য তিনটি হ্যাশট্যাগ তৈরি করি। তিনি আরো বলেন, আমি বহু আগ থেকেই ব্যক্তিগত ভাবে এলাকার নদী ভাঙ্গনের সংবাদের ক্ষেত্রে হ্যাশট্যাগ ব্যববহার করতাম। তবে ২০১৫ সালের শেষ দিকে আমার সাংবাদিক ও অনলাইন বন্ধুদের তা জানিয়ে দিই। অনেক কে ব্যক্তিগত ভাবে সরাসরি বা ফোনে বিষয়টি বুঝিয়ে বলি। এরপর ২০১৬ সালে আমার তৈরি করা হ্যাশট্যাগ গুলো ব্যাপক ভাবে প্রচার শুরু হয়।

এখন এ তিনটি হ্যাশট্যাগের যে কোনটি চাপলেই ওই এলাকার নদী ভাঙ্গনের শত শত তথ্য চোখের সামনে এক জায়গায় চলে আসছে। তিনি বলেন, নদী ভাঙ্গনের তথ্যের জন্য আমি মূলত ৫টি হ্যাশট্যাগ চালু করি। নিজ এলাকা কমলনগরের জন্য #savekamalnagar, রামগতির জন্য¨#saveramgoti, লক্ষ্মীপুরের জন্য #erosionlakshmipur, বাংলাদেশের জন্য #erosionInBangladesh এবং সারা পৃথিবীর নদী ভাঙ্গনের সাথে নিজ এলাকার নদী ভাঙ্গনের তথ্য যোগ করতে #riverErosion । তবে ব্যবহারকারীরা প্রথম তিনিটি হ্যাশট্যাগই ব্যবহার শুরু করে। তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার তরুণ এবং যুবক নিজের ওয়াল, গ্রুপ এবং ফেইজে তিনটি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার শুরু করে। পরে যা একটি সামাজিক আন্দোলনে রুপ নেয়।

তাদের এলাকায় চলামান বাধঁ তৈরির নানা খুঁটিনাটি এবং ভাঙ্গনের নানা দৃশ্য বিভিন্ন প্রোফাইল , বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে এক জায়গায় আসতে শুুরু করে। ফলে সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক এবং নীতি নির্ধারকগণ নদী ভাঙ্গা আর কমলনগর ও রামগতির প্রকৃত দৃশ্য ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সার্চ দিয়ে এক জায়গায় তথ্য পেতে শুরু করে। আর সেভাবেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদী ভাঙার গবেষণা করতে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ইউসি)র গবেষক মুরুফ জাবের লক্ষ্মীপুরের এ তথ্যগুলো নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।

রামগতি-কমলনগরের নদী ভাঙ্গন ও সামাজিক আন্দোলন:

স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতি একটি উপকূলীয় জনপথ। সেখানকার নদী ভাঙ্গা ওই জনপদের মানুষের প্রধান সমস্যা। ২০০৬ সালে রামগতি বিভক্ত হয়ে কমলনগর ও রামগতি নামে দুটি উপজেলা সৃষ্টি হওয়ার আগে মূল রামগতির আয়তন ছিল ৬৬৩ বর্গ কিমি। দীর্ঘ ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাবে ভাঙ্গনের ফলে এ দু উপজেলার প্রায় ২৫০ বর্গ কিমি এলাকা মেঘনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অব্যাহত ভাঙ্গনে শত শত ঘরবাড়ি, নানা ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য যুগযুগ ধরে এ এলাকার জনসাধারণ নিজ এলাকাসহ রাজধানী শহর ঢাকা পর্যন্ত প্রতি বছরই নানা কর্মসূচী পালন করেছিল। সে সকল কর্মসূচীর মধ্যে হরতাল, ধর্মঘট ও বাদ পড়েনি। এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট চালুর পর থেকে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারিরা তাদের দৈনন্দিন কর্মসূচী প্রত্যক্ষভাবে ছাড়া ও অনলাইনে প্রচার শুরু করে। ২০১৩ সালের পর তাদের সে প্রচারের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যে কারণে ২০১৪ সালে সরকার ওই দুটি উপজেলার কিছু এলাকার জন্য প্রায় ১শ ৯৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহন করে। ১শ ৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করতে চাইলে স্থানীয় অনলাইন ব্যবহারকারিগণ সে কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দাবি করানোর দাবি তোলে প্রচারণা অব্যাহত রাখে। শেষ পর্যন্ত সরকার রামগতির কাজটি সরাসরি সেনাবাহিনীর তত্ত্ববধানে করানোর উদ্যোগ নেন। তাতে কাজের মান নিয়ে ওই এলাকার মানুষ সন্তুষ্ট হয়।

অন্যদিকে কমলনগরের কাজটি সেনাবাহিনীর সরাসরি তত্ত্ববধায়নে না করানোর কারণে সেখানের কাজের মান নিয়ে ইতো মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ সব তথ্যের বেশির ভাগই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারিদের নানা ছবি ও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে জানা যায়। তাদের এ সকল ছবি, তথ্য ও সূত্র নিয়ে অনেক সময় স্থানীয় সাংবাদিকরা সংবাদ তৈরি করে যা দেশের জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আসছে।