বৃহত্তর রামগতির মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা

রামগতি প্রতিনিধি: মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন ২০১৭ উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের বৃহত্তর  রামগতির মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ও পৃথক ভাবে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় যুদ্ধকালীন রামগতি উপজেলা কমান্ডের উদ্যোগে উপজেলার ভাই ভাই কমিউনিটি সেন্টারে ওই পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য স্থানীয় সাংসদ যুদ্ধকালীন রামগতি-হাতিয়া জোন অধিনায়ক (বিএলএফ-মুজিববাহিনী) মোশারফ হোসেন, রামগতি থানা অধিনায়ক (বিএলএফ-মুজিববাহিনী) হাসান মাহমুদ ফেরদৌস, রামগতি থানা উপ-অধিনায়ক (বিএলএফ-মুজিব বাহিনী) মশিউল আলম হান্নান, রামগতি-হাতিয়া জোন উপ-অধিনায়ক (বিএলএফ-মুজিববাহিনী) শাহ্ আবদুল মাজেদ ও বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: সফিক উদ্দিনকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ সময় তাদেরকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও রামগতি-কমলনগরের ২৫০জন মুক্তিবাহিনীর মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে রামগতি-কমলনগর উপজেলার বীরমুক্তিযোদ্ধাগণ জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পতাকা উত্তোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরশহীদদের স্মরণে ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

যুদ্ধকালীন রামগতি-হাতিয়া জোন অধিনায়ক মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে এতে অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সাংসদ মোহাম্মদ আবদুল্যাহ আল মামুন (এমপি)।

রামগতি থানা অধিনায়ক হাসান মাহমুদ ফেরদৌস এর স লনায় এতে বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর পৌর সভার মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা এম.এ তাহের, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজল কান্তি দাস, সাবেক জেলা বীরমুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হুমায়ুন কবির তোফায়েল, কমলনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ সফিক উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ, রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আজগর আলী, রামগতি পৌর সভার মেয়র এম মেজবাহ উদ্দিন, থানা অফিসার্স ইনচার্জ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা হামদে রাব্বি, যুদ্ধকালীন রামগতি থানা মুক্তিবাহিনী (এফএফ) একেএম আজাদ উদ্দিনের মেয়ে মুনমুন আক্তার সহ প্রমুখ।

এসময় বক্তরা তাদের বক্তব্যে বলেন, আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ জাতীয় চার নেতার নেতৃত্বে একটি অসাম্প্রদায়িক, সুখি-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। অনেকগুলো সংগ্রামের বিজয়ের পর ১৬ডিসেম্বর চুড়ান্ত মহান বিজয়। কোন লক্ষ্য বা দাবি আপোষের মাধ্যমে আদায় হয়নি। প্রত্যেকটি দাবি আদায় করতে আমাদের সংগ্রাম, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে মিমাংসা করতে হয়েছে। তারা নতুন প্রজন্মকে আহ্বান করে বলেন, ভবিষ্যতে যাতে আমরা কোন আপোষ না করে সংগ্রামের মাধ্যমে শহীদদের স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারি।