কমিউনিটি রেডিও উপকূল বাসীর দুর্যোগকালীন বন্ধু হিসেবে কাজ করতে পারে

মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন : বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সকল দেশে যখন তথ্য ও প্রযুক্তি তথা মোবাইল, ইন্টারনেট, ওয়েব সাইট ইত্যাদি প্রতিটি সচেতন মানুষের গন্ডি পেরিয়ে এখন অতিসাধরণ মানুষের দ্বার প্রান্তে আবার অন্যদিকে টিভি, বেসরকারী বাণিজ্যিক এফএম রেডিও’র প্রচারনা তুঙ্গে, তখন প্রশ্ন উঠতে পারে কমিউনিটি রেডিও কেন প্রয়োজন ? আর কমিউটি রেডিও তো বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। তাহলে কমিউনিট রেডিওগুলোর ভবিষ্যতে টিকে থাকার পরিকল্পনা কি? কমিউনিটি রেডিও দক্ষভাবে পরিচালনার জন্য উদ্যোগতাগণ অভিজ্ঞতা কোথা থেকে কিভাবে পেতে পারেন? এ জাতীয় রেডিও ষ্টেশনগুলো স্থাপনের জন্য কে বা কারা আবেদন করতে পারে? এতে সরকারী নীতিমালাই বা কি? ইত্যাদি প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া গেলে সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে কমিউনিটি রেডিও সম্পর্কে একটি সম্যক ধারাণা জম্মাবে বলে আশা করি।
আমি আমার লেখায় উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো। তবে তার আগে কমিউনিটি রেডিও সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা উপস্থাপন করছি। বাংলাদেশে বেতার বা সরকার পরিচালিত রেডিও’র ইতিহাস খুব বেশি দিন না হলেও একেবারে কম হয়েছে তা বলা যাবে না। আমাদের দেশের স্বাধীন বাংলাবেতারের সাথে এদেশের আপময় জনতা কম-বেশি পরিচিতি। তাই আজ আর এ বিষয়ে কথা না বাড়িয়ে সরাসরি কমিউনিটি রেডিও’র ইতিবৃত্ত নিয়ে কতিপয় ধারণা আলোচনা করছি। বিশ্বের উন্নয়শীল দেশ বা অঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা হলো তাদের অধিকাংশ মানুষই তথ্য থেকে পিছিয়ে রয়েছে। মানুষের সার্বিক উন্নয়নের একটি মাত্র মাধ্যম হলো গণমূখী গণমাধ্যম। বিভিন্ন দেশে সরকারী ব্যবস্থাপনায় কতিপয় রাষ্টীয় গণমাধ্যম রয়েছে; যা কিন্তু নানা বাস্তবতার কারণে জনবান্ধব না হয়ে রাষ্ট্রতন্ত্রের প্রভাবে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর বিভিন্ন ফিরিস্তি গীত গাইতে গিয়ে জনবান্ধব না হয়ে সরকার বান্ধব হয়ে ওঠে। তাই এই জাতীয় গণমাধ্যম থেকে মানুষ ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে স্বাধীন মতপ্রকাশের মাধ্যম খুঁজতে শুরু করে। যার ফল শ্রুতিতে আজ সমাজে নানা গণমাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে। কমিউনিটি রেডিও এই গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে একটি। এই কমিউনিটি রেডিও একটি নামই নয় বলতে গেলে এটি একটা সংগ্রাম। এই সংগ্রাম একদিন দুইদিনের নয়। বছরের পর বছর ধরে অব্যাহতভাবে কতিপয় উদ্যোগী মানুষের সংগ্রামের ফসল। ১৯৭৩ সালে কানাডার University of Waterloo (UW) এর কতিপয় ছাত্র বিশ্বের সর্ব প্রথম এই সংগ্রাম শুরু করেছিল । তারা সর্বপ্রথম কমিউনিটি টেলিভিশন নিয়ে কাজ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি করেছিল। কিন্তু কানাডিয়ান রেডিও-টেলিভিশন এন্ড টেলিকমিউনিকেশনস কমিশন (সিআরটিসি) প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ঠিক রেখে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের কমিউনিটি রেডিও স্থাপনের অনুমোদন প্রদান করে। যা ছিল FM 98.5 CKWR। এর পর ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে এর সফলতা আসতে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপালে সর্বপ্রথম কমিউনিটি রেডিও স্থাপনের জন্য কতিপয় তরুণ সাংবাদিক ১৯৯০ সালে এই সংগ্রাম শুরু করে। অবশেষে সরকার ১৯৯৭ সালে তাদের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে তৃণমূলের মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে একটি গণমাধ্যম থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বাংলাদেশের একদল উন্নয়ন গবেষক ও উন্নয়নকর্মী। বিশেষ করে বিএনএনআরসি নামের একটি সংগঠন ও এর উদ্যোগতা এএইচএম বজলুর রহমানের ৯ বছর ব্যাপী ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলশ্রুতি হিসেবে ২০০৮ সালে তখনকার তত্ত্বাধায়ক সরকার কমিউনিটি রেডিও’র পলিসিটি গ্রহণ করে । ২০০৯ সালে সরকার এই পলিসি অনুমোদন করে এবং কমিউনিটি রেডিও বাংলাদেশে প্রথম বারের মত অনুমোদন প্রাপ্ত হয়। এর পর ২০১১ সাল থেকে সম্প্রচার শুরু। অবশেষে রাজশাহীতে সিসিডি বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে প্রথম কমিউনিটি রেডিও রেডিও পদ্মা নামে ২০১১ সালের ৭ অক্টোবর সম্প্রচার শুরু হয়। আজ থেকে ৫-৭ বছর আগে মানুষ কমিউনিটি রেডিও কি তা জানত না। এখন জানছে। তথ্য জানার নানা মাধ্যম আবিস্কৃত হচ্ছে। এটা আধুনিক সভ্যতার একটা ইতিবাচক দিক। আমাদের মূলধারার গণমাধ্যমে তৃণমূল মানুষের প্রবেশাধিকার অতিসীমিত। এই ধারার গণমাধ্যমগুলি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খবরের প্রতিবেশি আগ্রহী। তাই এই গণমাধ্যমগুলিতে উপকূলীয় প্রান্তীক বা পাহাড়ী অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সাথে জড়িত সংবাদ বা উন্নয়নমূলক প্রচারনার তেমন সাড়া পাওয়া যায় না। আমরা যদি আরো একটু গভীরভাবে ভাবি তাহলে দেখব আমাদের কমিউনিটি জনগণ যারা এখনও দিনের সূর্য্যরে আলোর উপর নির্ভরশীল, যারা জীবনের ৮০% সময় শুধু হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করেই যাচ্ছে, যারা নিয়মিত নির্ভরশীল আমাদের সমাজের তথাকথিত মহাজনদের কাছে। যারা নিজেদের অধিকার জানার অভাবে বছরের পর বছর, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম শুধু বঞ্চিত হচ্ছে নানা দিক দিয়ে। এই ধারার মানুষ রয়েছে নানা পেশার সাথে সম্পৃক্ত। এই পেশার মানুষগুলি তথ্য জানার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে। কিন্তু প্রয়োজন সচেতনতা, প্রয়োজন তাদের এই পেশার সম্ভাবনাময় দিকগুলি তুলে ধরার জন্য উপযুক্ত গণমাধ্যম। এই মানুষগুলি আমাদের সভ্য সমাজের তথ্য প্রযুক্তির আবিষ্কার যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে তাদের ভাগ্যের আমুল পরিবর্তন ঘটাতে পারে। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তিকে আমরা কতটুকু কাজে লাগাতে পেরেছি, তা আজ ভাবনার বিষয়। আমরা প্রযুক্তির ভাল ব্যবহারগুলিকে বা ভাল দিকগুলিকে আমাদের সমাজের মানুষের কাছে তুলে না ধরে এর নেতিবাচক দিকগুলি নিয়ে বেশি বেশি কথা বলি। যার ফল হয় উলটো। ভাল না হয়ে খারাপ হয়ে দেখা দেয়। পরবর্তীতে দেখা যায় ভাল দিক বাদ দিয়ে নেতিবাচক দিক প্রতিহত করতে সকলে উঠে পড়ে লাগি। এটি অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। এই সকল বেড়াজাল থেকে সহজে গণমানুষের মাঝে তথ্য প্রদানের মাধ্যম হিসেবে বেতার একটি অপ্রতিরোধ্য মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। এক্ষেত্রে কমিউনিটি রেডিও একটা সহজ গণমাধ্যম যারমাধ্যমে সাধারণ মানুষগুলো সহজে জেনে নিতে পারে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য, শুনতে পারে বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান ইত্যাদি। এছাড়া রেডিও’র একটা বিশেষত্ব রয়েছে। যেমন-টিভি দেখার জন্য একটা সময় নিয়ে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় বসে থাকতে হয়। রেডিও’র ক্ষেত্রে তা করতে হয় না। যে কেউ যে কোন স্থানে রেডিও সেট বসিয়ে রেখে অন্যকাজের ফাঁকে রেডিও কর্মসূচী শুনতে পারে। ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য কম্পিউটার, মডেম ইত্যাদি ব্যয়বহুল ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করার ক্ষমতা কতজন মানুষের রয়েছে? সেক্ষেত্রে রেডিও খুব সহজে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারে। এখন রেডিও’র আলাদা সেট কেনার ও প্রয়োজন হয় না। কমবেশি সবগুলি পরিবারে মোবাইল সেট ব্যবহার করে রেডিও শুনতে পারে। এছাড়া কমিউনিটি রেডিওতে স্থানীয় এলাকার স্থানীয় ভাষায় মূল কর্মসূচীগুলি প্রচার করা হয়, বিধায় স্থানীয় মানুষের ভাষা বোঝার বিষয়টি অতি সহজ হয়।শুধু তাই নয়। জাতীয় বেতারের গণবান্ধব অনুষ্ঠানগুলি সংযোগ করে স্থানীয় এবং তৃণমূল মানুষের সাথে সংম্পর্ক বিনির্মাণে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। আমরা যারা উপকূল অঞ্চলের মানুষ তাদের সাথে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিত্য সঙ্গী হয়ে আছে। কমিউনিটি রেডিও উপকূল বাসীর দুর্যোগকালীন বন্ধু/বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করতে পারে। আমাদের জাতীয় বেতারের কাজে নানা বাস্তবতার কারণে সব জেলা বা সব জায়গার স্থানীয় ভাষায় প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়া সম্ভব হয় না । যার কারণে এই কমিউনিটি রেডিও সকল সময় উক্ত এলাকার মানুষের গণমাধ্যম বা তৃণমূলের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করতে পারে। আমরা যদি কিছু দিন আগের কথা বলি; তাহলে দেখতে পাবো আমাদের এই কমিউনিটি রেডিওগুলি কিভাবে আমাদের দুর্যোগকালীন সময়ে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। বিগত ঘুর্ণিঝড় মহাসেন এর সময় উকূলবাসী তাদের মূহুর্তের খবরগুলি এই কমিউনিটি রেডিও’র মাধ্যমে পেয়েছে (কাভারেজ এলাকায়)। উপকূলীয় অঞ্চলের ৬ টি কমিউনিটি রেডিও (১.কমিউনিটি রেডিও নাফ, ২. কমিউনিটি রেডিও সাগারগিরি,৩.কমিউনিটি লোকবেতার, ৪. কমিউনিটি কৃষি রেডিও, ৫. রেডিও সুন্দরবন, ৬. কমিউনিটি রেডিও নলতা) ২৪ ঘন্টা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে এবং ঘুর্ণিঝড়ের আগমন-গতিবিধি, বাতাসের গতিবেগ, কখন কোথায় কি অবস্থানে রয়েছে; কত দূর পর্যন্ত এসেছে ইত্যাদি বুলেটিন অব্যাহতভাবে প্রচার করেছে। উপকূলবাসীর জন্য সুখের খবর হলো উপকূল অঞ্চলে আরো দুইটি কমিউনিটি রেডিও সরকার কর্তৃক অনুমোদন হয়েছে। এর একটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় (রেডিও সাগরদ্বীপ, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার তত্ত্বাবধানে) এবং অন্যটি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় (রেডিও মেঘনা, কোস্ট ট্রাস্ট এর তত্ত্বাবধানে)। এই রেডিওগুলির সেবা গ্রহণ করে নদীভাঙ্গন এলাকা গুলিতে মানুষের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়ে সেবা প্রদান করা যেতে পারে। এই মানুষগুলির প্রয়োজনের কথা তুলে ধরার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে আরো বেশি বেশি সেবা প্রদানের তথ্য প্রদান করা যেতে পারে। আপনারা জানতে পেরেছেন ইতিমধ্যে আমাদের দেশে ১৪টি কমিউনিটি রেডিও ষ্টেশন চালু হয়েছে। সবগুলো ষ্টেশন যথাযথভাবে তাদের অনুষ্ঠান মালা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে চালিয়ে আসছে। এই ষ্টেশনগুলিতে ৫০০-৬০০ কর্মী কাজ করছে। দৈনিক ১০৬ ঘন্টার অনুষ্ঠান সূচী প্রচার করছে। আরো ২টি কমিউনিটি রেডিও অনুমোদন পত্র পেয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী ডিসেম্বর ২০১৩ এর মাধ্যে উক্ত দু’টি কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচার শুরু করবে। এই কমিউনিটি রেডিওগুলিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠী তাদের নিজেদের সমস্যা-সম্ভাবনার কথা নিজেদের মতো করে প্রচার করার এক মাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে গণমানুষের অংশগ্রহণ ও তাদের মৌলিক চাহিদার বিষয়াদি সুন্দরভাবে অতিসহজে তারা জানতে পারবে। মানুষের খাদ্য, কৃষি, আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক অপরাধ ও সমস্যা, সংঘাত, নির্যাতন, গ্রামীণ অবকাঠামো ইত্যাদিসহ নানা উন্নয়ন বিষয়ক তথ্য আদান-প্রদানের একমাত্র মাধ্যম হতে পারে কমিউনিি রেডিও। সূতরাং সময় যতই যাচ্ছে, ততই নতুন প্রযুক্তি আসছে এবং এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে । এই প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে অবহেলিত মানুষের ধারপ্রান্তে কমিউনিটি মিডিয়া তথা কমিউনিটি রেডিও আরো বেশি বেশি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে দেখা দিবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।কমিউনিটি রেডিও স্থাপন ও পরিচালনা করা একটি দীর্ঘকালীন ও চলমান প্রক্রিয়া মাত্র। এদিক থেকে বলতে গেলে আমাদের দেশে কমিউনিটি রেডিও’র সুচনা যুগ। যে কোন কিছুর শুরুটা জটিল হওয়াটা স্বাভাবিক। যত সময় যাবে তত সহজ হবে। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় বলতে গেলে আমাদের দেশে এর কার্যক্রম শুরু করা অনেকটা সহজ হয়েছে। আমাদের সরকার, মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর খুবই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কমিউনিটি রেডিও’র পলিসিটি গ্রহণ করেছেন; যা অন্যান্য দেশে সম্ভব হয়নি। যাহোক আমাদের দেশে আপনি যদি একটি কমিউনিটি রেডিও ষ্টেশন এর অনুমোদন নিতে চান তাহলে আইনগত দিক মেনে নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে www.bnnrc.net এই ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। এই বার আসি এই কমিউনিটি রেডিও’র স্থাপন করার পর আর্থিক তহবিল কোথায় থেকে আসবে? প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান (এনজিও, ক্লাব, সমবায় সমিতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান (যাদের আইনগত রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে) ইত্যাদি) কমিনিটি রেডিও’র জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে যে কোন প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন তারা নিজেদের অর্থায়নে প্রাথমিক পর্যায়ের কাজগুলি করবেন। পরবর্তীতে সম্প্রচার শুরু হলে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক বিজ্ঞাপন দিয়ে এর আয়ের দিকটা নিশ্চিত করা; সেহেতু জনকল্যাণের জন্য কমিউনিটি রেডিও সেহেতু ব্যবসায়িক চিন্তা চেতনা এই রেডিও’র জন্য প্রযোজ্য নয়। এর কাজের ব্যাপকতার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কমসংস্থার্ন ইত্যাদির মাধ্যমে কমিউনিটি জনগণের অংশগ্রহণ, শ্রোতা ক্লাবগঠন, ইত্যাদি বিষয়ে সেবাপ্রদানের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে সাময়িক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
রেডিও ষ্টেশন সম্প্রচার স্রংকান্ত যাবতীয় অভিজ্ঞতা এবং কারিগরি দক্ষতার জন্য বাংলাদেশ এনজিও’জ নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআর), বাড়ী # ১৩/৩, রোড # ২, শ্যামলী, ঢাকা ১২০৭ এ যোগযোগ করা যেতে পারে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন উদ্যোকতাদের সকল ধরনের প্রক্রিয়াগত সহযোতিা প্রদানের জন্য একটি জাতীয় সহায়ক ডেক্সখোলা হয়েছে। প্রয়োজনে (০১৭১৪০৪১০১৭) এই নাম্বারে ফোন করে এতদসংক্রান্ত সহায়তা চাইতে পারেন।