আদর্শ ভাষা জন্য শিক্ষার্থীর যে গুনগুলো থাকা চাই

সায়েম মাহামুদ: ভাষা হচ্ছে মানুষের মনের ভাব প্রকাশ করার অন্যতম মাধ্যম। ভাষাবিদগন ভাষা শিক্ষা পদ্ধতিকে দুইটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেনঃ একুইজিসান বা স্বতঃস্ফুর্ত শিক্ষাে এবং  লার্নিং বা অর্জিত শিক্ষা। এই দুই প্রকারের মধ্যে প্রথম পদ্ধতিতে মানুষ নিজের মায়ের ভাষা শিখে থাকে যার জন্য তার কোন ট্রেনিং বা ক্লাসের দরকার হয়না। কিন্তু অন্য পদ্ধতি যেটি দ্বারা মানুষ নিজের মাতৃভাষা ভিন্ন অন্য ভাষা শিখে থাকে।অন্যকোন ভাষা শিখার জ্ন্য মানুষ একাধিক পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে তারমধ্যে প্রশিদ্ধ হলঃ- গ্রামাট ট্রান্সলেসান মেথোড(জিটিএম) এবং অডিও লিঙ্গুয়াল মেথোড (এএলএম), কমিউনিকেটিভ ল্যাংগুয়েজ টিচিং (সিএলটি)।

নতুন কোন ভাষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছু সাধারণ গুনাবলী লক্ষ্য করা গেছে বলে মত দিয়েছেন বিশিষ্ট ভাষাবিদগন। জোয়ান রবিন ও ডেভিড স্টার্ম তাদের এক যৌথ গবেষনার ভিত্তিতে একজন আদর্শ ভাষা শিক্ষার্থীর ছয়টি গুন খুজে পেয়েছেন তার আলোকেই আজকের এই প্রবন্ধ।
আদর্শ ভাষা শিক্ষার্থী(জিএলএল) এর নিম্নোক্ত ছয়টি গুন থাকলে তার পক্ষে সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজ তথা L2 তে ভাল করা সহজ হবে।
  • শিক্ষা পদ্ধতি নির্বাচনঃ একজন ভাল ভাষা শিক্ষার্থীকে অবশ্যই তার যুতসই একটি শিক্ষা পদ্ধতি নির্বাচন করতে হবে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান পদ্ধতিতে তার না মিললে তার থেকে দুরে সরে না গিয়ে বরং তাকে নিজের মত করে পরিবর্ধন ও সংশোধন করে নিতে হবে প্রয়োজনে বাসায় বসে ঐ ভাষার ব্যাকরন বই অধ্যায়ন করা যেতে পারে। বর্তমান সময়ে নিজের পছন্দসই জিনিস খুজতে আর ঘরের বাহিরে যেতে হয়না বরং ঘরে বসেই বেশী সংখ্যক জিনিসের খোজ নেয়া যায় গুগলের মাধ্যমে।
  • (২) যেকোন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হওয়াঃ জিএলএল’রা অন্ধভাবে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং তারা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থেকে ক্লাসে প্রদানকৃত পদ্ধতিকে নিজের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে। তারা টার্গেটকৃত ভাষায় দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রায়শই ঐ ভাষার রেডিও শুনতে পারে এবং ছায়াছবি দেখতে পারে, গল্পের বই পড়তে পারা যায় বা আশে পাশে ঐ ভাষার কোন বন্ধু বান্ধব থাকলে তাদের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ করা যায়। এতে করে একদিকে যেমন ভাষার উপর দখল বাড়বে তেমনি অন্যদের সম্পর্কটাও পাকাপোক্ত হয়ে গেল।
  • (৩) টার্গেটকৃত ভাষায় সচেতনতা বৃদ্ধিঃ জিএলএল’রা তাদের টার্গেট ভাষা শিক্ষার পদ্ধতিটাকে ব্যাকরণগত এবং প্রায়গিক মিশ্রনের মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে থাকে।অন্যভাবে বলতে গেলে তারা নতুন ভাষাটাকে শুধু যোগাযোগের জন্য বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজেই ব্যাবহার করে না বরং উভয় কাজেই তার সমান প্রয়োগ করে থাকে। তাদের অনেককেই শব্দার্থ শিখতে দেখা যায়, টার্গেটকৃত ভাষায় কারও সাথে কথোপকোথন করতে দেখা যায় আবার মাঝে মাঝে ঐ ভাষা চর্চার জন্য নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করতেও দেখা যায়।
  • (৪) ভাষার প্রতি একাগ্র মনোযোগঃ ভাল শিক্ষার্থীরা কখনই তাদের অর্জিত জ্ঞান নিয়ে সন্তুষ্ট হয়না বরং আরও ভাল করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায় নিরন্তর।নতুন নতুন যেসব অজানা তথ্য তাদের সামনে আসবে তার তাৎক্ষনিক উত্তরের জন্য তারা নিজের বুদ্ধিবৃত্তিকে ব্যবহার করতে পারে এবং পরবর্তীতে তা সংশোধনের জন্য আঞ্চলিক ভাষাভাষীদের সাহায্য নিতে পারে।উদাহরণসরুপ বলা যায়, জনাব আক্কাস আলি একদিন একটি ইংরেজি বক্তব্য শুনছিলেন, তখন এক ভদ্রলোক বলল “I am good in mind but not physically(ফিজিকলি).” প্রাথমিকভাবে তিনি শেষের অক্ষরটি তথা “ফিজিকলি” শব্দটি ধরতে পারেন নি তবে তিনি এর সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে বক্তব্য শোনা সম্পূর্ণ করলেন। অতঃপর তিনি তার ধারনার উপর ভিত্তি করে ডিকশনারি থেকে উত্তর বের করে নিশ্চিত হয়েছেন যে এতদিন আমরা যেই শব্দটিকে “ফিজিকালি” বলতাম সেই শব্দটির সঠিক উচ্চারণ “ফিজিকলি”।
  • (৫) ভিন্ন প্রক্রিয়ায় ভাষা শিক্ষাঃ প্রতিটি ভাষারই আলাদা আলাদা কিছু স্বতন্ত্র নিয়ম থাকে। তেমনি নতুন কোন ভাষা শিখতে হলেও তা নিজের ভাষা শিক্ষার পদ্ধতির মত করে না করে বরং ভিন্ন পদ্ধতি তথা ঐ ভাষার সাথে মিল রেখে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা আদর্শ ভাষা শিক্ষার্থীর লক্ষন।
  • (৬) যেকোন পরিস্থিতে মানিয়ে নেয়াঃ অন্যভাষায় কথা বলতে গেলে আমরা প্রায়শই একটু ইতস্তত বোধ করে থাকি বিশেষ করে ক্লাসে বা কোন মজলিসে যখন কথা বলতে দেয়া হয় তখন আমরা খুব সাধারণ একটা ব্যাপার যা আমাদের সবার জানা সেই ব্যাপারটাতেও ভুল করে বসি। এমন ভুলের কারণে আমরা আমাদের সহপাঠিদের সামনে লজ্বিত হতে পারি কিন্তু একজন আদর্শ শিক্ষার্থী এতে লজ্বিত হবেন না বরং সে তার কথায় কিছু ভুল থাকা সত্বেও তা নিয়েই সামনে এগিয়ে যাবে।
উদাহরণসরুপ একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কথা বলা যায় – জনাব মুস্তাকিম বিল্যাহ, তিনি যখন তার বিশ্ববিদ্যালয়ে সাক্ষাতকার দিতে গেলেন তখন তিনি তার পরিচয় প্রদান কালে সাবজেক্ট “আই” এর সাথে “ডাস” ভার্ব ব্যবহার করে ফেলেছেন। এটা তার এরর বা না জানার কারণে ভুল ছিলনা বরং তার অন্যমনস্কতা বা নার্ভাসনেসের কারণে হয়েছে। তার এই ছোট্ট ভুলে যদি তিনি লজ্বিত হয়ে পররবর্তীতে ভুল হবে মনে করে আর কখনও স্টেজে না উঠতেন তাহলে তিনি হয়ত এই পদে আসিন হতে পারতেন না তাই একজন ভাল ভাষা শিক্ষার্থী হতে হলে তাকে এই গুনটি অবশ্যই থাকতে হবে।
লেখক:  শিক্ষার্থী- আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।