লক্ষ্মীপুরে ১৯ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ

জুনায়েদ আহম্মেদ: অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় কাটিয়ে লক্ষ্মীপুরে বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অ লের কৃষকরা। চলতি মৌসুমে এ জেলায় ১৯ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদনও আশানুরূপ হবে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। জেলায় কৃষকরা এবার হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের বোরো আবাদ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে উফশী জাতের পূর্বাচী জাত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার পাঁচটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় উফশী জাতের ৬ হাজার ৮শত হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ১ হাজার হেক্টরসহ মোট ৭ হাজার ৮শত হেক্টর, রায়পুর উপজেলায় উফশী জাতের ২ হাজার ২ শত ২৭ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ৭ শত ৭৩ হেক্টরসহ মোট ৩ হাজার ৫০ হেক্টর, রামগঞ্জ উপজেলায় উফশী জাতের ৪ হাজার ১শত হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ৪ হাজার হেক্টরসহ মোট ৮ হাজার ১ শত হেক্টর, রামগতি উপজেলায় উফশী জাতের ৮৫ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ৮৫ হেক্টরসহ মোট ১শত ৭০হেক্টর এবং কমলনগর উপজেলায় উফশী জাতের ২০ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ২০ হেক্টরসহ মোট ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৬ হাজার ৭৮৪ হেক্টর জমিতে কম চাষ হয়েছে। তবে ফসল আবাদের জন্য ১ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা লক্ষ্যমাত্রা স্থির হলেও বীজতলা তৈরি হয়েছে ১ হাজার ৬৯৪ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার পিছনে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
জানা যায়, বোরো আবাদ করতে প্রয়োজন ১৩০-১৩৫ দিনের জাত। অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে বীজতলা তৈরি করে ৩০ দিন বয়সী চারা রোপন করলে চৈত্র মাসের শেষে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব। কিন্তু বীজতলা তৈরির সময় গত বছর ডিসেম্বরের ৯, ১০ ও ১১ তারিখে অতিবৃষ্টিতে অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষককে অনেক বেগ পেতে হয়। যা বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রার উপরে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন এলাকার কৃষক জেবল হক জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ২ একর জমিতে পূর্বাচী উফশী জাতের বোরো ধান চাষ করেছেন। এছাড়া সরকারী প্রণোদনা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরামর্শ দেয়ায় ক্ষেতে ভালো ফলনের আশাবাদী তিনি।
রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া জানান, তিনি বর্গা নিয়ে ৫ একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। গত মৌসুমে তিনি হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের চাষ করে বেশ ভালো ফলন হওয়ায় এ মৌসুমেও তিনি বোরো ধানের চাষ করেছেন।
সদর উপজেলার চররমনী মোহন গ্রামের কৃষক রেজ্জাক হোসেন জানান, বোরো ধানের বীজতলা জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হলেও বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ক্ষেতের চাষকৃত বোরো ধানের ভালো ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদী।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবুল হোসেন জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের বোরো চাষীদের বিনামূল্যে বীজ, সার, সেচ ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে অতি বৃষ্টির কারণে বোরো বীজতলা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতো বলে মনে করেন তিনি।