লক্ষ্মীপুরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে

জুনায়েদ আহম্মেদঃ লক্ষ্মীপুরে চলতি মৌসুমের শুরুতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার শঙ্কা থাকলেও ফাল্গুনের শেষে এসে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদনও আশানুরূপ হবে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। জেলায় কৃষকরা এবার হাইব্রিড তেজ, ময়না, টিয়া, এসিআই, হীরা, জাগরণ, সম্পদসহ বেশ কয়েকটি জাতের বোরো আবাদ করেছেন। আর উফশী জাতের বিআর, ব্রিধান, বিনা, ইরাটম২৪, পূর্বাচীসহ কয়েকটি জাতের বোরো আবাদ হয়েছে। তবে হাইব্রিড জাতের মধ্যে হীরা-২ ও উফশী জাতের ব্রিধান২৮ এর আবাদ হয়েছে বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার পাঁচটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৮ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় উফশী জাতের ১০ হাজার ২৩০ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ২ হাজার ২৫০ হেক্টর, রায়পুর উপজেলায় উফশী জাতের ৫ হাজার ৮০ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ১ হাজার ৬২০ হেক্টর, রামগঞ্জ উপজেলায় উফশী জাতের ৪ হাজার ৩ শত হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ৪ হাজার হেক্টর, রামগতি উপজেলায় উফশী জাতের ১৩২ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ১৮৮ হেক্টর এবং কমলনগর উপজেলায় উফশী জাতের ১৭৫ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ১৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২ হাজার ৭৫৯ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। এদিকে বোরো ফসলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে ও ভালো ফলন পেতে জমিতে লগো পদ্ধতি, পাচিং পদ্ধতি ও আলোর ফাঁদ ব্যবহারের পরামর্শ কৃষকদের দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি অধিদপ্তর।
জানা যায়, বোরো আবাদ করতে প্রয়োজন ১৩০-১৩৫ দিনের জাত। কিন্তু চলতি রবি মৌসুমের শুরুতে বোরো বীজতলা তৈরির সময় অতিবৃষ্টিতে অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে চাষীরা শঙ্কিত হয়ে পড়ে। তবে প্রাকৃতিক বৈরী আবহাওয়া বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারেনি। বোরো উৎপাদন বাড়াতে ও জমিতে কীটনাশকের প্রয়োগ কমাতে বোরো ফসলের জমিতে ক্ষতিকর পোকা দমন করতে পাচিং পদ্ধতি ও আলোর ফাঁদ ব্যবহারে এ অ লের বোরো চাষীদের আগ্রহ বেড়েছে। আর জমিতে সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা করতে লগো পদ্ধতিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পদ্ধতিতে দশ লাইন অন্তর এক লাইন ফাঁকা থাকে। এতে করে জমিতে কৃষক ফসলের ক্ষতি ছাড়াই ফাঁকা লাইনে হেঁটে বোরো ক্ষেতের পরিচর্যা করতে পারেন।
সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের বর্গা চাষী আতর আলী। তিনি জানান, এ মৌসুমে ৪০ শতক জমিতে তিনি বোরো আবাদ করেছেন। মৌসুমের শুরুতে ১২ শতক জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করলেও জলাবদ্ধতার কারণে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ফলে স্থানীয় বাজার থেকে হীরা-২ জাতের চারা কিনে আবাদ করেন তিনি। এখন ভালো ফলনের আশায় বোরো ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঙ্খিত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা গ্রামের কৃষক সফি উল্ল্যাহ জানান, মৌসুমের শুরুতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বোরো আবাদে বিলম্ব হয়েছে। মৌসুমের শেষে এসে তিনি ৬০ শতক জমিতে উফশী জাতের ব্রিধান২৮ বোরোর আবাদ করেছেন। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরামর্শ দেয়ায় ক্ষেতে ভালো ফলনের আশাবাদী তিনি।
রায়পুর উপজেলার চরবংশী গ্রামের কৃষক হোসেন মিয়া। তিনি জানান, গত মৌসুমে তিনি হাইব্রিড জাতের এসিআই-১ বোরো ধানের চাষ করে বেশ ভালো ফলন হওয়ায় এ মৌসুমেও তিনি এ জাতের আবাদ করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ বেলাল হোসেন খাঁন জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের বোরো চাষীদের বিনামূল্যে বীজ, সার, সেচ ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে অতি বৃষ্টির কারণে বোরো বীজতলা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও মৌসুমের শেষে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষক কাঙ্খিত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন বলেও মনে করেন তিনি।