রায়পুর আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ জরুরী

জিল্লুর রহমানঃ পূর্বদিকে চাটখিলের সীমানা আর দক্ষিনে মজু চৌধুরীর হাট, পশ্চীমে বরিশালের নিকটবর্তী, মোটামুটি এই হচ্ছে লক্ষ্মীপুর (২) রায়পুর আসনের সংসদীয় এলাকার সীমানা। ভৌগলিক এবং যোগাযোগের দিক থেকে এটি অতি অবাস্তব একটি চিত্র। ষাটের
দশকে রায়পুরের সাতটি ইউনিয়ন এবং রামগঞ্জের দুটি ইউনিয়ন নিয়ে নির্বাচনী এলাকা ছিলো এটি। সত্তরের দশকে রায়পুরের সাতটি এবং লক্ষ্মীপুরের তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছিলো বর্তমান সংসদীয় আসনটি। ১৯৮৪ সালে রায়পুর থানার সাতটি এবং লক্ষ্মীপুর থানার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় লক্ষ্মীপুর(২) রায়পুর আসনটি। যদি জনসংখ্যার অনুপাতেও আসনটির সীমানা নির্ধারন করা হয় তাহলেও লক্ষ্মীপুরের অন্য সব আসনের সাথে বিশাল বৈষম্য পরিলক্ষিত হবে, সব আসন থেকে এই আসনের ভোটার সংখ্যা অনেক বেশি। আবার লক্ষ্মীপুরের প্রতিটি আসনই তার উপজেলার ভিতরে সীমাবদ্ধ একমাত্র রায়পুর ছাড়া ।

রামগতিকে ভেঙ্গে নতুন আরেকটি উপজেলা করায় সেখানে দুইটি উপজেলা আছে, বর্তমান সীমানা নির্ধারনী আইনে লক্ষ্মীপুর(২) রায়পুর আসন পুনর্বিন্যাস হওয়া সময়ের দাবী। নির্বাচন কমিশনের নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, জনসংখ্যা কোটা ও ভোটার কোটার গড়ের ভিত্তিতে জেলার আসন স্যংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। জনসংখ্যা ও ভোটারসংখ্যার গড় হিসাব করে আসন নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও যোগাযোগ সুবিধা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়েছে, সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব উপজেলা অবিভাজিত রাখতে হবে। ইউনিয়ন/সিটি করপোরেশন/পৌরসভার ওয়ার্ড একাধিক আসনের মধ্যে বিভাজন করা যাবে না। প্রশাসনিক সুবিধা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। নির্বাচন এলাকার আয়তন বিবেচনায় রাখতে হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, ‘সংসদীয় আসনের আইন ও বিধিমালার বিষয়ে প্রাথমিক খসড়া নিয়ে কাজ চলছে। সীমানা নির্ধারণে কোনও কোনও বিষয় গুরুত্ব দেওয়া দরকার তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। কমিশন সভায় সব কিছু চূড়ান্ত করা হবে। এর আগে সংলাপে আইন ও বিধি সংস্কার নিয়ে অংশীজনদের অভিমত নেওয়া হবে। জনসংখ্যা, ভোটারসংখ্যা ও প্রশাসনিক অখন্ডতা বিষয়ে প্রাধান্য দিয়ে সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে কমিশন একমত হয়েছে বলেও তিনি জানান। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে অবিভাজিত রেখে কিংবা রায়পুর উপজেলা এবং তদসংলগ্ন আরো তিন চারটি ইউনিয়ন নিয়ে একটি সংসদীয় আসন নির্বাচন কমিশনের নতুন বিধিমালা মোতাবেক পুনঃনির্ধারিত হতে পারে, যা এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারন নিয়ে লক্ষ্মীপুর (২)আসনের সাবেক সাংসদ ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা  হারুনুর রশীদ বলেন, “এই আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারন এখন জরুরী হয়ে পড়েছে, পুর্বে বশিকপুর কিংবা দক্ষিনে অখন্ড টুমচর, এইসব এলাকার মানুষেরা কখনোই রায়পুরে আসেন না, তাদের সকল ধরনের যোগাযোগ লক্ষ্মীপুর সদর কেন্দ্রীক। তাই আমরা প্রত্যাশা করবো লক্ষ্মীপুর সদরের সাবেক ১, ২, ৩ এবং ৪ নং ইউনিয়ন আর রায়পুরের বর্তমান ১০ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা নিয়ে যেনো লক্ষ্মীপুর(২) রায়পুর আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারন করা হয়। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা নিয়ে আসলে আমরা নতুন আইন অনুযায়ি সীমানা পুনঃনির্ধারনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করবো।