আবারো রায়পুর আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের আবেদন

রায়পুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও প্রথম শ্রেনির পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে সংসদীয় আসন (লক্ষ্মীপুর-২)। অপরদিকে সদরের পৌরসভাসহ ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে সদর উপজেলা তথা সংসদীয় আসন (লক্ষ্মীপুর-৩)। ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করা হলেও মূলত ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে সংসদীয় নির্বাচন করা হয়। এ বৈষম্য দূর করার জন্য গতবছর রায়পুর শহরের দেনায়েতপুর গ্রামের মামুনুর রশীদ নামে এক ছাত্র নেতা আবেদন করলেও নির্বাচন কমিশন তা খারিজ করে দেন। ওই বৈষম্য আবারো দূর করার জন্য বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ-১৮) রায়পুর শহরের পূর্বলাচ গ্রামের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট সালাহ্ উদ্দিন রিগ্যান ও মধ্য কেরোয়া গ্রামের ইয়াসিন আরাফাত রিয়াদ নামে দুই ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে সীমানা পুনঃনির্ধারণের আবেদন জানিয়েছেন।

আরো পড়ুনরায়পুর আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ জরুরী

 সীমানা পরিবর্তন হলে রায়পুরের রাজনীতিতে যে পরিবর্তন হবে

 রায়পুর আসনের সীমানা পরিবর্তন হচ্ছে 

সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট সালাহ্ উদ্দিন রিগ্যান ও ইয়াসিন আরাফাত রিয়াদের আবেদনে জানা যায়, রায়পুরে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসন। কিন্তু রায়পুর থেকে পূর্বে ২০ কি.মি. সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়ন এবং দক্ষিনে ২০ কি.মি. ১৭নং শাকচর ইউনিয়ন পর্যন্ত রায়পুর আসনের ভৈাগলিগ সীমানা। এ অঞ্চলের জনগন কখনোই রায়পুর উপজেলায় কাজের জন্য আসে না। তাদের সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সদর উপজেলা। জেলা সদরের ১০ কি.মি. এর মধ্যে সদর উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর অবস্থান। ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে সদর উপজেলা গঠিত। তারা উপজেলা ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করলেও অন্য দিকে ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে সংসদ নির্বাচন করছে। এতে স্পষ্ট বৈষম্য ও সুবিদাবাদী চাতুর ও প্রবঞ্চনামূলক সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবী করেন। তারা রায়পুর পৌরসভাসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে লক্ষ্মীপুর -২ সংসদীয় আসন সীমানা পূর্ন নির্ধারন করা হলে নির্বাচনি এলাকার জনগনের উন্নয়ন,অগ্রাধীকার সুষম ভাবে এবং জেলা সদরের ইউনিয়নগুলোর উন্নয়ন ও অধিকার সঠিক ভাবে বন্টন হবে বলে দাবী করেন।

উল্লেখ্য গত বুধবার (১৪ মার্চ ২০১৮) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সীমানা পুনঃনির্ধারনে ৬ এর উপধারা (৩) স্পষ্ট বলা আছে যে, প্রতিটি জেলার ২০১৩ সালে নির্ধারিত মোট আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা। প্রশাসনিক ইউনিট বিশেষ করে উপজেলা এবং সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ডের যথাসম্ভব অখন্ডতা বজায় রাখা। ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌর এলাকার ওয়ার্ড একাধিক সংসদীয় আসনে বিভাজন না করা। যে সকল নতুন প্রশাসনিক এলাকা সৃষ্টি হয়েছে বা সম্প্রসারন হয়েছে বা বিলুপ্ত হয়েছে তা অন্তর্ভূক্ত করা। ২০১৩ সালে সীমানা নিধারনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের কারণে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশী ছিটমহল ভারতের নিকট এবং বাংলাদেশস্থ ভারতীয় ছিটমহল বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্ত করায় তা অন্তর্ভূক্ত করা। ভৈাগলিক বৈশিষ্ট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা যথাযথ বিবেচনায় রাখা।