ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে জোরপূর্বক টোল আদায়ে ফারুক বাহিনী

ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে বিআইডাব্লিউটিএ নিয়ন্ত্রিত ইলিশা ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটের টোল আদায়ে সকল কার্যক্রম দখলে নেয় ফারুক বাহিনী ও তার লোকজন। সোমবার ভোররাতে আকস্মিকভাবে তারা ঘাট দখল করে। এ বিষয়ে ভোলা ও বরিশাল বিআইডাব্লিউটিএ অফিসের  কোনো নির্দেশনা ছিল না বলে জানান ইলশা ফেরি ঘাটের কর্মচারীরা। এ ঘাটে বিআইডাব্লিউটিএ’র পন্টুন ও পাশে ফেরিঘাট রয়েছে। সবটাই নিয়ন্ত্রণ করেন বিঅঅইডাব্লিউটিএ’র কর্মচারীরা। তারা বলেন গত এক মাস আগে ভোলার বাসিন্দা মো: সিরাজ মিয়া এক মাসের টোল আদায়ের ইজারা নেন।

ওই ঘাটের টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা বিআইডাব্লিউটিএ’র কর্মচারী মাসুদ হোসেন খান বলেন, ‘অফিসের নির্দেশে গত ২৮ মার্চ থেকে তারা এ ঘাটে অস্থান নেন। প্রতিদিনের ন্যায় তারা সরকারি নিয়মে যাত্রীপ্রতি তিন টাকা হারে টার্মিনাল প্রবেশ টিকেট আদায় করছিলেন। এতে ফারুক বাহিনীর লোকজন বাধা দেয়। আমাদেরকে কোনো প্রকার টোল আদায় করতে দিচ্ছে না। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

মাসুদ হোসেন জানান, যেখানে লঞ্চ ও সি-ট্রাক ভিড়ছে। যাত্রী ওঠানামা করছে। আবার ৫০ ফুটের মধ্যে ফেরিঘাটে বিআইডাব্লিউটিএ’র স্টাফ অফিস রয়েছে। রয়েছে পন্টুনযুক্ত ছাত্রী ছাউনি। সেখানে সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিআইডাব্লিউটিসির তিনটি ফেরির সাহায্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লাগামী যাত্রীবাহী বাস মালবাহী ট্রাক পারাপার করা হচ্ছে। গত দুই ঈদের আগে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান , বিআইডাব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ও বিআইডাব্লিটিসি’র চেয়ারম্যানকে নিয়ে এই ঘাট পরিদর্শন করেন। এ নিয়ে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিআইডাব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভোলার ইলিশা ঘাট কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। ওই ঘাট ইজারা না হওয়ায় আমাদের স্টাফরা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি জানান, ফারুক বেপারী বা আলমগীরকে ওই ঘাট ইজারা দেওয়া হয়নি। তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন সারা বাংলাদেশের আইন আর ভোলার আইন এক নয়। একজন লোক সন্ত্রাসী কায়দায় নৌপুলিশ ফাঁড়ির কাছে কীভাবে সরকারের কর্মচারীকে উঠিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ব্যাহত করছে। তারা ঘাটে এসে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

অপরদিকে, ফারুক বাহিনীর প্রধান ফারুক বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এ ঘাটের ডাক দেয়। এ ঘাট ডাক দেওয়া নিয়ে বিআইডাব্লিউটিএ’র সঙ্গে  ২০০২ সাল থেকে মহামান্য হাইকোর্টে মামলা চলমান। এ মামলার স্টে ওয়ার্ডারের ওপর বিআইডাব্লিউটিএ’র সুপ্রিম কোর্টের আবেদন খারিজ করে দেন। বিভাগীয় কমিশনারের ডাককৃত ঘাটে বিআইডাব্লিউটিএ যেন ঘাট ডাক না দেয় তা স্টে করে দেন। বিআইডাব্লিউটিএ এ ঘাট ইজারা দিতে পারবে না। যদি বিআইডাব্লিউটিএ কোনো পেপারস দেখাতে পারে তাহলে আমি তা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেবো।’

ভোলা সদর থানার ওসি ছগির মিয়া বলেন,এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অপরদিকে,  বিআইডাব্লিউটিএ’র অ্যাসিস্ট্যান্ট পোর্ট অফিসার রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘আমরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য এসেছি। ওসি বলেন ডিসি ও এসপির নির্দেশনা পেলে আমি মামলা নেওয়া ও ঘাট উদ্ধার করে দেওয়া হবে।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাকসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, ‘ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট দখলের বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেনি। ওই  অধিদপ্তর থেকে কোনো সহোযোগিতা চাওয়া হলে সর্বাত্মক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা জানায়, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের সদস্য আলমগীর হোসেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর থেকে পারাপারের ডাক এনেছেন এমন দাবি করে তার ভগ্নিপতি ফারুক বেপারী ইলিশা লঞ্চঘাট দখল নিয়ে টোল আদায় করতে গেলে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়। সংবাদ উৎস কালের কন্ঠ