লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং সদর ইউএনওকে তলব করেছে হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে জেলার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন শরীফকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাসের সাজা দেওয়ার ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে সাজা প্রদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে লক্ষীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে তলব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন ও হাসান এম এস আজিম। আগামী ১৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় তাদেরকে স্বশরীরে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসন পরিচালিত শহরের কাকলি স্কুলের প্রবেশ পথে আগে-পরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের বড় ছেলে মিনহাজের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় ডা. সালাহ উদ্দিন এগিয়ে এসে পরিচয় জানতে চান। কিন্তু এডিসি পরিচয় না দিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।

পরে পুলিশ ডেকে ডাক্তারকে আটক করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় সালাহ উদ্দিন শরীফকে। খবর পেয়ে জেলায় কর্মরত চিকিৎসকরা ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছুটে যান। বিক্ষুব্ধ অবস্থায় চিকিৎসকরা প্রশাসনের সব সেবা কার্যক্রম ও সব হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ রাখার হুমকি দিয়ে ওই চিকিৎসকের মুক্তি দাবি করেন। জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগমের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তারা। বৈঠকে চিকিৎসকরা তড়িঘড়ি করে সাজা দেওয়ার বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক আপিল করলে সহযোগিতার আশ্বাস দেন চিকিৎসকদের।

মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক মীর শওকত হোসেন ৫ হাজার টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন। দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে কারাগার থেকে স্থানীয় চিকিৎসকরা তাকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে আরো খবর:

২৪ ঘন্টাপর মুক্তি পেলেন লক্ষ্মীপুরের ডাক্তার সালাহ উদ্দিন শরীফ

লক্ষ্মীপুরে ডাক্তার ডাঃ সালাহ উদ্দিন শরীফকে তিন মাসের কারাদন্ড