রামগতি উপজেলা নির্বাচন এখন হেভিওয়েটদের অস্তিত্বের লড়াই

সারোয়ার মিরন: ভোটের বাকী দু দিন। এর মধ্যে বেশ চতুর্মুখী লড়াইয়ে জমে উঠেছে রামগতি উপজেলা নির্বাচন। যোগ হয়েছে বর্তমান ও সাবেক এমপিদের মনস্তাত্বিক লড়াই। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসছে ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা নির্বাচন। বর্তমান সরকার দলীয় এমপি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ অবশেষে সমর্থন দিতে বাধ্য হলেন নিজ দলীয় প্রার্থী আবদুল ওয়াহেদকে। করছেন একাধিক গন সংযোগও। ১৯ দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে সমর্থন দিচ্ছেন সাবেক এমপি এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। কাজ করছে পূর্র্নাঙ্গ সাংগঠিক বিএনপি ও অংগ সংগঠনসমূহ। সাথে আছে জামায়াতের পূর্নাঙ্গ সাপোর্ট এবং ভোট ব্যাংক। অন্য দিকে সাবেক মেয়র আজাদ উদ্দিন চৌধুরীও চালাচ্ছেন জোর প্রচারনা। সাংগঠনিক আওয়ামীলীগ এর বেশ কয়েকজন তাকে সমর্থন দিলেও প্রচারনায় নেই সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাছেরসহ বেশ কয়েকজন নেতা। অপর প্রার্থী শরাফ উদ্দিন সোহেল আজাদ নিজেকে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক বলে পরিচয় দিয়ে জোর প্রচারনা চালাচ্ছেন। সাথে আছে স্বেচ্ছাসেবক দল রামগতি উপজেলা শাখা তথা শফিউল বারী বাবুর পুরোপুরি সমর্থন।

উপজেলা নির্বাচন হলেও তিন হেভিওয়েট এটিকে নিয়েছেন অস্তিত্ব ও ইমেজ উদ্বারের প্রচেষ্টা হিসেবে। রামগতিতে এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এর রাজনৈতিক শক্তি জিইয়ে রাখা এবং শফিউল বারী বাবুর সাথে চলমান অদৃশ্য লড়াইয়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে তার মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন কে বিজয়ী করা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তিনি। তার প্রার্থীকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে রামগতিতে তার গ্রহনযোগ্যতা প্রমান করতে ততপর রয়েছেন তিনি। জানা গেছে ভোটের দু তিন দিন আগেই মাঠে নামবেন তিনি। প্রচারনা ও পথ সভায় যোগ দেবেন বলে বেশ কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করছে।

অন্যদিকে কমলনগরে নিজ দলীয় প্রার্থী অপ্রত্যাশিত পরাজয়ে যথেষ্ট চাপে আছেন বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ আবদুল্লাহ আল মামুন। তাই এ উপজেলা নির্বাচনে আবদুল ওয়াহেদ কে জয়ী করার জন্য গতো কয়েকদিন চষে বেড়াচ্ছেন রামগতি উপজেলার বিস্তৃর্ন জনপদ। যোগ দিচ্ছেন একাধিক পথসভায়ও। আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করার মাধ্যমে নিজের বদনাম কিছুটা হলেও ঘোছাতে চান নব নির্বাচিত এ সাংসদ। উল্লেখ্য উপজেলা নির্বাচনের শিড়িউল ঘোষনার পরে বর্তমান এমপি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শরাফ উদ্দিন সোহেল আজাদকে প্রত্যক্ষ ভাবে সমর্থন করে আসছিলেন বলে জানা গেছে। অবশ্য বর্তমানে তিনি আবদুল ওয়াহেদ কে সমর্থন করে একাধিক পথসভায় যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

শরাফ উদ্দিন সোহেল আজাদ কে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করার দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপি। কিন্তু শরাফ উদ্দিন সোহেল দাবি করেন তাকে বহিষ্কার করার এখতিয়ার জেলা কমিটির নেই বলে দাবি করেছেন একাধিক বার। নির্বাচনী প্রচারনায় তিনি এখনো বিএনপি পরিবারের বলে দাবি করেন। এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে নৈতিক ভাবে পরাজয় করানোর জন্য ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু প্রত্যক্ষ সমর্থন করছেন শরাফ উদ্দিন সোহেলকে। এবং সোহেলের হয়ে নির্বাচনী প্রচারনা ও কাজ করার জন্য মৌখিক ভাবে নেতা কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে কর্মীদের থেকে জানা গেছে। রামগতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এর প্রমানও পাওয়া গেছে। সোহেল এর একাধিক মিছিল মিটিং এবং প্রচারনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদের দেখা গেছে।

ভবিষ্যত সংসদ নির্বাচনে মনোয়নে নিজেকে জাহির করতে আগ থেকেই দ্বন্ধে আছে বিএনপির সাবেক এমপি এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠিনক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু। অন্য দিকে আওয়ামীলীগ তথা রামগতির রাজনীতিতে নিজের গ্রহনযোগ্যতা প্রমানে বদ্ধ পরিকর সাংসদ আবদুল্লাহ আল মামুন। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মনোনীত বলে দাবিদার আজাদ উদ্দিন চৌধুরীও লড়াইয়ে আছেন চেয়ারম্যান পদে।

চতুর্মুখী লড়াই এবং ভিআইপিদের ইমেজ এবং অস্তিত্ব রক্ষার মনস্তাত্বিক লড়াইয়ে কে সফল হন তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে একত্রিশ মার্চ পর্যন্ত।