রামগতিতে প্রণোদনার ধানবীজে বিপাকে কৃষক

ধান-রামগতিশাহাজান তালাশি : রামগতিতে আউশ প্রণোদনার বীজে ফলন দেরিতে হওয়ায় পাঁচ শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শুধু বিআর-৩ জাতের ধানের ক্ষেত্রে এ বিপর্যয় ঘটেছে। গত এপ্রিল মাসে কৃষি বিভাগ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন সংস্থার এই বীজ কৃষকদের দেয়।
কৃষকেরা জানান, প্রণোদনার বীজে ফলন দেরিতে হওয়ার কারণে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে আমন ধান রোপণ করতে পারেননি। এতে তাঁরা আমনের আবাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আবার আমনের মৌসুম শুরু হওয়ার পরও শিষ বের না হওয়ায় কাঁচা আউশ ধান কেটে ফেলে আমন আবাদ করেছেন। এতে তাঁরা আউশ ফসল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একই সঙ্গে আবাদের খরচও বিফলে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে উপজেলার এক হাজার ২৭৫ জন কৃষককে উচ্চফলনশীল বিআর-৩, বিআর-১৪, বিআর-১৬, বিআর-২১, ব্রি ধান-২৭ ও আফ্রিকান নেরিকা জাতের আউশ ধানের বীজ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচ কেজি করে বিআর-৩ জাতের বীজধান পান ৫৬০ জন কৃষক। প্রায় ১৮৫ একর জমিতে ওই বীজধান (বিআর-৩) রোপণ করা হয়। ফলন দেরিতে হওয়ায় তাঁরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

রামগতি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরসীতা এলাকার কৃষক বাহার উদ্দিন জানান, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তিনি উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে বিআর-৩ জাতের পাঁচ কেজি আউশ ধানের বীজ পান। এরপর এই মাসের (এপ্রিল) তৃতীয় সপ্তাহে এক বিঘা জমিতে তিনি ওই বীজ রোপণ করেন। জুলাই-আগস্ট মাসে আমনের মৌসুম শুরু হওয়ার পরও তাতে (আউশ ধানে) শিষ বের না হওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তিনি ওই কাঁচা ধান কেটে ফেলেন। এতে তিনি আউশ ঘরে তুলতে পারেননি। এই ধান আবাদ করে তাঁর লোকসান হয়েছে। এই এলাকার কৃষক লাতু মিয়া, নুরুল আমিন, মুক্তার হোসেন ও প্রমোজ চন্দ্র দাসও প্রণোদনার বিআর-৩ জাতের ধান চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বড়খেরি গ্রামের কৃষক মো. ফরহাদ জানান, রবি মৌসুমে সয়াবিন চাষ শেষে সাধারণত তাঁরা এপ্রিল মাসে স্বল্পমেয়াদি (জীবনকালের) আউশ ধান রোপণ করেন। জুলাই মাসেই সে ধান কেটে আমন আবাদ করা যায়। কিন্তু বিআর-৩ জাতের আউশ ধান পাকতে চার থেকে পাঁচ মাস লেগে যায়। এ কারণে বিআর-৩ আবাদ করে এ অঞ্চলে আমন চাষ করার সুযোগ থাকে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানা থাকার পরও কৃষি বিভাগ বিআর-৩ জাতের আউশ ধানের বীজ এ অঞ্চলে চাষ করার জন্য প্রণোদনা দিয়ে কৃষকের ক্ষতি করেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুছ ছোবহান জানান, বিএডিসির বীজ বাজারজাতকরণ বিভাগের নোয়াখালী আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এপ্রিলে সরবরাহ করা বীজ রোপণ করতে অনেক কৃষক দেরি করেছেন। কেউ কেউ এপ্রিলের শেষে অথবা মে মাসের প্রথম দিকে রোপণ করায় ফলন পেতে দেরি হয়েছে। বিআর-৩ জাতের আউশ ধানের ফলন পেতে চার মাসের কিছু বেশি সময় লাগে।

বিএডিসির বীজ বাজারজাতকরণ বিভাগের নোয়াখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক রুহুল আমিন জানান, কোন এলাকায় কোন জাতের বীজ কতটুকু সরবরাহ করতে হবে, তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকেই ঠিক করে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে তাঁদের কোনো করণীয় থাকে না। তবে ভবিষ্যতে যাতে এ অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জীবনকালের আউশ ধানের বীজ বরাদ্দ দেওয়া না হয়, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
সৌজন্য : প্রথমআলো