লক্ষ্মীপুরের কুলাঙ্গার রুবেল কে ধরিয়ে দিতে ডা. ইমরান এইচ সরকারের বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ি লক্ষ্মীপুরের শিশু নুশরাত ধর্ষণ ও হত্যাকারী কুলাঙ্গার মোঃ রুবেল হোসেন কে রবিবার বিকেলে খুলনা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিস্তারিত পরে জানানো হবে। এর আগে দেশব্যাপী আলোচিত এ ঘটনায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি লিখেছেন,

লক্ষীপুরে ৮ বছরের শিশু নুসরাতকে ধর্ষণের পর হত্যা করে রুবেল নামের এই পাষণ্ড। এখনো পলাতক রয়েছে এই নরপশু। এই কুলাঙ্গারকে যেখানেই দেখবেন পুলিশের হাতে তুলে দিন। দ্রুত শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন এই ছবি। – কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ, ডিএমপি

 রুবেলের পরিচয় ? 

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম নোয়াগাঁও কালা মেস্ত্রী বাড়ীর মোঃ সিরাজ মিয়ার ছেলে মোঃ রুবেল হোসেন। এক ভাই দুই বোনদের মধ্যে ছোট। সর্ম্পকে শিশু নুশরাতের চাচা হয় সে। রামগঞ্জ সরকারী কলেজে আই এ পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে সে। ইয়াবা সেবন, নারী আশক্তি এবং অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বরিশাল ও খুলনাসহ একাধিক স্থানে বিয়ে করেছে। পাশের বাড়ীর একটি গরীব মেয়ের সাথে অপ্রীতিকর অবস্থায় ধরা পড়ে। খুলনাতে বছর দুয়েক পূর্বে ও ধর্ষণের ঘটনায় তার মা  ১ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হয়।

অজ্ঞাত আয়ের সূত্র ধরে ঢাকার সদরঘাঁট হকার্স মার্কেটে শাহ আলম বস্ত্রালয় নামের দুইটি পাইকারী তৈরি পোশাকের মালিক। অঢেল সম্পদ রয়েছে খুলনায়। অল্পদিনেই ব্যবসা করে হয়েছেন কোটি টাকার মালিক। ব্যবসায়ী হলেও চরিত্র বদলাতে পারেনি। এলাকায় আসলে বন্ধুদের নিয়ে মাদক ও ইয়াবা সেবনের আসর বসাতো প্রায়ই।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে চলে আসতো গ্রামের বাড়ীতে। সারারাত চলতো মাদক সেবনের আড্ডা ও অশ্লীল আয়োজন। বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও এলাকার সরকারীদলের নেতাকর্মীদের সাথে ছিলো সখ্যতা। স্থানীয় লোকজনও প্রভাব ও টাকার কাছে ছিলো এক প্রকার জিম্মি।

ঘটনার আগেরদিন বৃহস্পতিবার (২২মার্চ) রাতেও রুবেলের বাড়ীতে মাদকের আসর বসে। পরদিন ২৩ মার্চ শুক্রবার দুুপুর থেকে নুশরাত জাহান নিশু নিখোঁজ হয়। থানায় জিডি করা হলেও ২৬মার্চ পর্যন্ত পুলিশ নুশরাতের কোন হদিস পায়নি।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন সকাল ১১টায় উপজেলার ১নম্বর কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া গ্রামের ঠাকুর বাড়ীর সামনের ব্রীজের নিছ থেকে শিশু নুশরাতের অর্ধগলিত ব্যাগ ও বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐদিন রাতেই ময়নাতদন্ত শেষে শিশু নুশরাতের লাশ দাফন করা হয় নিজ বাড়ীর পারিবারিক কবরস্থানে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক ডাক্তার আনোয়ার হোসেন  জানান, শিশু নুশরাতকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরদিন নুশরাতের মা রেহানা বেগম রামগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলা ও লাশের সাথে উদ্ধার হওয়া ব্যাগের সূত্র ধরে তদন্ত চালায়। তদন্তের এক পর্যায়ে বের হয়ে আসে মুল ঘটনা।