লোডশেডিং: রায়পুরে বোরোর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা

লক্ষ্মীপুর : রায়পুরে উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো ক্ষেতে পানি দিতে পারছেন না কৃষকেরা। এ কারণে এবার বোরো ধানের ভালো ফলন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তারা। জানা যায়, উপজেলার হায়দরগঞ্জ, চরবংশী, চরমোহনা, চরপাতা, বামনী, করোয়া ও চরআবাবিল আংশিক এলাকায় গত এক মাস ধরে ঘন ঘন লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুতের অভাবে স্থানীয় কৃষকেরা বোরো ক্ষেতে সময় মতো পানি দিতে পারছেন না।

এসব এলাকার কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত মাসে দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেলেও এখন বিদ্যুৎ থাকে মাত্র পাঁচ-ছয় ঘণ্টা। এতে এবারের বোরোর ফলন ভালো হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ডিজেল চালিত সেচযন্ত্রের মাধ্যমে পানি দিতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও জানান তারা।

প্রধান সড়কের ব্যবসায়ী নিপুসহ কয়েকজন জানান, বিষয়টি জনপ্রতিনিধিরা পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। তারা বরং নানা অজুহাতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া সংযোগ মেরামতের নামে প্রায়ই মাইকে ঘোষণা দিয়ে সকাল-সন্ধ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা যায়, রায়পুর উপজেলার পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন মিলে ৫৬০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। আর গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। কয়েকদিন আগে দু’বারের ঝড়ে অনেক এলাকায় ২-৩ দিন বিদ্যুৎ ছিল না।

বামনী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সালেহ আহাম্মদ বলেন, কয়েকজন কৃষক তার কাছে আন্দোলন হুমকি দিয়েছেন। তাই তিনি পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের সাথে কথা বলেছেন। কিন্তু তারা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন সালেহ আহাম্মদ।

এ ব্যাপারে রায়পুর পল্লী বিদ্যুত অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানাজার (ডিজিএম) মাহফুজুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. একেএম শামীম আলম বলেন, চলতি মৌসুমে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। দিনের বেলায় লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষকেরা বোরো ক্ষেতে পানি দিতে পারছেন না। তাই ডিজেল চালিত পাম্প দিয়ে পানির ব্যবস্থা করতে কৃষকদের বলা হয়েছে। এতে উৎপাদন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।