লক্ষ্মীপুরে রাতারাতি বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাতারাতি বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করেই সারাদেশের সাথে লক্ষ্মীপুরবাসিও শুরু করলো সিয়াম সাধনা। কারণ মাত্র  এক রাতের ব্যবধানে লক্ষ্মীপুরে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম । অথচ বিভিন্ন মিডিয়া সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়সরকারিভাবে  রমযান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চাহিদার অতিরিক্ত আমদানি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাজারগুলোতে বুধবার (১৬ মে) এর তুলনায় বৃহস্পতিবার (১৭ মে) চাল, পেঁয়াজ, আলু, মুড়ি, ছোলা, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশকিছু পণ্যের দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে গেছে। জেলা বাজার অনুসন্ধানকারীর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৪৫টি পণ্যদ্রব্যের মধ্যে গত মাসের বাজার দরের চেয়ে বর্তমানে ১৫টি পণ্যের বাজার দর বেড়েছে।

এর মধ্যে চাউল মাঝারী প্রতিকেজি ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, চাউল মোটা প্রতিকেজি ৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ৪২ টাকা, মুড়ি মোটা প্রতিকেজি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা, মুড়ি চিকন প্রতিকেজি ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, মুগ ডাল (বিদেশী) প্রতিকেজি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১০ টাকা, পেঁয়াজ প্রতিকেজি ২৪ টাকা থেকে বেড়ে ৩২ টাকা, রসুন (বিদেশী) প্রতিকেজি ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ টাকা, আদা (বিদেশী) প্রতিকেজি ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১১০ টাকা, মুরগী (দেশী) প্রতিকেজি ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০০ টাকা, মুরগী (ব্রয়লার) প্রতিকেজি ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রতিকেজি ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, গোল আলু প্রতিকেজি ১৫ টাকা থেকে বেড়ে ২২ টাকা, বেগুন প্রতিকেজি ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে প্রতিকেজি ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, শসা প্রতিকেজি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, টমেটো প্রতিকেজি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর শহরের কয়েকটি পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ থাকলেও চাউল, মুড়ি, ছোলা, ডালজাতীয় পণ্য (মসুর, মুগ, এ্যাংকার), ভোজ্যতেল, চিনি, আলু, মরিচ, বেগুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিকেজিতে ১০-২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে চাউল মোটা প্রতিকেজি ৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮ টাকা, মুড়ি মোটা প্রতিকেজি ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকা, ছোলা ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, মুগ ডাল ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা, সয়াবিন তৈল ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১১০ টাকা, পেঁয়াজ ২৪ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা, চিনি ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সবজির মূল্যবৃদ্ধিতে নাভি:শ্বাস উঠেছে ভোক্তাদের। প্রতিকেজি হারে বিক্রি হচ্ছে বেগুন ৬০-৭০ টাকা, পেঁপে ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ৫০-৬০ টাকা, করলা ৪০-৫০ টাকা, ধুন্দল ৪০-৫০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার দর বৃদ্ধির ব্যাপারে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী শওকত আলী জানান, অতিবৃষ্টির কারণে বাজার অস্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহণে ভাড়া বৃদ্ধিসহ নানা ভোগান্তির কারণে পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। জেলা শহরের কাঁচাবাজারে সাইদুল হোসেন নামের এক ক্রেতা জানান, রমযান উপলক্ষে বাজার করতে এসেছি। কিন্তু প্রতিটি পণ্যের দাম হাতের নাগালের বাহিরে রয়েছে। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার ও মজুদদার সিন্ডিকেটদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে জিনিসপত্রের দাম কিছুটা হলেও কমবে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা বাজার অনুসন্ধানকারী মোঃ মনির হোসেন জানান, নিত্যপয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালে রাখতে জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং চলছে। এছাড়া পাইকারি আড়তদাররা যাতে পণ্য মজুদ করে দাম বাড়াতে না পারে সেদিকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।