লক্ষ্মীপুরে এএসআই জলিলের বুকে বিদ্ধ গুলিটি কার?

10685370_1496664140585790_8974749070936898499_nনিজস্ব প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানা কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে চা দোকানে গত বৃহস্পতিবার রাতে গুলিতে নিহত হন পুলিশের এএসআই (সশস্ত্র) আবদুল জলিল। নিজের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও গত শুক্রবার লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার দাবি করেন জলিলকে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই সময়ে শুধুমাত্র কয়েকজন পুলিশ উপস্থিত ছিলেন সেখানে। সে কারণে এএসআই বুকে বিদ্ধ হওয়া গুলিটি কার তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেছেন, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট না দেয়া পর্যন্ত সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না। এদিকে গত শুক্রবার রাতে থানার এসআই জহিরুল হক হত্যা মামলা দিয়েছেন।
রায়পুর থানার ওসি (তদন্ত) সোলেমান চৌধুরী জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ লাইনের এএসআই আবদুল জলিলের প্লাটুনে ১৩ জন সদস্য ছিলেন। গুলিবিদ্ধের ঘটনার সময় চায়ের দোকানে তার সামনে রায়পুর থানার এসআই জহিরুল হক, পুলিশ লাইনের এএসআই হুমায়ন, ডিবির এএসআই মাহে আলমসহ ৫-৬ জন পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ওই দোকানের আশপাশে ৪০-৪৫ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। জলিলের ব্যবহৃত এসএমজি অস্ত্রে ৩০ রাউন্ড গুলি থাকলেও তা অক্ষত রয়েছে।
ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা গেছে, তিনি শর্ট গানের গুলিতে নিহত হয়েছেন। অন্যদিক ঘটনার রাতে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে অবরোধ ও নাশকতা সৃষ্টিকারীরা পুলিশের একটি ভ্যান ভাঙচুর করায় রায়পুর, চন্দ্রগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর থানা ও ডিবি পুলিশ ৮৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
চা দোকানদার দেলোয়ার হোসেন দেলু জানান, ঘটনার সময় তার দোকান ও আশপাশ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। দোকানের একটি বেঞ্চে বসে ছিলেন জলিল ও অপর এক পুলিশ। পাশের বেঞ্চে ছিলেন পুলিশের এএসআই হুমায়ন, এসআই জহিরুল হকসহ কয়েকজন পুলিশ। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় নিজ গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন বলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে গাড়িতে তুলে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী নিজের গুলিতে এএসআই আবদুল জলিল নিহত হননি সেটা নিশ্চিত। তবে গুলির ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত রয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্তে পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততা না পেলে নিশ্চিত করে বলা যাবে এটা সন্ত্রাসীদের গুলি।

সূত্র: মানবকন্ঠ