রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কার কাজে অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়পুর: লক্ষ্মীপুরে রায়পুর উপজেলার ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ২৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সংস্কার কাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ এনে ডাক্তাররা ও কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে (১২ এপ্রিল) জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সরজমিনে পরিদর্শনে এসে সিডিউল অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশনা দিয়ে যান।

হাসপাতাল ও কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে টেন্ডারের মাধ্যমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনের ২৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সংস্কার কাজ পান লক্ষ্মীপুরের এসবি কনস্ট্রাকশনের মালিক ঠিকাদার মোঃ মাছুম। গত ১৫ ফেব্রুয়ারী থেকে ওই ঠিকাদার হাসপাতালের ভর্তিরত মহিলা ও পুরুষদের কক্ষে টাইল্স লাগানো, জল ছাদ, নতুন করে গিরিল, ইলেকট্রনিক, দরজা-জানালা, ফ্যান ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে এসি লাগানোসহ ১০টি আইটেমের কাজ করা হচ্ছে। এপ্রিল মাসেই কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকৌশলীদের যথাযথ তদরকী না থাকায় ঠিকাদার অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয়ে কাজ করছেন।
হাসপাতালের এক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, কয়েক বছর ধরে সরকারি এ হাসপাতালটিতে ডাক্তার ও নার্সদের চরম সংকট রয়েছে। অপরদিকে যে কয়েকজন ডাক্তার আছেন, তারা তো সেবা দেনই না বরং রোগীদের সঠিক সেবার বদলে কর্মকর্তার কক্ষে এসি লাগানো হচ্ছে। এটি তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। অন্যদিকে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামত অনিয়ম করে সংস্কার কাজ করছেন। কে দেখবেন……?

সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার মোঃ মাছুম বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেন্ডার ও যুবলীগ নেতা মোঃ বাপ্পি লাইসেন্সে এ কাজ পান ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আ’লীগ নেতা মোঃ রুবেল। তার কাছ থেকে কিনে নিয়ে রায়পুর সরকারি হাসপাতালের সংস্কার কাজ করছি। সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সায়েলা জাহানের অসহযোগীতার কারনে কাজটি শুরু করতে দেরি হয়েছে। তবে এ কাজে কোন অনিয়ম ও দুর্নীতি হচেছ না এবং শতভাগ সঠিক কাজ হচেছ বলে দাবী করেন।
সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার মোঃ বাহারুল জানান, হাসপাতালের গুনগত কাজের মান নিয়ে কোন কথা বলা যাবেনা। বলতে গেলে আমাদের নানান প্রতিবন্ধকথা সৃষ্টি করা হয়। আমরা কিছুই বলতে পারছিনা।

পৌরসভার মেয়র হাজী ইসমাইল খোকন বলেন, হাসপাতালের সংস্কার কাজ নিয়ে আমার কাছেও অভিযোগ এসেছে। সময় কারণে হাসপাতালটি পরিদর্শন করতে পারছিনা। কয়েকদিনের মধ্যে আইন শৃংঙ্খলা মিটিংয়ে হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে কথা বলবো।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এনায়েত উল্যা বলেন, রায়পুর সরকারি হাসপাতালের পূর্ব পাশের ৮লাখ টাকার সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় তার ঠিকাদারের বিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন ২৯ লাখ টাকা ব্যায়ে সংস্কার এ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় সরেজমিনে এসে ঠিকাদারকে সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত উপ সহকারি প্রকৌশলী মোঃ সাইফুল ইসলামকে তদারকীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।