রায়পুরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে

রায়পুর প্রতিনিধিঃ রায়পুরে উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের ৩৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০ জনের নামে হত্যার চেষ্টা, ভাংচুর লুটপাটের অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে (৩ এপ্রিল) চরআবাবিল ইউনিয়নের উদমারা গ্রামের হাজি আমিন উল্যা বেপারীর ছেলে জসিম উদ্দিন নামে এক আ’লীগ কর্মী এ মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেফতার এড়াতে ওই গ্রামের বিএনপি-জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

মামলার এজাহার সুত্রে জানাযায়, ৩১ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিন ও রাতে ৯নং চর আবাবিল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কেন্দ্র দখল, হামলা সংঘর্ষের ঘটনায় আ’লীগ ও জামায়াতের ১২ নেতাকর্মী আহত হয়। এসময় অন্য নেতাকর্মীরা উদ্ধার করে আহত আ’লীগ কর্মী হুমায়ুন কবির, সালাউদ্দিন, জসিম উদ্দিন, আবু ইউছুফ, ও সালাউদ্দিন বেপারীসহ ৯জনকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এঘটনায় আহত জসিম উদ্দিন বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি-জামায়াতের ৩৫ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরো ১০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

উদমারা গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসি জানান, আ’লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থি মাস্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদারকে জয় করার লক্ষে যুবলীগের নামধারী স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কেন্দ্র দখলে নিয়ে বিএনপি জামাত প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়। এঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও আ’লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে চর আবাবিল ইউনিয়নের প্রায় কেন্দে সংঘর্ষ হয়। নির্বাচনের পর ক্ষুব্দ আ’লীগ নেতাকর্মীরা বেছে বেছে উদমারা গ্রামের জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালাচ্ছে। এখন উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানী করার ফলে নেতাকর্মীরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

রায়পুর থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) নাসিরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, আ’লীগ কর্মী জসিম উদ্দিনের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য- নির্বাচনের দিন সোমবার ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাত পর্যন্ত চরআবাবিল ইউনিয়নের উদমারা গ্রামের জামায়াতের ২টি বাড়ির ৮টি বসত ঘর এবং হায়দরগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসের ১২টি কক্ষ ও তার পাশের এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা।